ইউনিসেফ: পাইলটকৃত নতুন পাঠ্যক্রম ১০,০০০ শিশুর কাছে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

শিবিরে স্কুলে উপস্থিতি বাড়াতে আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন

01 মে 2022
A Rohingya refugee child, Cox's Bazar, Bangladesh
UNICEF/UN0581213/Kiron
২০২২ সালের জানুয়ারিতে কক্সবাজারের উখিয়ার একটি শিক্ষা কেন্দ্রে একজন রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু মায়ানমার কারিকুলাম পাইলটের (এমসিপি) অধীনে ক্লাস করছে৷ ২০২১ সালের নভেম্বরে ইউনিসেফ ও পার্টনার কর্তৃক চালু করা মিয়ানমার কারিকুলাম পাইলট, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

কক্সবাজার, ১ মে ২০২২ - বাংলাদেশের কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে বসবাসকারী ১০,০০০ রোহিঙ্গা শিশু নিজ দেশের পাঠ্যক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষা অর্জনের জন্য তালিকাভুক্ত হতে চলছে, যা তাদের শিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী অর্জন। প্রথম ১০,০০০ শিশুর তালিকাভুক্ত হওয়ার এই মাইলফলকটি এ মাসেইঅর্জিত হবে।

২০২১ সালের নভেম্বরে ইউনিসেফ ও পার্টনার কর্তৃক চালু করা মিয়ানমার কারিকুলাম পাইলট (এমসিপি), রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা শিশুদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করবে।

“রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের মধ্যে শিক্ষার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে এবং ইউনিসেফ ও উন্নয়ন অংশীদাররা সেই চাহিদার প্রতি সাড়া দিতে শরণার্থী শিবিরে কাজ করে যাচ্ছে,” বলেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মি. শেলডন ইয়েট।

বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে প্রায় চার লক্ষ স্কুল-বয়সী রোহিঙ্গা শিশু রয়েছে। এদের মধ্যে তিন লাখ শিশু শিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষা গ্রহণ করছে। ইউনিসেফ এবং অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদাররা বিশ্বের বৃহত্তম এই শরণার্থী শিবিরে সুবিশাল এই শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। একাধিক ক্যাম্প জুড়ে ৩,৪০০টি শিক্ষা কেন্দ্র রয়েছে, যার মধ্যে ২,৮০০-টিই ইউনিসেফ সমর্থিত।

এখন পর্যন্ত, বেশিরভাগ শিশুই তথাকথিত “লার্নিং কম্পিটেন্সি ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাপ্রোচ” (এলসিএফএ)-এর আওতায় শিখছে, যা প্রাথমিকভাবে ৪-১৪ বছর বয়সী শিশুদের প্রথম থেকে চতুর্থ গ্রেড সমমানী শিক্ষা নিশ্চিত করছে। এলসিএফএ একটি অনানুষ্ঠানিক পাঠ্যক্রম যা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের জরুরি শিক্ষার প্রয়োজন মিটাতে তৈরি করা হয়েছিল। নতুন পাঠ্যক্রম, যেটা পাইলট ভিত্তিতে চালু করা হচ্ছে, সেটা মিয়ানমারের জাতীয় পাঠ্যক্রমের উপর ভিত্তি করে প্রবর্তিত এবং এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা প্রদান করা হবে। এছাড়াও, মিয়ানমার পাঠ্যক্রমটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমিক শিক্ষার ঘাটতি পূরণ করবে, সাথে সাথে এটা তুলনামূলকভাবে বয়স্ক শিশুদেরও শিক্ষা প্রদান করবে যারা শিক্ষার সুযোগ থেকে অনেকাংশেই বঞ্চিত রয়েছে।

পাইলটকৃত মিয়ানমার শিক্ষাক্রমটি প্রাথমিকভাবে ষষ্ঠ থেকে নবম গ্রেডের ১০,০০০ শিশুকে লক্ষ্য করে চালু করা হচ্ছে। সাধারণত ১১-১৪ বছর বয়সী শিশুরা ষষ্ঠ থেকে নবম গ্রেডের আওতায় পড়ে । তবে বাস্তবে, অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুই শিক্ষায় পিছিয়ে পড়েছে। একারণে ষষ্ঠ থেকে নবম গ্রেডে ভর্তি হওয়া বেশিরভাগ শিশুর বয়স ১৪-১৬ বছর। এদের মধ্যে বয়সের দিক থেকে কেউ কিছুটা ছোট আবার কেউ কিছুটা বড়। ইউনিসেফ-এর উদ্দেশ্য পর্যায়ক্রমে এই পাঠ্যক্রমের বিস্তার ঘটানো, যাতে ২০২৩ সালের মধ্যে সমস্ত শরণার্থী স্কুল-বয়সী শিশুরা মায়ানমার পাঠ্যক্রমের মাধ্যমেই শিক্ষা লাভ করতে পারে।

অনেক অগ্রগতি সত্ত্বেও, প্রায় এক লক্ষ স্কুল-বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু স্কুলে যাচ্ছে না। ইউনিসেফ ও উন্নয়ন অংশীদারেরা এই শিশুদের কাছে পৌঁছাতে এবং তাদের স্কুলে যাওয়ার পথে যেসব প্রতিবন্ধকতা কাজ করে, সেগুলো দূর করতে চেষ্টা করছে। বেসরকারি স্কুল এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক শিক্ষা কেন্দ্র, যেগুলো ছেলে এবং মেয়ে, উভয়ের শিক্ষা চাহিদা পূরণ করে এবং পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়, সেগুলো শিবিরে শিক্ষাগত পরিষেবা প্রদানে ভূমিকা পালন করতে পারে। ইউনিসেফ সকল অংশীজন, যারা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের মানসম্মত, সমতাভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করছে, তাদের সাথে একত্রে কাজ করছে।

“এই শিশুদের আশা দেওয়ার জন্য, তাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য, তাদেরকে অনাগত ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করার জন্য আমাদের যথাসাধ্য করতে হবে। ইউনিসেফ রোহিঙ্গা শরণার্থী সম্প্রদায়, বাংলাদেশ সরকার এবং অংশীদারদের সাথে কাজ চালিয়ে যাবে যতক্ষণ না প্রতিটি শরণার্থী শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দেওয়া সম্ভব না হয়,” মি. ইয়েট বলেন।

###

সম্পাদকের জন্য নোট:

হাই-রেস ছবি ডাউনলোড করুন এখানে

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও কিশোর-কিশোরী, যাদের পরিবার ২০১৭ সালের আগস্টে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে, তাদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সরকারের একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মিয়ানমার কারিকুলাম পাইলট (এমসিপি) প্রবর্তিত হয়।

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

ফারিয়া সেলিম
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801817586096
ই-মেইল: fselim@unicef.org
কুসালি নেলি কুবওয়ালো
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801847327230
ই-মেইল: knkubwalo@unicef.org

ইউনিসেফ সম্পর্কে

বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি।

ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org.

ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram এবং YouTube-এ।