04 ডিসেম্বর 2023

অপুষ্টি: শিশু নূরের গল্প

মাত্র ১৫ মাস বয়সে শিশু নুরকে অনেকের চেয়ে বেশি ধকল সইতে হয়েছে। তার বয়স যখন পাঁচ মাস তখন তার মা অসুস্থ হয়ে মারা যান। এরপর থেকে নূর ও তার ভাইয়ের দেখাশোনা করেন তাদের দাদা সৈয়দ ও দাদী সুবুরা। নুরের বয়স যখন ছয় মাস, সেই সময়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার একটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে একজন পুষ্টি বিষয়ক কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবক কক্সবাজারের কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে…, পুষ্টিজনিত একটি জরুরি অবস্থা, A nutrition counsellor explains to Subura the types of diverse foods that she should feed Nur. পুষ্টি বিষয়ক একজন পরামর্শদাতা সুবুরাকে বিভিন্ন ধরনের খাবারের বিষয়টি বুঝিয়ে বলেন, যা নূরকে তার খাওয়ানো উচিত। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে শিশুদের মাঝে অপুষ্টির হার বেশি। ২০২৩ সালের হিসাব অনুযায়ী ১ , শরণার্থী শিবিরগুলোতে পাঁচ বছরের কম বয়সী ৫৭ হাজার শিশু…, সুস্থতার পথে, Nur is fed a banana by his grandfather Syed in the Early Childhood Care and Development corner of the nutrition facility. পুষ্টি কেন্দ্রের ‘আর্লি চাইল্ডহুড কেয়ার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ কর্নারে নূরকে কলা খাওয়াচ্ছেন তার দাদা সৈয়দ। চিকিৎসা শুরুর নয় মাস পর নূরের স্যাস্থের উন্নতি হতে দেখা গেলে তাকে বহিরাগত রোগীদের থেরাপিউটিক প্রোগ্রাম থেকে ছাড়পত্র দেওয়া…
15 নভেম্বর 2023

ঝড়ের আগে প্রস্তুতি: ঘূর্ণিঝড় হামুন থেকে বেঁচে গেল ৬ বছরের আরিজ

ঘূর্ণিঝড় হামুন বাংলাদেশের কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানে। এর আঘাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে বসবাসরত ৬ বছর বয়সী আরিজ ঝড় শুরু হওয়ার সময় তাদের অস্থায়ী ঘরের বাইরে খেলছিল। এ সময় অনেক জোড়ে একটি ঝড়ো বাতাস বয়ে যায়, যা দেখে সে অভ্যস্ত নয়। আরিজের কাছে ঘটনাটি প্রথমে বেশ মজার মনে হয়েছিল।…, আসন্ন বিপদ, আরিজ না বুঝলেও তার বাবা-মা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন, ঝড় আসছে। ঝড় কী বিপদ নিয়ে আসছে, সে বিষয়েও তাদের ধারণা ছিল। ঘূর্ণিঝড় হামুনের মতো জরুরি পরিস্থিতি দেখা দিলে কী করতে হবে, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে শরণার্থী শিবিরে ইউনিসেফ ও এর অংশীজনদের আয়োজনে নিয়মিত ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি ও সচেতনতা বিষয়ে মহড়া হয়ে থাকে। বাতাসের বেশি গতি বুঝতে পেরে আরিজের মা দ্রুত তাকে ঘরের…, দুর্যোগের আগে প্রস্তুত, কয়েক মিনিটের মধ্যে পরিবারটি তাদের সবচেয়ে কাছাকাছি ইউনিসেফের সহায়তাপুষ্ট শিক্ষা কেন্দ্রে চলে আসে। আরিজ এখানকার প্রথম শ্রেণির (ফার্স্ট গ্রেড) ছাত্র। শিক্ষা কেন্দ্রের কর্মীরা গেট খুলে দেন এবং তাদের থাকার জায়গা প্রস্তুত করতে সহায়তা করেন। পরিবারটি রাতের বাকি সময়টা সেখানে কাটিয়ে দেয়। Ariz and his family the morning after the cyclone, sheltering in a…, তার শিক্ষা কেন্দ্রে ফেরা, আরিজের মতো রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও তাদের পরিবারগুলো খাবার, পানি, স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টি, শিক্ষা ও সুরক্ষার জন্য সম্পূর্ণভাবে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে। তা শুধু এই ঘূর্ণিঝড়ের জরুরি পরিস্থিতিতে নয়, যত দিন পর্যন্ত না তারা নিজ দেশে, নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে পারবে, ততদিন এই অবস্থা চলবে। আরিজের পরিবার এখন তাদের ঘর ঠিক করার জন্য শরণার্থী শিবির…
21 আগস্ট 2023

প্রতিকূলতার মধ্যেও রোহিঙ্গা শরণার্থীরা সৃজনশীল হয়ে ওঠে

একটি মেয়ে একটি স্কুল ব্যাগ তুলে নিয়ে একটি ছোট ঘরের চারপাশে ঘুরতে শুরু করে। সে দেয়ালে অন্য শিশুদের আঁকা কিছু ছবির দিকে তাকায়। ঘরের কোণের ঘড়িটির টিক টিক শব্দের সাথে সাথে যেন তার উদ্বিগ্নতা ও হতাশাও ক্রমশ বাড়ছে । কিন্তু সে এই ঘরের বাইরে যেতে পারবে না। এমন সময় একজন বর্ণনাকারীর কণ্ঠে বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে ওঠে - সোফা একজন মেয়ে, তাই তার বাবা-মা তাকে…, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী রোহিঙ্গা শিশুরা গল্পের চিত্রনাট্য তৈরি, ক্যামেরা চালানো এবং ভিডিও ফুটেজ সম্পাদনা করাসহ চলচ্চিত্র নির্মাণের মৌলিক বিষয়গুলো শিখেছে।, UNICEF/UNI407819/The One Minutes Jr. Rohingya children participating in the workshop learned basics of filmmaking, including scripting a story, operating a camera and editing footage. UNI407819.jpg, কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী রোহিঙ্গা শিশুরা গল্পের চিত্রনাট্য তৈরি, ক্যামেরা চালানো এবং ভিডিও ফুটেজ সম্পাদনা করাসহ চলচ্চিত্র নির্মাণের মৌলিক বিষয়গুলো শিখেছে।, UNICEF/UNI407820/The One Minutes Jr. Rohingya children participating in the workshop learned basics of filmmaking, including scripting a story, operating a camera and editing footage. Rohingya children participating in the workshop learned basics of filmmaking, including scripting a story, operating a camera and editing footage. ১ থেকে ১৩ বছর বয়সী…
20 আগস্ট 2023

রোহিঙ্গা সংকটের ছয় বছর

২০১৭, আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে লাখ লাখ আতঙ্কিত রোহিঙ্গা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। নিজেদের ঘরবাড়ি, সহায়-সম্বল, লোকালয় পেছনে ফেলে অনেকে মাছ ধরার নৌকায় গাদাগাদি করে উঠে বাংলাদেশে চলে আসে। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ তখন তাদের কাছে কোনো বিষয় হয়ে দাঁড়ায়নি। Rohingya children and families Rohingya children and…, ২০১৮, ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে শুরু করে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ নাগাদ আনুমানিক সাত লাখ ২০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে চলে আসে । বিপুল সংখ্যক এই মানুষ আসার কারণে  মানবিক সহায়তার জরুরি প্রয়োজন দেখা দেয় । খালি হাতে আসা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর টিকে থাকার উপায় ছিল সহায়তা হিসেবে পাওয়া পানি, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। দেশান্তরী মানুষের এই ঢলে রোগের প্রাদুর্ভাবের…, কক্সবাজারে ইউনিসেফ-সমর্থিত শিশুবান্ধব স্থানে ছবি-বিনিময়ের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা শিশুরা দেয়ালে আঁকছে।, UNICEF/UN0213498/Sokol Rohingya children learnt at Learning Centre. UN0215019.jpg, রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুরা কক্সবাজারের বালুখালী ক্যাম্পের একটি শিশুবান্ধব জায়গায় খেলছে।, UNICEF/UN0215019/Sokol Rohingya children painted on the wall. Bangladesh Rohingya children learnt at Learning Centre., ২০১৯, জরুরি পরিস্থিতিতে শিশুরা তাদের প্রিয়জন ও ঘর-বাড়ি হারায়। তারা বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্য সেবা ও খাবার পায় না। তারা  নিরাপত্তার অভাবে ভোগে; প্রতিদিন যেন তাদের জন্য এক নতুন যুদ্ধ । শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। শরণার্থী সংকটের শুরু থেকে নতুন আসা লাখ লাখ শিশুকে স্কুলে ভর্তি করাটা ছিল ইউনিসেফ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে এর…, কক্সবাজার জেলার উখিয়ার কোর্ট বাজারের একটি দোকানে একটি মেয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে।, UNICEF/UN0284148/LeMoyne Rohingya adolescent boys attending the vocational training programme. Bangladesh UN0284149.jpg, কক্সবাজার জেলার কোর্ট বাজারের একটি দোকানে কিশোর ছেলেরা কাঠের নকশার কাজ শিখছে।, UNICEF/UN0284149/LeMoyne Rohingya adolescent girls attending vocational training programme. Bangladesh Rohingya adolescent boys attending the vocational training programme. Bangladesh, ২০২০, অনেক রোহিঙ্গা শরণার্থী বাস করত পাতলা বাঁশ ও ত্রিপল দিয়ে তৈরি করা ছাউনির ভেতরে , যেখানে তাদের প্রতিটা দিন কাটত বিপদের আশংকায়। সেখানে সংক্রামক ব্যাধি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও ছিল অনেক বেশি। কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে লোকজন পরিবারগুলোকে নিরাপদ রাখতে অনেক পূর্ব সতর্কতা মেনে চলা শুরু করে, যার মধ্যে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে চলার বিষয়ও ছিল। কিন্তু…, ২০২১, আগে থেকেই বিভিন্ন সমস্যাকবলিত  রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে কোভিড-১৯। মিয়ানমারে থাকার সময় অনেক রোহিঙ্গা শিশু স্কুলে যেতে পারত না। সে কারণে আগে থেকেই  এই শিশুদের শিক্ষার অবস্থা ছিল বেশ শোচনীয়  । দেশজুড়ে কোভিড-১৯ সংক্রমণ বাড়তে থাকায় রোহিঙ্গা শিবিরের শিক্ষা কেন্দ্রগুলো তখনও বন্ধ, সে সময় ইউনিসেফ ঘরেই শিশুদের শিক্ষা চালিয়ে…, ২০২২, এ বছর মে মাসে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ মিয়ানমারের জাতীয় পাঠ্যক্রমে লেখাপড়ার জন্য ১০ হাজার তম শিশু নাম লেখায়। এর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি দেখা যায় যা তাদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার করে। । ইউনিসেফ ও এর অংশীদারেরা ২০২১ সালের শেষ দিকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য মিয়ানমারের পাঠ্যক্রমে লেখাপড়া চালু করে। এটা ছিল…, ২০২৩, রোহিঙ্গা সংকট নতুন বছরে পদার্পণ করার সাথে সাথে, শরণার্থী শিশুরা চেনা-আচেনা বিভিন্ন  চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে থাকে । মার্চে আগুন লেগে হাজার হাজার শরণার্থী গৃহহীন হয়ে পড়ে। দেশ থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১২ হাজার শরণার্থীরা আবারও  গৃহহীন হয়ে পড়ে। In March, thousands of refugees lost their homes as a fire raged. UN0798767.JPG UNICEF/UN0798767/…
22 আগস্ট 2022

মেয়েদের স্থান ক্লাসরুমে: রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলা

বাংলাদেশে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নিজের সন্তানদের সুরক্ষায় রহিমা আক্তার * সবকিছু করতে রাজি। অস্থায়ী এই শিবিরে তারা অপরিচিত লোকজনদের সঙ্গে গাদাগাদি করে বসবাস করে। রহিমা বিশেষ করে তার মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। একসময় তিনি মনে করতেন, ১৪ বছর বয়সী নুরকোলিমাকে * স্কুলে পাঠানোর চেয়ে বাড়িতে রাখাই নিরাপদ। কারণ স্কুলে যেতে দেওয়া হলে সেখানে…, রোহিঙ্গা শরণার্থী মেয়েদের পড়াশোনার ক্ষেত্রে বাধা, ক্যাম্পজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ৩,৪০০টি শিক্ষা কেন্দ্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের শিক্ষা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ২,৮০০টি কেন্দ্র ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত। শিক্ষা কেন্দ্রগুলোতে ইংরেজি, বার্মিজ, গণিত, বিজ্ঞান ও বিভিন্ন জীবন দক্ষতা বিষয়ে শেখানো হয়, এবং এগুলোর চাহিদাও অনেক। ৬ থেকে ১১ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শিশুদের ৮০ শতাংশ এখন শিক্ষা কেন্দ্রে ভর্তি রয়েছে।…, মেয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য সৃজনশীল উপায় , ২০২১ সালের নভেম্বরে ইউনিসেফ ও সহযোগীরা রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশুদের মিয়ানমারের জাতীয় পাঠ্যক্রমের ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক ও মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের জন্য পরীক্ষামূলক একটি প্রকল্প গ্রহণ করে। মিয়ানমার কারিকুলাম পাইলট -এর অংশ হিসেবে ইউনিসেফ শিক্ষাকেন্দ্রে মেয়েদের জন্য আলাদা শ্রেণীকক্ষে পাঠদানে সহায়তা করছে, যেহেতু অনেক রোহিঙ্গা বাবা-মা সহশিক্ষা কার্যক্রম…, কমিউনিটির সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ, স্থায়ী পরিবর্তন নিশ্চিত করতে কমিউনিটির সদস্যদের সম্পৃক্ত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিসেফ মেয়েদের শিক্ষিত করার গুরুত্ব সম্পর্কে কথা বলার জন্য শত শত রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবককে তাদের প্রতিবেশী এবং বন্ধুদের সঙ্গে জড়ো করছে এবং ৩০০ ধর্মীয় নেতাকেও তালিকাভুক্ত করেছে। মেগাফোন হাতে তাদের প্রায়শই ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে হেঁটে হেঁটে একটি বার্তা ছড়িয়ে দিতে দেখা যায়।…