আামাদের সম্পর্কে

প্রতিটি শিশুর জন্য, জীবনের সব প্রয়োজনে

বাংলাদেশে ইউনিসেফ

বাংলাদেশে ১৯৫২ সাল থেকে কাজ করছে ইউনিসেফ। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশে ১৬ কোটি মানুষের বসবাস, যাদের ৪০ শতাংশই শিশু। শিশু বিষয়ক কাজে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে ইউনিসেফ এই উন্নয়নশীল অথচ ঘনবসতিপূর্ণ দেশটিতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তরুণদের সহায়তা দিয়ে থাকে।

বাংলাদেশের আটটি বিভাগীয় ফিল্ড অফিসের মাধ্যমে আমরা এদেশের ৬৪ জেলার মানুষের মাঝে কাজ করে যাচ্ছি।

বাংলাদেশে আমরা লাইফ সাইকল অ্যাপ্রোচে কাজ করি, যেখানে জন্মের পর থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত শিশুরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয় সেগুলো দূর করার চেষ্টা হয়। এ পদ্ধতিতে কয়েকটি বিষয়কে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করা হয়: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিশু সুরক্ষা, পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও পরিচ্ছন্নতা, উন্নয়নের জন্য কমিউনিটিভিত্তিক কার্যক্রম, যোগাযোগ, শিশু অধিকারের পক্ষে কথা বলা, এক্ষেত্রে অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে মিলে কাজ করা এবং জরুরি প্রয়োজনে সাড়া দেওয়া।

ইউনিসেফের পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে।তারাই আমাদের সবচেয়ে বড় অংশীদার, যেহেতু ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে যাত্রা শুরু করেছে সরকার।

শিশুদের উন্নয়নে আমাদের কাজের সফলতা ব্যাপকভাবে নির্ভর করে বিভিন্ন সহযোগী, দাতা, সুশীল সমাজ ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর। ইউনিসেফের মিশন শিশু অধিকার সনদের গভীরে প্রোথিত। এই ঐতিহাসিক চুক্তিই শিশুকে প্রাপ্তবয়স্কদের থেকে পৃথক মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

১৯৮৯ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এই সনদ পাস হওয়ার পর স্বতন্ত্র ও সার্বজনীন হিসেবে শিশুর অধিকার স্বীকৃত হয়। বাংলাদেশ ঠিক পরের বছরই, অর্থাৎ ১৯৯০সালে এই সনদে স্বাক্ষর করে এবং তাতে অনুসমর্থন দেয়।

এরপর ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ইউনিসেফের মধ্যে মৌলিক সহযোগিতা চুক্তি হয়, যাতে সরকারের সঙ্গে কাজের একটি কর্মকাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়।

এই চুক্তির আওতায় ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, লিঙ্গ, ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব শিশুর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে  ইউনিসেফ। এই বৈশ্বিক ভূমিকিাই তারা আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় কর্মীদের মাধ্যমে ১৯০ দেশে পালন করে চলেছে।

বাংলাদেশে ৬০ বছরের বেশি সময় ধরে সেবা দিয়ে চলা ইউনিসেফ এদেশের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হাজার হাজার শরণার্থীকে সহায়তা ছাড়াও বিশ্বের অনেক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের কবলে পড়া বাংলাদেশি শিশুদের কাছে জরুরি ত্রাণ সেবা পৌঁছে দিয়েছে ইউনিসেফ।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের জন্য নিউ ইয়র্কে কনসার্ট আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তুলতে পেরেছিল ইউনিসেফ।