বাংলাদেশে ইউনিসেফ

আমাদের কার্যকাল

১৯৪৯

পূর্ব পাকিস্তানে কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে ব্যাংককে একটি ফিল্ড অফিস চালু করে ইউনিসেফ।

১৯৪৯

দুইজন স্টাফ ও একজন গাড়িচালক নিয়ে ঢাকায় প্রথম কার্যালয় চালু করা হয়।

 

১৯৫০-১৯৭০

যক্ষা (টিবি), গুটি বসন্ত, ম্যালেরিয়া ও কলেরা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে ইউনিসেফ। উন্নততর মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য সেবাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করা হয়। 

এর বাইরে টয়লেট, পানি সরবরাহের উন্নয়ন এবং শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সাধারণ মানুষরে জীবিকা উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়।

১৯৭০

১২ নভেম্বর উপকূলে এক প্রলয়ঙ্কারী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে এবং এতে পাঁচ লাখের মতো মানুষ মারা যায়। আরও ৪৫ লাখ মানুষ তাদের বসতভিটা, বাড়িঘর, মাছ ধরার নৌকা ও পশুসম্পদ হারায়।ইউনিসেফ সে সময় সাড়ে ১১ হাজারের বেশি কূপ মেরামত ও পুনঃনির্মাণ করে এবং এক হাজার টন চাল ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহ করে।

১৯৭১

মুক্তিযুদ্ধের সময় প্রায় এক কোটি মানুষ ভারতে পালিয়ে যায়। তাদের আশ্রয়, খাবার, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি ও রান্নার সরঞ্জামাদি সরবরাহের জন্য ইউনিসেফ কলকাতায় জাতিসংঘের অন্য সংস্থার সঙ্গে কাজ করে। শরণার্থী শিবিরে সাড়ে ছয় লাখ শিশুকে সম্পূরক খাদ্য সরবরাহে সহযোগিতা দেওয়া হয়। ১ আগস্ট নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের জন্য জর্জ হ্যারিসনের কনসার্ট এই মানবিক সংকটের প্রতি বিশ্বের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং তার মাধ্যমে শরণার্থীদের সহায়তায় ইউনিসেফ পরিচালিত কাজের জন্য তহবিল সংগৃহীত হয়। এ ধরনের কনসার্ট এটাই ছিল প্রথম এবং সেটি সমকালীন আরও মানবিক সংকট মোকাবেলায় তহবিল সংগ্রহের আয়োজনের প্রেরণা হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। অ্যালবাম ও ফিল্ম বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ ও যুদ্ধপীড়িত জনগোষ্ঠীর দুর্দশা সম্পর্কে মানুষ জানতে পারার পাশাপাশি ইউনিসেফের জন্য জর্জ হ্যারিসন তহবিলে অর্থ আসতে থাকে। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। তবে যুদ্ধ দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার পাশাপাশি জাতির মনোজগতে একটি গভীর ক্ষত রেখে যায়।

১৯৭২-৭৩

বাংলাদেশে জাতিসংঘের পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে তিন কোটি ২০ লাখ ডলারের সহায়তা দিয়ে ভূমিকা রাখে ইউনিসেফ। শিশুদের জন্য ভিটামিনযুক্ত ও উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ সম্পূরক খাবার সরবরাহ এবং নিরাপদ পানি পাওয়ার উৎস প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে সংস্থার কার্যক্রমগুলো পরিচালিত হয়।

১৯৭৪

বাংলাদেশ ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে যোগ দেয়।

১৯৭৭

সরকার ও ইউনিসেফের যৌথ পরামর্শক গ্রুপের (জেজিইউএজি) অধীনে ইউনিসেফ প্রথমবারের মতো নতুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম শুরু করে।এই গ্রুপ ধারাবাহিকভাবে নারী ও শিশুর পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় উন্নয়ন কর্মসূচি প্রণয়নের পরামর্শ দিয়েছে।

১৯৭৮

ইউনিসেফের তিন লাখ টিউবওয়েল স্থাপন এবং এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রতি ২৫০ জনের জন্য একটি চাপকলের ব্যবস্থা হয়।

১৯৭৯

ইউনিসেফের সহযোগিতায় সরকার ন্যাশনাল ওরাল রিহাইড্রেশন ক্যাম্পেইন শুরু করে।বাংলদেশে উদ্ভাবিত খাবার স্যালাইন প্রথম ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় কলেরা আক্রান্ত শিশুদের দেওয়া হয়। এই ওর‌্যাল রিহাইড্রেশন স্যালাইন (ওআরএস) হল ডায়রিয়ায় সৃষ্ট পানিশূন্যতা পূরণের জন্য সঠিক অনুপাতে পানি, লবণ ও গ্লুকোজের দ্রবণ।

শিশুদের ডায়রিয়া, টিটেনাস, পারটুসিস, যক্ষা, হাম ও পোলিওর টিকা দিতে  ১৯৭৯ সালের ৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়।

১৯৮৪

ইউনিসেফ গ্রামীণ ব্যাংকের ১৬টি সিদ্ধান্ত প্রণয়নে সহযোগিতা করে। এর আওতায়ই দরিদ্র নারীরা সংস্থাটি থেকে ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে নিজের ও সন্তানের যত্ন, ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবব্ধ হয়।

১৯৮৫

ইপিআই কর্মসূচি জোরদারের লক্ষ্যে সরকার এবং দেশি-বিদেশি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ইউনিসেফ। এর ফলে পাঁচ বছরের মধ্যে সময়মতো সব টিকাপ্রাপ্ত ১ বছরের কম বয়সী শিশুর হার ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬২ শতাংশে উন্নীত হয়।

১৯৯০

২৬ জানুয়ারি  শিশু অধিকার সনদ (সিআরসি)  অনুসমর্থন করে বাংলাদেশ।

১৯৯২

মীনা আসে এই বছরে। কাল্পনিক চরিত্র মীনার বয়স নয় বছর। চলচ্চিত্র, বই, পোস্টার ও রেডিও অনুষ্ঠানে শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠার যৌক্তিকতা তুলে ধরে মেয়েটি।

১৯৯৩

ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিকের উপস্থিতি ধরা পড়ে নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগপ্রাপ্তের সংখ্যা অনেক কমে আসে।

সে সময় সব টিউবওয়েল পরীক্ষা এবং আর্সেনিক দূষিতগুলোতে লাল এবং নিরাপদগুলো সবুজ রং লাগিয়ে চিহ্নি করার কাজে সরকারকে সহযোগিতা করে ইউনিসেফ।

১৯৯৫

তৈরি পোশাক কারখানায় শিশুশ্রম দূর করতে ইউনিসেফ ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন গার্মেন্ট মালিকরা।

১৯৯৬

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে ‘আইডিইএএল’ নামে একটি কর্মসূচি শুরু করে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সরকার। এই প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক বিদ্যালয়ে কাজ করা হয়।

২০০৬

প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ২০ হাজার শিশুর মৃত্যু রোধে ইউনিসেফ বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাম প্রতিরোধক কর্মসূচিতে সহযোগিতা করে। এ কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের তিন কোটি ৩৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়, সে কারণে এককভাবে এটাই বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ গণস্বাস্থ্য উদ্যোগ।

২০০৭

ভয়াবহ বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় সিডরে বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি ৪০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডিসেম্বর নাগাদ ক্ষতিগ্রস্তদের জরুরি চাহিদা পূরণ ও ত্রাণ সহায়তায় দুই কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয় করে ইউনিসেফ। এর আগে ১৯৮৮ ও ২০০৪ সালে একই ধরনের বন্যা এবং ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতি সামালের অভিজ্ঞতা বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলা এবং হাজার হাজার মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ দেয়।

২০১১

বাংলাদেশে ২২০ জনের বেশি কর্মী নিয়ে কাজ করে ইউনিসেফ বছরে এদেশের উন্নয়ন খাতে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মিলিয়ন ডলারের ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ সরকার ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছে ইউনিসেফ।

২০১৩

সরকার ‘শিশু আইন ২০১৩’ অনুমোদন দেয়। এটা নিপীড়ন, সহিংসতা, বঞ্চনা থেকে শিশুদের রক্ষার পাশাপাশি তাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পক্ষে একটি সমন্বতি আইনি কাঠামো দিয়েছে। জাতিসংঘের শিশূ অধিকার সনদকে (সিআরসি) ভিত্তি ধরে এই আইন করা হয়েছে।

প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী এক লাখ আট হাজার শিশুর জীবন বাঁচানোর মধ্য দিয়ে ২০৩৫ সাল নাগাদ শিশুমৃত্যু হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ।

২০১৫

সহস্রাব্ধ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) মাতৃমৃত্যু এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুহার কমিয়ে আনার যে লক্ষ্য তা অর্জন করে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে  প্রতিবেশী দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ বেশ এগিয়ে রয়েছে।

২০১৬

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাকে গুরুত্ব দিয়েই ইউনিসেফের ২০১৭-২০২০ সাল মেয়াদি নতুন কান্ট্রি কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এই বছরই ইউনিসেফ একটি প্লটের মালিকানার সরকারি অনুমোদন পায়। ১৯৯৬ সালে জাতিসংঘকে দেওয়া হয়েছিল জমিটি। ঢাকার আগারগাঁওয়ে এই প্লটেই নিজস্ব ভবন তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইউনিসেফ।