রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে অতি তীব্র অপুষ্টির চিকিৎসার জন্য ভর্তি হওয়া শিশুর সংখ্যা ২৭ শতাংশ বেড়েছে
জীবন রক্ষাকারী পুষ্টি চিকিৎসার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, মানবিক সহায়তার জন্য তহবিল কমছে, এতে শিশু স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে হাজার হাজার শিশু ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
- বাংলা
- English
ঢাকা/কক্সবাজার, বাংলাদেশে, ১১ মার্চ ২০২৫- বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অতি তীব্র অপুষ্টির জন্য জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন এমন শিশুর সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। অবনতিশীল পরিস্থিতির কারণে আরও বেশি সংখ্যক ছোট ছোট শিশু জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ ক্ষুধার সাথে লড়াই করছে, ফলে দিন দিন বাড়ছে অতি তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা।
কক্সবাজারে পাঁচ লাখের বেশি শিশুসহ ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই শরণার্থী শিবিরে বাসকারী এই পরিবারগুলো গুরুতর পর্যায়ের অপুষ্টির শিকার হচ্ছে। শরণার্থী শিবিরগুলোর ১৫ শতাংশের বেশি শিশু এখন অপুষ্টিতে ভুগছে- যা ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসার পর থেকে সর্বোচ্চ।
গত বছর ইউনিসেফ অতি তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ১২ হাজার শিশুর জন্য জীবন-রক্ষাকারী চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। দরকারি পুষ্টির অভাবে অতি তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছোট শিশুরা ব্যাপকভাবে ওজন হারিয়ে রুগ্ন হয়ে যায়, তখন নানান রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে তাদের। গত বছর চিকিৎসা নেয়া এই শিশুদের মধ্যে ৯২ শতাংশ সুস্থ হয়ে ওঠে। তবে সময়মত মানসম্মত চিকিৎসা না হলে অতি তীব্র অপুষ্টির কারণে প্রাণহানি ঘটতে পারে।
বর্তমানে এই সংকট আরও বাড়ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে অতি তীব্র অপুষ্টিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার জন্য আসা শিশুর সংখ্যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে (৮১৯টি থেকে বেড়ে ১ হাজার ২১ টিতে দাঁড়িয়েছে)। ফেব্রুয়ারিতে এই সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে (৮৩৬ থেকে ১ হাজার ৬২টি হয়েছে)। ক্রমবর্ধমান এই প্রবণতা বিপজ্জনক। অতি তীব্র অপুষ্টির শিকার শিশুর সংখ্যা বৃদ্ধির পেছনে একাধিক জটিল কারণ রয়েছে: ২০২৪ সালে দীর্ঘ সময় ধরে মৌসুমী বৃষ্টি চলতে থাকে, যাতে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও খারাপ হয়ে তীব্র ডায়রিয়া বৃদ্ধির পাশাপাশি কলেরা ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ঘটে; বিগত দুই বছরে খাবারের বরাদ্দ কমানোর সঙ্গে এটি যুক্ত হয়ে শিশু স্বাস্থ্যের অবনতিতে ভূমিকা রাখে। খাদ্যের নিম্ন মান এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার মুখে পালিয়ে এসে শিবিরগুলোতে আশ্রয় নিতে থাকা রোহিঙ্গা পরিবারের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা অবস্থার আরও অবনতি করেছে।
“আপাতত রোহিঙ্গা মায়েরা এসে যেসব সেবা চাইছেন এবং অত্যন্ত অসুস্থ শিশুদের যেসব চাহিদা, সেগুলো আমরা পূরণ করতে পারছি। কিন্তু যেহেতু চাহিদা বাড়ছে এবং তহবিল কমছে, সে কারণে পরিবারগুলো এসে আমাদেরকে বলছে যে, যদি তাদের খাবারের বরাদ্দ আরও কমানো হয় এবং জীবন রক্ষাকারী পুষ্টি চিকিৎসার সেবাগুলো বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কী হবে, তা নিয়ে তারা আতঙ্কিত,” বলেছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
২০২৫ সালের শুরুতে ইউনিসেফ পূর্বানুমান করেছে যে, এ বছর রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে ১৪ হাজার ২০০ শিশু অতি তীব্র অপুষ্টির শিকার হতে পারে। সেখানে খাবারের জন্য বরাদ্দ কমা, শিশুদের জন্য নিম্নমানের খাবার এবং অন্যান্য কারণে শিবিরগুলোতে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্য সেবার ঘাটতির ফলে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে ইউনিসেফ আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল। এই পরিস্থিতিতে থাকা শিশুরা যদি সময়মতো চিকিৎসা না পায় তাহলে সমবয়সী সুস্থ শিশুদের তুলনায় তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি ১১ গুণ বেড়ে যায়।
“এই পরিবারগুলো নিরাপদে নিজেদের ঘরে ফিরে যেতে পারছে না। এখানেও তাদের কাজ করার কোনো আইনি অধিকার নেই। সে কারণে এখানে নিয়মিত মানবিক সহায়তা গ্রহণ তাদের জন্য ঐচ্ছিক কোনো বিষয় নয়- বরং এটা অপরিহার্য,” বলেছেন রানা ফ্লাওয়ার্স। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “ইউনিসেফ শিশুদের পাশে থাকতে এবং তাদের প্রয়োজন মেটানোর জন্য সহায়তা চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর, কিন্তু তহবিলের নিশ্চয়তা ছাড়া জরুরি সেবাগুলো ঝুঁকিতে পড়বে।”
#######
গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ
Additional resources
ইউনিসেফ সম্পর্কে
বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি।
ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org/bangladesh/
ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram এবং YouTube-এ।