এক কোটি ১৪ লাখ মার্কিন ডলারের তহবিল দিয়ে রোহিঙ্গা শিশু ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ইউনিসেফের সহায়তা জোরদার করছে অস্ট্রেলিয়া

24 জুন 2026
Australia strengthens UNICEF support for Rohingya children and host communities
UNICEF

ঢাকা, জুন ২৪, ২০২৬- মাননীয়স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে অস্ট্রেলিয়া সরকার বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর (হোস্ট কমিউনিটির) জন্য জীবন রক্ষাকারী সেবা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে ইউনিসেফকে এক কোটি ১৪লাখ মার্কিন ডলার (এক কোটি৬০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) অর্থ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই অর্থ সহায়তা এমন একগুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে, যখন তহবিল ঘাটতির কারণে শরণার্থী শিশুদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় সেবাগুলো মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে।

২০২৬ সালের এপ্রিল মাস থেকে এই অর্থ সহায়তা দেওয়া শুরু হয়েছে যা ২০২৮ সাল পর্যন্ত একাধিক কিস্তির মাধ্যমে দেয়া হবে।কক্সবাজার ও ভাসানচরে শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, পানি, স্যানিটেশন ও সুরক্ষা সেবা পাওয়া নিশ্চিত করবে এই অর্থ সহায়তা। এসব জায়গায় মানবিক সহায়তার প্রয়োজন এখনো অত্যন্ত তীব্র এবং এসব সেবা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ক্রমেই সীমিত হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার সুসান রাইল বলেন, “সংকট অব্যাহত থাকায় অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সহায়তা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা, সুরক্ষা ও শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখবে এই অর্থ সহায়তা।”

প্রায় এক দশক ধরে রোহিঙ্গা শিশুরা নির্বাসিত অবস্থায় বেড়ে উঠেছে এবং তারা শৈশবের সবচেয়ে মৌলিক প্রয়োজন স্বাস্থ্য সেবা, শিক্ষা, পুষ্টি, নিরাপদ খাবার পানি ও সুরক্ষার জন্য মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই শরণার্থী সংকট ক্রমশ তহবিল সংকটের মুখে পড়ছে; তাতে এখানে বহু কষ্টে অর্জিত অগ্রগতিগুলো হুমকির মুখে পড়েছে।ফলে অসহায় অবস্থায় থাকা শিশুদের ক্ষুধা, রোগ, সহিংসতা এবং জরুরি সেবা পাওয়ার সুযোগ হারানোর ঝুঁকি দিন দিন বেড়ে চলেছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “ যেখানেই থাকুক না কেন শিশুতো শিশুই; আর প্রতিটি শিশুরই বেঁচে থাকা, শেখাও বিকশিত হওয়ার অধিকার রয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে অসহায় শিশুদের মধ্যে রোহিঙ্গা শিশুরা অন্যতম। এই শিশুদের জন্য স্থায়ীভাবে প্রয়োজনীয় সেবা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করা না গেলে একটি প্রজন্ম ও একটি সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার প্রকৃত ঝুঁকিদেখা দিবে ।” তিনিবলেন, “এই শিশুদের সুস্থ থাকা এবং তাদের সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সহায়তার কারণে ইউনিসেফ যেকোন পরিস্থিতিতে দ্রুতসাড়া দিতে পারে, আর তার মধ্য দিয়ে আমাদের ওপর যে শিশুরা নির্ভর করে আছে তাদের কাছে জীবন রক্ষাকারী সেবাগুলো পৌঁছানো সম্ভব হয়।এমন একটি জরুরি সময়েএই সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় আমরা অস্ট্রেলিয়ার সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।”

অস্ট্রেলিয়ার এই অর্থ সহায়তা ইউনিসেফের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের অংশীদারত্বের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করছেএবং সহজ শর্তে নির্দিষ্ট তহবিলের যোগান দিচ্ছে, যা বর্তমানের মানবিক পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই নমনীয় শর্তের অর্থায়ন ইউনিসেফকে যেখানে যখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেখানে সম্পদ বরাদ্দ করতে, নতুন চ্যালেঞ্জ দ্রুত মোকাবিলা করতে এবং জটিল ও পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে বসবাসরত শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলোঅব্যাহত রাখতে সক্ষম করছে।

২০২৫ সালে সামগ্রিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ৪৬ শতাংশ পাওয়া গেলেও ইউনিসেফ অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগের (ডিএফএটি) সহায়তায় পরিচালিত কর্মসূচির মাধ্যমে ৬ লাখ ৩৭ হাজারেরও বেশি মানুষের কাছে সেবা পৌঁছে দিয়েছে।এর মাধ্যমে শরণার্থী শিবির গুলোতে, আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এবং ভাসানচরে শিশু ও পরিবারগুলোকে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, শিশু সুরক্ষা এবংনিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সেবা দেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অগ্রগতি সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়ে গেছে। ২০২৬ সালে জীবন রক্ষাকারী সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য ১ কোটি ৩৫লাখ মার্কিন ডলারের অর্থায়ন ঘাটতিশিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোরজন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতকরণে চলমান চ্যালেঞ্জকে আরও জটিল করবে।

অস্ট্রেলিয়ার নতুন করে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি ইউনিসেফ ও এর অংশীজনদের বিভিন্ন খাতে প্রয়োজনীয় সেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি রোহিঙ্গা শিশু, তাদের পরিবার এবং আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য আরও কার্যকর, স্থানীয়ভাবে পরিচালিত এবং টেকসই মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে। এই অর্থসহায়তা রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি শিশুদের অধিকার, কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সহায়তা করছে।তাদের বর্তমান চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এই শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও আরও আশাব্যঞ্জক আগামীর পথ তৈরির সুযোগ নিশ্চিত করবে এই অর্থ সহায়তা।

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

মিগেল মাতেওস মুনোজ
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801713043478
ই-মেইল: [email protected]
কুসালি নেলি কুবওয়ালো
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801847327230
ই-মেইল: [email protected]

About UNICEF

UNICEF works in some of the world’s toughest places, to reach the world’s most disadvantaged children. Across 190 countries and territories, we work for every child, everywhere, to build a better world for everyone. For more information about UNICEF and its work for children, visit www.unicef.org/bangladesh/   

Follow UNICEF on Twitter, Facebook, Instagram and YouTube