রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের প্রথমবারের মতো সনদ প্রদান ও স্বীকৃতি

ইউনিসেফ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন ১ হাজার ১০০ এর বেশি স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষককে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের সরাসরি পাঠদানে যুক্ত করার মাধ্যমে রোহিঙ্গা শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।

29 এপ্রিল 2026
Certification for volunteer teachers
UNICEF/2026/Saikat

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল ২০২৬- রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নের পথে একটি বড় ধরনের পদক্ষেপ হিসেবে প্রথমবারের মতো শরণার্থী শিবিরগুলোর ১ হাজার ১০০ এর বেশি স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক প্রশিক্ষণ সনদ পেতে যাচ্ছেন।এর মধ্য দিয়ে তাদের দক্ষতার স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে রোহিঙ্গা শিশুদের শেখার প্রক্রিয়া জোরদার হচ্ছে।

ইউনিসেফও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের যৌথ উদ্যোগে ও বাংলাদেশ সরকার এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) সহযোগিতায় এই সনদ প্রদান করা হচ্ছে।

“এটি একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। এটা শুধু একটি সনদ নয়, এটা ক্ষমতায়নের একটি প্রতীক। এটার মধ্য দিয়ে আপনারা পরবর্তী প্রজন্মকে পথ দেখাবেন; তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ তৈরি করবে,” বলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান।

গত দুই বছরে কক্সবাজারও ভাসানচরের রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক ও মাস্টার ট্রেইনাররা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি সম্পন্ন করেছেন।

প্রশিক্ষিত শিক্ষাদানকারী স্বেচ্ছাসেবীরা কার্যকরী শিক্ষার মূল ভিত্তি, বিশেষ করে সংকটপূর্ণ জায়গা বা অবস্থায় তারা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর জন্য এ ধরনের প্রথম সুপরিকল্পিত কর্মসূচির আওতায়, শিক্ষাদানকারী স্বেচ্ছাসেবকেরা আরও কার্যকরভাবে মিয়ানমারের পাঠক্রম পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত প্রতিনিধি স্ট্যানলি গাভুয়া বলেন, “প্রতিটি রোহিঙ্গা শিশুর জন্য শুধু শিক্ষার সুযোগ নয়, বরং মানসম্মত শিক্ষালাভের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এই সনদ প্রদান।” তিনি আরও বলেন, “স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের জন্য বিনিয়োগ করে আমরা একটি পুরো প্রজন্মের শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ করছি, যে শিশুরা ইতিমধ্যে তীব্র বাধা-বিঘ্ন ও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।”

স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ছিল তিন মাসব্যাপী। সেখানে মোট ১৭৬ ঘণ্টা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান, সমাজ বিজ্ঞান ও বার্মিজ ভাষাসহ মিয়ানমারের পাঠক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ১১৮টি মডিউল নিয়ে এখানে আলোচনা হয়। এখানে, সরাসরি পাঠদান, সহকর্মীদের সাথে মতবিনিময় ও আলোচনা (পিয়ার এনগেজমেন্ট) এবং শ্রেণিকক্ষে হাতে-কলমে অনুশীলনের সমন্বয় ছিল। পুরো প্রশিক্ষনটি পরিচালনা করা হয় অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল শিক্ষাদানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে।

“নিপীড়ন-নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষাই হলো সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। তবে যে কোনো শিক্ষা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে, শিক্ষা অবশ্যই কার্যকর হতে হবে; হতেহবে সহানুভূতিশীল মানসিকতা তৈরির মাধ্যম। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আমাদের আশান্বিত করছে যে, শরণার্থী শিবিরগুলোতে শিক্ষা এমন ভাবে উন্নত হবে যে সেটা আবার আশার সঞ্চার করবে,” বলেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনের প্রতিষ্ঠাতা কামাল আহমদ।

এই উদ্যোগ দাতা গোষ্ঠীর সহায়তায় বিদ্যমান স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নত করার প্রচেষ্টাকে তুলে ধরছে। শিক্ষার মানোন্নয়নে স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের দক্ষ করে তোলা অত্যন্ত জরুরি। এতে শ্রেণিকক্ষগুলো আরও প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ হয়ে ওঠে এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

রোহিঙ্গা শিশুদের ভবিষ্যৎ এখনো অনিশ্চিত। এই অবস্থায় স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষকদের প্রশিক্ষিত করার মাধ্যমে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিয়ে তাদের মনে নতুন করে আশা জাগিয়ে তোলা এবং আত্মমর্যাদা ও জীবন গড়ার সুযোগ তৈরিকরা সম্ভব।

 

###

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

মিগেল মাতেওস মুনোজ
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801713043478
ই-মেইল: [email protected]
কুসালি নেলি কুবওয়ালো
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801847327230
ই-মেইল: [email protected]

ইউনিসেফ সম্পর্কে

বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি।

ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org/bangladesh/

ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram এবং YouTube-এ।

 

এশিয়ান ইউনিভার্সিটিফর উইমেন (এইউডব্লিউ) সম্পর্কে:

এশিয়াও মধ্যপ্রাচ্যের ২০টিরও বেশি দেশ থেকে নারী শিক্ষার্থী ভর্তি হয় এইউডব্লিউ-এ।এর মধ্য দিয়ে অগ্রগতির সীমিত সুযোগ সম্পন্ন কমিউনিটির উচ্চ সম্ভাবনাময় তরুণীদের জন্য মেধা বিকাশের সুযোগসৃষ্টি করে প্রতিষ্ঠানটি। সেই সঙ্গে এই নারী শিক্ষার্থীদেরস্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন এবং পরিবর্তন সৃষ্টিকারী ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় একাডেমিক, পেশাগত ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিয়ে থাকে। এইউডব্লিউ থেকে ১২টি শিক্ষাবর্ষে ১ হাজার ৮০০ এর বেশিশিক্ষার্থী স্নাতক করেছেন এবং বর্তমানে সেখানেদুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন।এইউডব্লিউ-এর স্নাতকদের ৫০ শতাংশেরও বেশি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলোতে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে যান। আর অন্যরা খ্যাতিমান আন্তর্জাতিক সংস্থা, কর্পোরেশন এবং সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানে কর্মজীবন গড়ে তোলেন।

আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: https://asian-university.org/