মা দিবসে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোতে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের উদযাপন
বিশ্বের অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার নারীরা বেশি সময় ধরে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান
- বাংলা
- English
কাঠমান্ডু/ঢাকা, ১৩ মে ২০১৮–বিশ্বের অন্য যেকোনো অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ার হার অনেক বেশি এবং তারা দীর্ঘ সময় ধরে বুকের দুধ খায়। আজ প্রকাশিত ইউনিসেফের নতুন এক বিশ্লেষণে এ কথা বলা হয়েছে।
বুকের দুধ শিশুদের জীবন বাঁচায় এবং তাদের প্রাণঘাতী রোগব্যাধি থেকে রক্ষা করে। শিশুদের দুই বছর বা তার বেশি সময় ধরে বুকের দুধ খাওয়া উচিত, কারণ এটা শিশুর সুস্থ বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস প্রদান করে এবং শিশুর জীবনের দ্বিতীয় বছরে মৃত্যুর অর্ধেক প্রতিরোধ করতে পারে। এছাড়াও এটা শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের মাঝে বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষায় উচ্চ সাফল্যের দিকে ধাবিত করে (গড়ে ৩ আইকিউ পয়েন্ট)।
ইউনিসেফের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক জ্যঁ গফ বলেন, “একজন মা তার সন্তানকে এবং একই সঙ্গে নিজেকে সর্বোত্তম যে উপহার দিতে পারেন তা হচ্ছে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো। মা দিবস উদযাপনকে সামনে রেখে আমাদের অবশ্যই শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করতে ও তার চালিয়ে যেতে মায়েদের যে সমর্থন প্রয়োজন তা তাদের দিতে হবে।”
আফগানিস্তান (৯৮%), ভুটান (৯৯%), নেপাল (৯৯%) ও শ্রীলংকার (৯৯%) অন্তত ৯৮ শতাংশ শিশুকে তাদের ছোট বয়সের কোনো না কোনো সময়ে বুকের দুধ খাওয়া হয় এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্য যেকোনো স্থানেই এই অনুপাত বেশ উচ্চ এবং তা ৯৪-৯৭% শতাংশ।
এই অঞ্চলে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো প্রায় সর্বজনীন হলেও এই চর্চার আরও উন্নতির জন্য এখনও করার মতো অনেক কিছুই রয়েছে। শিশুর জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করা এবং শিশুদের ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধুমাত্র বুকের দুধ খাওয়ানোর মতো বিষয়গুলো এখনো পর্যাপ্ত নয়।
বাংলাদেশে নবজাতকদের মাত্র ৫১ শতাংশকে জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যে বুকের দুধ খাওয়া শুরু করা হয় এবং ছয় মাসের কমবয়সী ৫৫ শতাংশ শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো হয়। শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর ক্ষেত্রে এই শূন্যতা পূরণে সহায়তা দেয় ইউনিসেফ। বর্তমান উদ্যোগগুলোর একটি হচ্ছে মাদারস@ওয়ার্ক প্রকল্প, যার আওতায় কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসার পর শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য বাংলাদেশের গার্মেন্টস সেক্টরে কর্মরত মায়েদের সহায়তা করা হয়।
দীর্ঘ সময় ধরে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; একজন মা যদি এক বছর তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান, তাহলে তার স্তন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ৬ শতাংশ কমে যায়।
ইউনিসেফ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পুষ্টি উপদেষ্টা হ্যারিয়েট টরলেসি বলেন, “যেহেতু দুই বছর বা তার বেশি সময় ধরে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর অনেক উপকারিতা রয়েছে, আমরা এক্ষেত্রে সামনের পথ দেখানোর জন্য দক্ষিণ এশিয়ার নারীদের প্রশংসা করতে চাই। তবে শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো দীর্ঘায়িত করতে এবং তাদের আর্থিক অবস্থা যাই হোক না কেন শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য আমাদের এখনও তাদের উৎসাহিত করা ও সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন।”
সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, সাধারণত সম্পদশালী পরিবারগুলোর শিশুদের বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত থাকে না। দক্ষিণ এশিয়ায় দরিদ্র পরিবারগুলোতে ২০-২৩ মাস বয়সী ৮১ শতাংশ শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো হয়, যেখানে ধনী পরিবারগুলোতে এই হার মাত্র ৫৭ শতাংশ।
এই প্রবণতা বিশ্বব্যাপী দেখা যায়, যেখানে ৭ দশমিক ৬ মিলিয়ন শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো হয় না এবং বিশ্বের ধনী দেশগুলোর শিশুরাই এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়।
বিশ্বের ১২৮টির বেশি দেশে মে মাসে স্বীকৃত মা দিবসে বৈশ্বিক ‘এভরি চাইলন্ড এলাইভ’ প্রচারাভিযান মা ও শিশু এবং তাদের গর্ভধারণ, প্রসব ও জন্মদানে সহায়তা প্রাপ্তির অধিকার উদযাপন করছে।
গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ
ইউনিসেফ সম্পর্কে
প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।
আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd
ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার