কর্মক্ষেত্রে মায়েদের সহায়তায় বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সাথে ইউনিসেফ-এর অংশীদারিত্ব

13 অক্টোবর 2022
Mother and a child. Bangladesh
UNICEF/UNI253566/Himu
তথ্য-প্রমাণ বলে, বেতনসহ ছুটি, মায়ের দুধ খাওয়ানো ও প্রসবপূর্ব সেবা নিশ্চিত হলে তা শিশুর সুস্বাস্থ্য, সুখী পরিবার গঠনের পাশাপাশি লিঙ্গ সমতা, কর্মক্ষেত্রে উৎদনশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে।

ঢাকা, ১৩ অক্টোবর ২০২২ ইউনিসেফ পরিচালিত 'মাদারস@ওয়ার্ক’ উদ্যোগের অধীনে, ইউনিসেফ এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ও বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) পোশাক কারখানায় সন্তানকে  মায়ের দুধ খাওয়ানোর জায়গা ও  বিরতি, শিশু যত্নের সুবিধা, বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি, নগদ সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা, চাকরির সুরক্ষা এবং কর্মজীবী মা ও গর্ভবতীদের জন্য একটি নিরাপদ কাজের পরিবেশ প্রদানে কারখানাগুলোকে সহায়তা করবে।

তথ্য-প্রমাণ বলে, বেতনসহ ছুটি, মায়ের দুধ খাওয়ানো ও প্রসবপূর্ব সেবা নিশ্চিত হলে তা শিশুর সুস্বাস্থ্য, সুখী পরিবার গঠনের পাশাপাশি লিঙ্গ সমতা, কর্মক্ষেত্রে উৎদনশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখে।

পোশাক রপ্তানির দিক থেকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অবস্থান বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) খাতটির অবদান ১১ শতাংশ। পোশাক কারখানায় কাজ করছেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ, যাদের অর্ধেকেরও বেশি প্রজনন বয়সী নারী। তবে ইউনিসেফের ২০১৮ সালের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, পোশাক কারখানায় মায়ের দুধ খাওয়ানোর জন্য কাজের বিরতি ও ব্যক্তিগত জায়গার ঘাটতি রয়েছে, অথচ বিষয়টি শিশুর স্বাস্থ্য ও বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মিঃ শেলডন ইয়েট বলেন, ‘কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের জন্য লক্ষ্যযুক্ত সহায়তা প্রদান করা এবং নারীরা যাতে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করতে পারে তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সন্তানদের যত্ন নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা, নারীদের এবং তাদের শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।  এটি এমন একটি বিনিয়োগ যা থেকে সকলেই উপকৃত হবে।‘

ইউনিসেফের একটি পাইলট প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানের ভিত্তিতে, এই অংশীদারিত্ব ১,৩০,০০০  নারীর কাজের অবস্থার উন্নতি ঘটাবে এবং ৮,০০০ শিশুর জন্য টেকসই উপায়ে উন্নত পুষ্টি সেবা ও ডে-কেয়ার সুবিধা প্রদান করবে। ৮০টি কারখানায় শুরু হওয়া এই উদ্যোগ লক্ষ্য অনুযায়ী শেষ পর্যন্ত দেশের ৪,০০০ কারখানায় ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করবে।

বিজিএমইএ সভাপতি মিঃ ফারুক হাসান বলেন, “পোশাক কারখানায় নিয়জিত মা এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ রাখা অপরিহার্য, যাতে তাদের সুস্থতা রক্ষা করা যায় এবং তাদের শিশুদের সুস্থ বিকাশে সহায়তা করার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি নিশ্চিত হয়।“

বিকেএমইএ সভাপতি মিঃ সেলিম ওসমান বলেন, “আমাদের কারখানাগুলোতে মায়েদের জন্য, শ্রমিকদের জন্য, তাদের সন্তান যারা দেশের ভবিষ্যৎ তাদের জন্য এবং সর্বোপরি ব্যবসার বিকাশের জন্য নিট পোশাক খাতে কাজের একটি অনুকূল পরিবেশ গড়ে তুলতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।“

ইউনিসেফ মাদারস@ওয়ার্ক উদ্যোগটিকে টিকিয়ে রাখা এবং এর কার্যক্রমের প্রসার বাড়াতে সরকারের সঙ্গেও কাজ করছে।

###

 

সম্পাদকদের জন্য নোট:

এখানে থেকে বেশি রেজলুশনের ছবি ডাউনলোড করুন/মাল্টিমিডিয়া উপকরণ এখানে

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

নাসিম উদ্দিন
হেড অফ কমিউনিকেশন
বিজিএমইএ
টেলিফোন: +880 167 112 9909
ই-মেইল: nasim@bgmea.com.bd
মোঃ জাকির হোসেইন
সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারী
বিকেএমইএ
টেলিফোন: +880 191 323 3757
ই-মেইল: it@bkmea.com

ইউনিসেফ সম্পর্কে

বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি।

ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org.

ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram এবং YouTube-এ।

বিকেএমইএ সম্পর্কে

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) ১৯৯৬ সালে নিটওয়্যার ব্যবসার সুবিধা ও প্রচারের জন্য একটি ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন হিসেবে গঠিত হয়। সদস্য কারখানাগুলির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় কমপ্লাইয়ান্স উন্নত করতে, কেন্দ্রীভূত ডে কেয়ার সেন্টার ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে শ্রমিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে করে এবং শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর জন্য সেক্টর সম্পর্কিত গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম তৈরি করতে বিকেএমইএ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে।

বিজিএমইএ সম্পর্কে

তৈরি পোশাক শিল্প, বিশেষ করে বোনা পোশাক, নিটওয়্যার এবং সোয়েটার উপখাতের প্রতিনিধিত্বকারী বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) দেশের বৃহত্তম বাণিজ্য সংস্থাগুলির মধ্যে অন্যতম। ১৯৮৩ সালে যাত্রা শুরু করে, বিজিএমইএ এমন একটি শিল্পের প্রতিনিধিত্ব করে যা বাংলাদেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। সরকারের সাথে নীতি এডভোকেসি, সদস্যদের সেবা, শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত এবং কারখানায় সামাজিক কমপ্লাইয়ান্স নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিজিএমইএ পোশাক শিল্পের প্রচারে নিবেদিত। বিজিএমইএ বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বিকাশের পথ প্রশস্ত করতে বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং উন্নয়ন অংশীদার সহ স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের সাথে কাজ করে।