শিশুদের সুরক্ষায় সমাজসেবা কর্মীবাহিনীকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি সরকারের

19 সেপ্টেম্বর 2022
Bangladeshi children
UNICEF/UN0704990/Expressions Ltd

ঢাকা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ – বাংলাদেশ সরকার ৬ হাজার নতুন সমাজকর্মী নিয়োগ দেবে, যা কর্মীর সংখ্যাকে ৩ হাজার থেকে ৯ হাজারে উন্নীত করবে। একটি বিস্তৃত জাতীয় গৃহস্থালি জরিপ প্রকাশের পর শিশুদের বিষয়ে যুগান্তকারী এই প্রতিশ্রুতি আসে। এই জরিপে উঠে আসে যে, ১৫ বছরের কমবয়সী বাংলাদেশি শিশুদের প্রায় ৮৯ শতাংশ বা সাড়ে ৪ কোটি শিশু নিয়মিত বাড়িতে সহিংসতার শিকার হয়, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক।

আজ ঢাকায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষাবিষয়ক জাতীয় সম্মেলন’-এ শিশু সুরক্ষা পরিষেবা জোরদার করা এবং সমাজকর্মীর সংখ্যা ২০০ শতাংশ বাড়ানোর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ইউনিসেফ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলন একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি কমিউনিটি পর্যায়ে শিশু সুরক্ষা সেবা সহজলভ্য করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের লক্ষ্য হল, একটি পেশাদার সমাজসেবা কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা, যা স্বেচ্ছাসেবক, কিশোর-কিশোরী ও কমিউনিটির লোকজনদের সম্পৃক্ত করে ‘চাইল্ড হেল্পলাইন’ ১০৯৮, ‘চাইল্ড প্রটেকশন অ্যালাওয়েন্স’ ও কমিউনিটি-ভিত্তিক বিস্তৃত পরিষেবাগুলোর মতো শিশু সুরক্ষা সেবা দক্ষতার সঙ্গে নিশ্চিত ও বৃদ্ধি করবে, যাতে কোনো শিশু এর থেকে বাদ না পড়ে।”

বাংলাদেশে ৩০ লাখেরও বেশি শিশু শিশুশ্রমের ফাঁদে আটকে আছে, যাদের মধ্যে ১৩ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত। প্রতি পাঁচজন শিশুর মধ্যে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয় শেষ করে না। প্রায় অর্ধেক শিশুর জন্ম নিবন্ধন নেই। এক লাখের বেশি শিশু প্রাতিষ্ঠানিক যত্নে রয়েছে এবং তাদের পারিবারিক সহায়তার অভাব রয়েছে। প্রতি দুইজন মেয়ের মধ্যে একজনকে বিয়ে দেওয়া হয় শিশু থাকা অবস্থায়। লাখ লাখ শিশু রাস্তায় বসবাস করে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মিঃ শেলডন ইয়েট বলেন, “সমাজকর্মীরা কমিউনিটির গভীরে পৌঁছে যান যেখানে শিশুদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় তাদের। গুরুত্বপূর্ণ পেশাগত যত্ন থেকে যাতে আরও বেশি সংখ্যক শিশু উপকৃত হয়, সেই লক্ষ্যে সহায়তা করতে সমাজকর্মীদের সংখ্যায় এই বৃদ্ধির জন্য আমি বাংলাদেশ সরকারকে অভিনন্দন জানাই।“

আজকের উচ্চ-পর্যায়ের শিশু সুরক্ষাবিষয়ক সম্মেলন সমাজসেবা কর্মীবাহিনী, প্রাথমিক অবস্থাতে ঝুঁকি শনাক্তকরণ এবং তা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া, প্রতিবন্ধী শিশুদের অধিকার ও চাহিদা এবং শিশু সুরক্ষার আইনি কাঠামো বিষয়ক আলোচনায় সরকার, সুশীল সমাজ, বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের একত্রিত করেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ প্রতিনিধিদলের প্রধান রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, “বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার ক্ষেত্রে শিশুরা একটি উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে। শিশুদের, বিশেষ করে সবচেয়ে অরক্ষিত এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের সহিংসতা, শোষণ ও নিগ্রহ থেকে সুরক্ষা দেয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আজকের আয়োজন একটি অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে ইইউ সহায়তা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ, যিনি শিশু অধিকার সংক্রান্ত সুপ্রিম স্পেশাল কমিটিরও একজন সদস্য।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে একত্রে, ইউনিসেফ বাংলাদেশ সরকারকে একটি বিস্তৃত জাতীয় শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করে।

###

 

সম্পাদকের জন্য নোট:

উচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবি ডাউনলোড করুন এখান থেকে

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিডিও বার্তা দেখুন এখানে

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

তৌহীদ ফিরোজ
ইউরোপীয় ইউনিয়ন
টেলিফোন: +880 167 203 4456
ফারিয়া সেলিম
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801817586096
ই-মেইল: fselim@unicef.org

ইউনিসেফ সম্পর্কে

বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি।

ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org.

ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram এবং YouTube-এ।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্পর্কে

১৯৭৩ সাল থেকে বাংলাদেশের আপোষহীন উন্নয়ন অংশীদার, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দীর্ঘ সময়ের জন্য চরম দারিদ্র্য মোকাবিলায় বাংলাদেশকে সহায়তা প্রদানকারী হিসেবে দেখা যায়। দেশটি যখন স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার জন্য প্রস্তুত, তখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন সক্রিয়ভাবে টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য ভিত্তি – মানবাধিকার, গণতন্ত্র, সুশাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন এবং ন্যায়সঙ্গত বাণিজ্যের বিষয়গুলো তুলে ধরছে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুত্ববাদী সমাজ গঠন করছে।