পানিতে ডুবে প্রতিটি মৃত্যুই প্রতিরোধযোগ্য: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ

25 জুলাই 2022
Bangladeshi children with Shakib Al Hasan
UNICEF/UN0674261/Dulu/Expressions
তথ্য-প্রমাণ বলে, খুব সহজেই পানিতে ডুবে যাওয়া রোধ করা যায়। পরিবার ও কমিউনিটির মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সাঁতারে দক্ষ করে তোলা, প্রাক-স্কুলের শিশুদের জন্য শিশু যত্ন কেন্দ্রের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বিনিয়োগ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।

ঢাকা, ২৫ জুলাই ২০২২ বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৪ হাজারের বেশি শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। ব্যাপকভাবে স্বীকৃত না হলেও দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ পানিতে ডুবে যাওয়া, যা এটিকে একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত করেছে।

‘বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আজ সচেতনতা বাড়াতে এবং সারা দেশে হাজার হাজার শিশুর অকাল মৃত্যু রোধে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, কমিউনিটি ও ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও ইউনিসেফ।

এ বিষয়ে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মিঃ শেলডন ইয়েট বলেন, “এটি হৃদয়-বিদারক যে বাংলাদেশে প্রতি বছর পানিতে ডুবে এত মানুষ প্রাণ হারায়। আমরা জানি যে, এসব মৃত্যু প্রতিরোধযোগ্য। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং প্রতিটি শিশুর ভালোভাবে বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিত করতে ব্যক্তি, কমিউনিটি ও সরকারের প্রতি আমাদের সাথে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাই।”

বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর পানিতে ডুবে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। পানিতে ডুবে মৃত্যুর প্রতি ১০টি ঘটনার মধ্যে ৯টি ঘটে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে, যেখানে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। বাংলাদেশে, যেখানে প্রতি বছর বন্যার কারণে স্থলভূমির বিশাল একটি অংশ তলিয়ে যায়, সেখানে সচেতনতা ও সাঁতারে দক্ষতার অভাব জীবনের জন্য হুমকি হিসেবে প্রতীয়মান হতে পারে। গ্রামীণ এলাকার শিশুরা, যারা জলাশয়ের আশেপাশে বেড়ে ওঠে, তারাও প্রতিদিন পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।

UNICEF Bangladesh

“পানিতে ডুবা একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য উদ্বেগ এবং বিশ্বব্যাপী দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর তৃতীয় প্রধান কারণ। বাংলাদেশে শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণগুলোর একটি পানিতে ডুবে যাওয়া। ডব্লিউএইচও ডুবে যাওয়া রোধে বিভিন্ন কৌশল ও পদক্ষেপ সুপারিশ করে এবং একটি মাল্টিসেক্টরাল উদ্যোগের প্রচার করে যাচ্ছে। মাল্টিসেক্টরাল সহযোগিতা বৃদ্ধি, ডুবে যাওয়া প্রতিরোধে শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে, আমরা এই ট্র্যাজেডি রোধ করতে পারি এবং সবার জন্য একটি নিরাপদ, স্বাস্থ্যকর ভবিষ্যত অর্জন করতে পারি,” বলেছেন ডাঃ বারদান জং রানা, বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি।

তথ্য-প্রমাণ বলে, খুব সহজেই পানিতে ডুবে যাওয়া রোধ করা যায়। পরিবার ও কমিউনিটির মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সাঁতারে দক্ষ করে তোলা, প্রাক-স্কুলের শিশুদের জন্য শিশু যত্ন কেন্দ্রের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও বিনিয়োগ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারে।

সারাবিশ্বে পানিতে ডুবে যাওয়াকে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এবং পানিতে ডুবে প্রতিটি মৃত্যুই যে প্রতিরোধযোগ্য তা তুলে ধরতে ২০২১ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২৫ জুলাইকে ‘বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। পানিতে ডুবে মারা যাওয়া প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে এবং শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের সাঁতারে দক্ষ করে তুলতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  ও ইউনিসেফ সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।

সম্পাদকদের জন্য নোট:

উচ্চ রেজ্যুলেশনের ছবি ডাউনলোড করুন এখানে

বিশ্ব পানিতে ডুবা প্রতিরোধ দিবস ২০২২-এ প্রকাশিত সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ইউনিসেফের পিএসএ ভিডিও দেখুন এখানে

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

সালমা সুলতানা
ডব্লিউএইচও বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801817534341
ই-মেইল: ssultana@who.int
ময়ূখ মাহতাব
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801685023541
ই-মেইল: mmahtab@unicef.org

ইউনিসেফ সম্পর্কে

বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি।

ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org.

ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram এবং YouTube-এ।

ডব্লিউএইচও সম্পর্কে 

সব মানুষের মঙ্গলের জন্য নিবেদিত এবং বিজ্ঞান দ্বারা পরিচালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সর্বত্র সবাইকে একটি নিরাপদ স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের সমান সুযোগ প্রদানে বৈশ্বিক প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দানকারী সংস্থা। আমরা জাতিসংঘের স্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা, যা ১৫০টিরও বেশি স্থান থেকে অগ্রভাগে থাকা জাতি, অংশীদার মানুষকে সংযুক্ত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্বের প্রতিক্রিয়া, রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সমস্যাগুলোর মূল কারণ চিহ্নিত করা এবং ওষুধ স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির সুযোগ প্রসারিত করার কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে সুস্বাস্থ্যের কথা প্রচার করা, বিশ্বকে নিরাপদ রাখা এবং অরক্ষিতদের সেবা প্রদান করা।

ডব্লিউএইচও এবং এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.who.int  

ডব্লিউএইচওকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram, LinkedIn, TikTok, Pinterest, YouTubeTwitch-এ।