ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক বাংলাদেশে শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগ এবং শিশুবিবাহ বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে প্রায় প্রতি দুই মেয়ের একজনেরই ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বিয়ে হয়ে যায়; এতে তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়ে।

20 অক্টোবর 2026
ED with children
UNICEF/UN0941355/Rasnat

নিউইয়র্ক/ঢাকা, ২০ অক্টোবর: তিন দিনের সফর শেষে বাংলাদেশের শিশুদের জন্য জরুরি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল। সফরে তিনি ঢাকার বৃহত্তম বস্তি কড়াইলের পরিবারগুলোর সঙ্গে এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

রাসেল তিনটি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এগুলো হলো—শিশুবিবাহ বন্ধ করে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা অর্থাৎ তাদের লেখাপড়া অব্যাহত রাখা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।

কড়াইল বস্তিতে রাসেল শিশু ও অভিভাবকদের কাছ থেকে দারিদ্র্য, পড়াশোনায় বাধা এবং মৌলিক সেবার সীমিত সুযোগের কথা শোনেন।

রাসেল বলেন, “বুশরা নামের ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল। সে আমাকে জানায়, ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিশু সুরক্ষা কেন্দ্রের কমিউনিটি নেতারা তার বাবাকে সঙ্গে নিয়ে তাকে শিশুবিবাহ থেকে রক্ষা করেন। মেয়েদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখা এবং তাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে তা তাদের, তাদের কমিউনিটির এবং বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে।”

বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (MICS) ২০২৫ অনুযায়ী, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় অর্ধেকের - ৪৭ দশমিক ২ শতাংশের- বিয়ে হয়েছে তাদের ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই। শিশুবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, অল্প বয়সে গর্ভধারণের ঝুঁকি বাড়ে এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।

ইউনিসেফ মেয়েদের মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিশুবিবাহের সুযোগ তৈরি করে এমন আইনি ফাঁকফোকর বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে।

রাসেল বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়ানোর সরকারি অঙ্গীকারের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেন।

রাসেল বলেন, “বাজেটের মধ্য দিয়েই অগ্রাধিকার প্রতিফলিত হয়। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও সুরক্ষায় বিনিয়োগ মানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতে বিনিয়োগ।”

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী শিবির কক্সবাজারে রাসেল রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত শিক্ষামূলক কার্যক্রমও পরিদর্শন করেন।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের উদারতার প্রশংসা করেন রাসেল। একই সঙ্গে শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা—উভয় জনগোষ্ঠীর জন্য আন্তর্জাতিক কমিউনিটিকে সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রাসেল ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত একটি শিক্ষাকেন্দ্র (লার্নিং সেন্টার) পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা অর্জনের গুরুত্ব সম্পর্কে সরাসরি শোনেন। শিক্ষা শুধু জ্ঞান অর্জনের সুযোগই তৈরি করে না, শিশুদের শোষণ, পাচার, শিশুবিবাহ ও সশস্ত্র গোষ্ঠীতে নিয়োগের ঝুঁকি থেকেও সুরক্ষা দেয়।

রাসেল বলেন, “সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তার কারণে রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক কিছু হারিয়েছে। এখন তাদের শিক্ষা থেকেও বঞ্চিত হতে হবে - এটা হতে দেয়া যাবে না। তাদের এবং যে কমিউনিটি তাদের আশ্রয় দিয়েছে, তাদের জন্য বিশ্বকে অবশ্যই বিনিয়োগ করতে হবে।”

সারা দেশে শিশু ও পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও সেবাগুলো শক্তিশালী করতে সরকার ও সহযোগী সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি মানসম্মত শিক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান, পুষ্টি, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা (স্যানিটেশন) এবং শিশু সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করতে সহায়তা করছে।

শিশুবিবাহ ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, কিশোরীদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং শিশুদের জন্য সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতেও কাজ করছে ইউনিসেফ। তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা, নীতিনির্ধারণে সহায়তা এবং জাতীয় ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করার মাধ্যমে সংস্থাটি সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের কাছে জরুরি সেবা পৌঁছে দিতে সহায়তা করছে।

কক্সবাজারে ইউনিসেফ ও সহযোগী সংস্থাগুলো রোহিঙ্গা শরণার্থী শিশু ও তাদের পরিবারকে জীবন রক্ষাকারী ও জরুরি সেবা দিয়ে থাকে। এসব সেবার মধ্যে রয়েছে অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, নিরাপদ খাবার পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু সুরক্ষা এবং মানসিক সহায়তা। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীকেও সহায়তা করে ইউনিসেফ।

মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ায় জরুরি সেবাগুলো সচল রাখা, অর্জিত অগ্রগতি ধরে রাখা এবং শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর শিশুরা যাতে পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক কমিউনিটির ধারাবাহিক সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

মিগেল মাতেওস মুনোজ
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801713043478
ই-মেইল: [email protected]
মালেনে কাম্প জেনসেন
সিনিয়র উপদেষ্টা, যোগাযোগ
নির্বাহী পরিচালকের কার্যালয়, ইউনিসেফ
টেলিফোন: 1-929-899-6983
ই-মেইল: [email protected]

ইউনিসেফ সম্পর্কে

বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি।

ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org/bangladesh/

ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram এবং YouTube-এ।