কোভিড-১৯ সম্পর্কিত কল্পকাহিনী ও ভুল তথ্যের বিরূদ্ধে লড়াই করছে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা

সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভুল তথ্য সনাক্ত করার কৌশল বিষয়ে ইউনিসেফ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত তথ্য বিভ্রাটের হাত থেকে অনলাইন ব্যবহারকারীদের রক্ষা করছে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা

ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী
জুম মিটিং-এ ইউনিসেফ স্বেচ্ছাসেবীরা
UNICEF Bangladesh
17 আগস্ট 2020

যে কোনও মহামারীর সময়, গুজব, অর্ধ-সত্য এবং ভুল তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। এর ফলে কোভিড-১৯ এর সাথে লড়াই করছেন এমন চাপের মুখে থাকা জনগোষ্ঠির মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

ফারিহা বুশরা বলেন, “নিজেকে, নিজের পরিবার-পরিজন এবং আত্মীয়-স্বজনদের কোভিড-১৯ থেকে দুরে রাখতে মানুষ যখন নিরলসভাবে সঠিক তথ্য অনুসন্ধান করছে, ঠিক সেই সময় মিথ্যা তথ্য তাদের ইতোমধ্যে সঞ্চিত আত্মবিশ্বাসকে মারাত্মকভাবে আঘাত করতে পারে। এতে করে নিজের স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সম্পর্কে তারা ভুল এবং ক্ষতিকারক সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত হতে পারে।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত ভুল তথ্যের বিরূদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য দেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে ইউনিসেফ বাংলাদেশ তরুণ স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্মের যে ১৬ জন স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন, - ঢাকা বিভাগের মডারেটর বুশরা তাদেরই একজন।

 

চিকিৎসা সম্পর্কিত ভুল তথ্য বাছাই করা

উদাহরণ দিয়ে বুশরা বলেন, “আমরা সাধারণত সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, বিশেষত ফেসবুকে চিকিৎসা সম্পর্কিত ভুল তথ্য পর্যবেক্ষণ করি।” তিনি আরও বলেন, “হোমিওপ্যাথিক, আয়ুর্বেদিক এবং সনাতনী অলৌকিক কিছু ওষুধের মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর ভিত্তিহীন নিরাময় সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রচার আমরা লক্ষ্য করেছিলাম। এগুলো ব্যক্তিগত বা গ্রুপ পোস্ট, ফেসবুক ক্রস পোস্ট, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার করা আধেয় এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।”

“কোভিড-১৯ সম্পর্কিত ভূয়া তথ্যের বিরূদ্ধে লড়াই করা স্বেচ্ছাসেবীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।” - মেহজাবিন তুশী

বরিশাল বিভাগের মডারেটর হিসাবে কর্মরত আরও একজন স্বেচ্ছাসেবক সুলতানা মেহজাবিন তুশী বলেন, “কোভিড-১৯ সম্পর্কিত ভূয়া তথ্যের বিরূদ্ধে লড়াই করা এসব স্বেচ্ছাসেবীদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ফারিহা এবং আমি ১৬ সদস্যের মিডিয়া মনিটরিং টাস্কফোর্সের নেতৃত্ব দিয়েছিলাম। ভূয়া তথ্য সনাক্ত করা এবং প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট সিস্টেমে সেগুলো রিপোর্ট করার জন্য ইউনিসেফ বাংলাদেশ সোশ্যাল মিডিয়া টিম আমাদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।”

ইউনিসেফ স্বেচ্ছাসেবক
UNICEF Bangladesh
ইউনিসেফ বাংলাদেশ তরুণ স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্মের সদস্যরা মহামারী শুরুর আগে একটি গ্রুপ ছবির জন্য পোজ দিয়েছেন।

ময়মনসিংহ জেলা স্বেচ্ছাসেবক ও মডারেটর মো. রাফাত হাসান বলেন, অনলাইনে ভুল তথ্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং সরকারের এটুআই (অ্যাক্সেস টু ইনফরমেশন) প্রোগ্রাম আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে মিডিয়া মনিটরিং টিম অংশ নিয়েছিল।

তিনি আরও জানান, “অনলাইনে ভুল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সন্দেহভাজন ব্যবসায়ীরা কীভাবে দ্রুত মুনাফা অর্জন করে ওয়েবিনারে সে সম্পর্কে আমাদের ধারণা দেয়া হয়েছিল। ভুল তথ্যের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া উদ্দেশ্যমূলক প্রচারকে কীভাবে তারা নিজ স্বার্থে ব্যবহার করে  ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে এই টীমের সদস্যরা তা বুঝতে পেরেছিল।”

 

কার্যক্রমের প্রভাব

স্বেচ্ছাসেবীদের মতে, ২০২০ সালের জুন মাসে মিডিয়া পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে ভুল তথ্যের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। বর্তমানে এই ভুল তথ্য মূলত মানুষের উপর কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের পরীক্ষা এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের সফল আগমন সম্পর্কিত জল্পনা কল্পনার সাথে সম্পর্কিত।

সামাজিক মাধ্যম সম্পর্কিত টীমের নেতৃত্ব দানকারী ইউনিসেফের যোগাযোগ কর্মকর্তা অমিয়া হালদার নিশ্চিত করেন, “অনুশীলনের সময়ে স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে নিয়ে করা পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষণ টীম ৮৫টি বড় ধরনের ভুল তথ্যের পোস্ট সনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছিল এবং এই ভুল তথ্য সামাজিক মাধ্যমে প্রায় ১৮.৭ লাখ আলাপচারিতার খোরাক জুগিয়েছিল।”

তিনি আরও বলেন, “সনাক্ত করা ভুল তথ্যের পোস্টগুলো সম্পর্কে ফেসবুকে অভিযোগ করা হলে পাঁচটার মধ্যে একটা পোস্ট ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।”

ব্যক্তিগত পর্যায়ে পরিবার এবং পাড়া-প্রতিবেশিদের সাথে কথা বলে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীরা ভুল তথ্য প্রতিরোধ করতে সহায়তা করেছে। অন্যদিকে, ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সহ অন্যান্য বিশ্বস্ত অনলাইন সূত্র থেকে তথ্য নিয়ে কোভিড-১৯ সম্পর্কিত সঠিক তথ্য সরবরাহ করতে স্বেচ্ছাসেবীদের কেউ কেউ তাদের নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেছেন।