বাংলাদেশে লাখ লাখ শিশুর সুরক্ষার জন্য সমাজসেবা কর্মীদের পেছনে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ
- বাংলা
- English
ঢাকা, ২৯ মার্চ ২০২২ – বাংলাদেশে এখনও শিশুরা যৌন নির্যাতন, শিশুশ্রম, শিশুবিয়ে এবং শৃঙ্খলা শেখানোর নামে সহিংস আচরণ ও মানসিক শাস্তির শিকার হয়, যা প্রতিদিন লাখ লাখ শিশুকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
১৪ বছরের কম বয়সী প্রতি ১০ জন ছেলে-মেয়ের মধ্যে ৯ জন, অর্থাৎ ৪ কোটি ৫০ লাখ ছেলে-মেয়ে, বাড়িতে নিয়মিত সহিংস আচরণের শিকার হয়। ৫১ শতাংশ অর্থাৎ, অর্ধেকেরও বেশি সংখ্যক মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায় তাদের ১৮তম জন্মদিনের আগেই। লাখ লাখ শিশু রাস্তায় বাস করছে, যারা স্কুলের বাইরে থেকে যাচ্ছে বা বিপজ্জনক শিশুশ্রমে আটকা পড়েছে। এই শিশুদের শনাক্ত করতে এবং তাদের ক্ষতি ও নিগ্রহের শিকার হওয়া থেকে বাঁচাতে একটি সুপরিকল্পিত, প্রশিক্ষিত ও সমর্থিত সমাজসেবা কর্মীবাহিনী নিশ্চিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
অরক্ষিত শিশুদের প্রয়োজনে পর্যাপ্তভাবে সাড়া দেওয়ার জন্য এক লাখের বেশি সমাজকর্মী প্রয়োজন, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে মাত্র ৩ হাজার সমাজকর্মী রয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশ সরকার, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে, ঝুঁকির মুখে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক মানুষ, বিধবা, নিঃস্ব নারী এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাতা বিতরণ করছে। আমরা আমাদের শিশু নিবাস এবং আশ্রয় কেন্দ্রগুলিতে এতিম এবং ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের আশ্রয় প্রদান করি। ইউনিসেফ দেশের প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে তাদের সহায়তা দিয়ে আসছে। আমি আশা করি সারা দেশের সমাজকর্মীরা সাধারণ মানুষের জীবনের উন্নতির জন্য কাজ করে যাবেন।”
শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় সমাজকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টি তুলে ধরতে এবং সমাজসেবা কর্মীবাহিনীর ওপর বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানাতে ইউনিসেফ বছরব্যাপী প্রচারাভিযানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সমাজসেবা অধিদপ্তরের (ডিএসএস) সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি মি. শেলডন ইয়েট বলেন, “প্রয়োজনের সময় শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রতিটি সু-কার্যকর শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রশিক্ষিত সমাজকর্মীদের অবদান। আমাদের অবশ্যই তাদের কাজের স্বীকৃতি দিতে হবে এবং তাদের পেছনে বিনিয়োগ করতে হবে।”
ইতোমধ্যে ইউনিসেফ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তাপ্রাপ্ত সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে নিবেদিত সমাজকর্মীরা শহর ও গ্রামীণ কমিউনিটিগুলোতে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। এই সমাজকর্মীরা ২০২১ সালে ২ লাখের বেশি শিশুর কাছে সেবা পৌঁছে দিয়েছে, তাদের মনোসামাজিক সহায়তা প্রদান করেছে, ঘটনা ব্যবস্থাপনা পরবর্তী সেবা নিশ্চিত করেছে এবং রেফারেল পরিষেবা প্রদান করেছে। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে তারা শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র নামে পরিচিত আটককেন্দ্রগুলো থেকে ৫ হাজারের বেশি শিশুর মুক্তিতে সহায়তা দিয়েছে এবং এই শিশুদের তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনরায় একত্রিত হতে সহায়তা করেছে।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের প্রধান চার্লস হোয়াইটলি বলেন, “অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষিত সমাজকর্মীরা শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুদের সাথে এবং তাদের জন্য যেসকল সরকারি কর্মকর্তা, সমাজকর্মী ও বিশেষজ্ঞ কাজ করেন, ইইউ প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় শিশু সুরক্ষা নীতি বিকাশের মাধ্যমে তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা প্রদানে আগ্রহী। বাংলাদেশে শিশু অধিকারের সমস্যা সমাধানে অরক্ষিত কমিউনিটিগুলোতে কর্মরত সমাজকর্মীদের প্রচেষ্টাকে আমাদের স্বীকার করা উচিত।”
২০১৫ সালে ইউনিসেফের সহায়তায় সমাজসেবা অধিদপ্তর চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ প্রতিষ্ঠা করে, যা দেশব্যাপী একটি টোল-ফ্রি নম্বর। ২০২১ সালে হেল্পলাইনটি ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি শিশু এবং জনগোষ্ঠীর উদ্বিগ্ন সদস্যদের ফোন কলে সাড়া দেয় এবং তাদের আইনি সহায়তা, আশ্রয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা পরিষেবা বিষয়ে পরামর্শ ও রেফারেল সেবা প্রদান করে। ২০২০ সালে মহামারির চূড়ান্ত সময়ে চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮ সাড়া দেয় ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি ফোন কলে।
###
সম্পাদকদের জন্য নোট
হাই-রেস ছবি ডাউনলোড করুন এখানে
পিএসএ ভিডিও দেখুন এখানে
গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ
ইউনিসেফ সম্পর্কে
বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি।
ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org.
ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram এবং YouTube-এ।