নতুন বছরের শিশুরা: নতুন বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে আট হাজার চারশ'র বেশি শিশু জন্মগ্রহণ করবে - ইউনিসেফ

01 জানুয়ারি 2019
নবজাতক
UNICEF/UN0188859/Njiokiktjien

নিউইয়র্ক, ঢাকা, ১ জানুয়ারি ২০১৯ - ইউনিসেফ আজ জানিয়েছে, নতুন বছরের প্রথম দিনে বাংলাদেশে আনুমানিক ৮ হাজার ৪২৮ শিশু জন্মগ্রহণ করবে। নতুন বছরের প্রথম দিনে বিশ্বজুড়ে জন্মগ্রহণ করবে আনুমানিক মোট ৩ লাখ ৯৫ হাজার ৭২ শিশু, যার ২ দশমিক ১৩ শতাংশ জন্মাবে বাংলাদেশে।

বিশ্বজুড়ে শহরগুলোতে উৎসবমুখর মানুষ নানা আয়োজনে শুধু নতুন বছরকেই স্বাগত জানাবে না,একইসঙ্গে তাদের সবচেয়ে নতুন ও সবচেয়ে ছোট বাসিন্দাদেরও স্বাগত জানাবে। ঘড়ির কাঁটা যখন মধ্যরাত্রি নির্দেশ করবে তখন সিডনিতে আনুমানিক ১৬৮,টোকিওতে ৩১০, বেইজিংয়ে ৬০৫,মাদ্রিদে ১৬৬ ও নিউইয়র্কে ৩১৭ শিশু জন্মগ্রহণ করবে।

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ ফিজিতে খুব সম্ভবত ২০১৯ সালের প্রথম শিশুটির জন্ম হবে এবং ওইদিনের শেষ শিশুর জন্ম হবে যুক্তরাষ্ট্রে। নতুন বছরের প্রথম দিনে বিশ্বে জন্ম নেওয়া শিশুদের এক চতুর্থাংশের জন্ম হবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে। বৈশ্বিকভাবে বছরের প্রথম দিনে যত শিশুর জন্ম হবে তার প্রায় অর্ধেকের বেশি হবে আটটি দেশে:

১.     ভারত — ৬৯,৯৪৪

২.     চীন — ৪৪,৯৪০

৩.     নাইজেরিয়া — ২৫,৬৮৫

৪.     পাকিস্তান — ১৫,১১২

৫.     ইন্দোনেশিয়া — ১৩,২৫৬

৬.     যুক্তরাষ্ট্র — ১১,০৮৬

৭.     গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো — ১০,০৫৩

৮.     বাংলাদেশ — ৮,৪২৮

১ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে পরিবারগুলো অসংখ্য আলেকজান্ডার ও আয়েশা এবং ঝেং ও জায়নাবকে স্বাগত জানাবে। তবে বেশ কয়েকটি দেশে অনেক শিশুর এমনকি নাম রাখাও সম্ভব হবে না। কেননা এই শিশুরা তাদের জীবনের প্রথম দিনটি পার করার আগেই মৃত্যুবরণ করবে।

২০১৭ সালে প্রায় ১০ লাখ শিশু তাদের জন্মের প্রথম দিনেই এবং প্রায় ২৫ লাখ শিশু তাদের জীবনের প্রথম মাসেই মৃত্যুবরণ করে। এই শিশুদের বেশির ভাগেরই মৃত্যু হয় অপরিণত অবস্থায় জন্মগ্রহণ,প্রসবকালীন জটিলতা এবং দূষণ ও নিউমোনিয়ার সংক্রমণের মতো প্রতিরোধযোগ্য কারণে; যা তাদের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।

ইউনিসেফের উপনির্বাহী পরিচালক শার্লট পেত্রি গোর্নিৎজকা বলেন,''আসুন, নতুন এই বছরের প্রথম দিনে আমরা সবাই প্রতিটি শিশুর প্রতিটি অধিকার পূরণে সংকল্পবদ্ধ হই। আর এটা শুরু করি শিশুদের বেঁচে থাকার অধিকার নিশ্চিতের মাধ্যমেই। প্রতিটি নবজাতকের জন্মই যাতে নিরাপদ কারও হাতে হয় তার জন্য আমরা যদি স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদানে ও তাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদির যোগান দিতে বিনিয়োগ করি, তাহলে আমরা লাখ লাখ শিশুর জীবন বাঁচাতে পারি।''

২০১৯ সালে শিশু অধিকার বিষয়ক সনদ গ্রহণের ৩০ বছর পূর্তি হবে, যা এই বছরজুড়ে বিশ্বব্যাপী উদযাপন করবে ইউনিসেফ। এই সনদের আওতায় সরকারগুলো আরও অনেক কিছুর পাশাপাশি মানসম্মত উন্নত সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর জীবন বাঁচানোর পদক্ষেপ গ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত তিন দশকে শিশুমৃত্যুর হার কমায় বিশ্বব্যাপী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। এই সময়ে বিশ্বব্যাপী পঞ্চম জন্মদিনের আগেই শিশুমৃত্যুর হার অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। তবে নবজাতকদের ক্ষেত্রে এই অগ্রগতির হার কম। পাঁচ বছরের কম বয়সে যত শিশুর মৃত্যু হয় তাদের ৪৭ শতাংশই জীবনের প্রথম মাসে মারা যায়।

ইউনিসেফের এভরি চাইল্ড এলাইভ প্রচারাভিযান অবিলম্বে প্রতিটি মা ও নবজাতকের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা সমাধান প্রদানের জন্য বিনিয়োগের আহ্বান জানায়। সাশ্রয়ী ও মানসম্মত এসব স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপদ পানি ও বিদ্যুতের পর্যাপ্ত সরবরাহ, প্রসবের সময় একজন দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর উপস্থিতি, গর্ভধারণ, প্রসবের সময়ে জটিলতা প্রতিরোধে ও চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং কিশোরী ও নারীরা যাতে আরও ভালো ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবার দাবি জানাতে পারে সেজন্য তাদের ক্ষমতায়ন করা।

###

সম্পাদকদের জন্য নোট

১৯০টি দেশের জন্ম ও জীবনপ্রত্যাশা বা গড় আয়ুর সম্পূর্ণ তথ্যের জন্য এখানে ক্লিক করুন। ২০টি দেশে শিশুদের শীর্ষ ১০টি নাম এবং ২৬টি শহরজুড়ে জন্মগ্রহণ করা শিশুর সংখ্যা জানতে এখানে ক্লিক করুন। উপাত্তের জন্য ওয়ার্ল্ড ডাটা ল্যাবের সঙ্গে কাজ করেছে ইউনিসেফ।

জাতিসংঘের বিশ্ব জনসংখ্যা সম্ভাবনা (২০১৭) সময়সীমা সূচক ও জীবনপ্রত্যাশার সারণীতে জন্মগ্রহণ করা শিশুদের সংখ্যার হিসাব রয়েছে। এই উপাত্তসমূহের ভিত্তিতে ওয়ার্ল্ড ডাটা ল্যাবের (ডব্লিউডিএল) আলগরিদম প্রতিদিন দেশভিত্তিক জন্মগ্রহণ করা শিশুর সংখ্যা ও তাদের জীবনপ্রত্যাশা বা গড় আয়ু সম্পর্কে আভাস দেয়। যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক শহর এবং অঞ্চলগুলোতে জন্মগ্রহণ করা শিশুর সংখ্যা হিসাব করতেও একই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। তথ্য-উপাত্তের অন্য উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতিসংঘের উপাত্ত, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি সেবা ও বেশ কয়েকটি দেশের জাতীয় পরিসংখ্যান।

এই প্রতিবেদন সম্পর্কিত ছবি ডাউনলোড করার জন্য ভিজিট করুন এখানে

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

এএম শাকিল ফয়জুল্লাহ

ইউনিসেফ বাংলাদেশ

টেলিফোন: +8801713 049900

ফারিয়া সেলিম

ইউনিসেফ বাংলাদেশ

টেলিফোন: +8801817 586096

ইউনিসেফ সম্পর্কে

প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।

আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd

ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার