জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদের ৩০ বছর

শিশুরাই তাদের অধিকার সমুন্নত রাখার দায়িত্ব নিলো

23 নভেম্বর 2019
সিআরসি ফোরাম, ঢাকা
ইউনিসেফ

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯: ১৯৯০ সালে শিশু অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ সনদে (সিআরসি) স্বাক্ষর করার পর থেকে বাংলাদেশ শিশু অধিকার সুরক্ষায় অনেক উন্নতি করেছে। একই সাথে আরও অনেক কিছুই করা প্রয়োজন, কেননা শিশুদের একটি বড় অংশ এখনও অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে, যখন তারা স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি, শিক্ষা, সহিংসতা থেকে সুরক্ষা পাচ্ছে না এবং একবিংশ শতাব্দীর অনেক নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।

শনিবার বেশ কিছু শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের একটি দল নীতি-নির্ধারকদের মুখোমুখি হয়ে তাদের কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরে এবং নিয়মিতভাবে তারা যেসব সমস্যার সম্মুখীন হয় সেগুলোর সমাধান খোঁজার চেষ্টা করে।

সিআরসির ৩০তম বার্ষিকী ও বিশ্ব শিশু দিবস উপলক্ষে স্থানীয় একটি হোটেলে সিআরসি৩০ ফোরামের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অন্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া এবং শিশু অধিকার বিষয়ক সংসদীয় ককাসের সভাপতি শামসুল হক টুকু এমপি উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকার আলোচনা সভা আয়োজনের আগে বাংলাদেশ সরকার ও ইউনিসেফ তরুণ জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং যেসব নীতিমালা তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে সেসব নীতিমালা সম্পর্কে আলোচনায় তাদের সম্পৃক্ত করতে দেশের ৩০০ সংসদীয় নির্বাচনী এলাকার নির্বাচিত শিশুদের সঙ্গে শিশু অধিকার বিষয়ক আটটি বিভাগীয় সিআরসি৩০ ফোরামের সংলাপ আয়োজন করে। সর্বশেষ আলোচনাটি আয়োজন করা হয় ঢাকায়।

শিশুদের সঙ্গে তাদের নিজ নিজ সংসদীয় এলাকার আইনপ্রণেতাদের সাথে সরাসরি ও নিয়মিত আয়োজনকে একটা নতুন সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি তোমো হোজুমি বলেন: “ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে এই প্রচারণা শিশুদের অধিকার আরও সংহত করার লক্ষে একটি যুব ইশতেহার তৈরি ও বাস্তবায়নের মধ্যে দিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করার এবং নীতিনির্ধারকদের কাছে তা সুপারিশ আকারে তুলে সুযোগ করে দিয়েছে।”

তিনি বলেন, এটা নীতিনির্ধারক ও শিশু উভয়ের জন্যই একটি দারুণ সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে যেখানে তারা একে অপরের কথা শুনতে পারবে এবং যৌথভাবে সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করতে কাজ করতে পারবে।

বিভিন্ন শ্রেণি থেকে আসা শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত এই প্রতিনিধি দলটি একটি মানদণ্ডের ভিত্তিতে সিআরসি৩০ ঢাকা ফোরামে অংশ নেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছিল। এই উদ্যোগটি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীর মতামত, তাদের আগ্রহ এবং উদ্বেগের কথা সরাসরি শোনার জন্য একটি কাঠামোগত প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে।

গত তিন দশকে শিশু অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার ১৯৯০ সালে প্রতি ১,০০০ জীবিত জন্মে ১৫১ থেকে ২০১৯ সালে ৪০-এ নামিয়ে আনা, সম্পূর্ণভাবে টিকা পেয়েছে এমন শিশুর হার বৃদ্ধি পেয়ে তা ১৯৯১ সালে ৫২ শতাংশ থেকে ২০১৬ সালে ৮২ শতাংশে পৌঁছায়, শিশুদের মধ্যে খর্বকায়ত্ব ১৯৯৩ সালে ৭২ শতাংশ থেকে কমে তা ২০১৯ সালে ২৮ শতাংশে নেমে আসে, বিশুদ্ধ খাবার পানি প্রাপ্তির সুযোগ ১৯৯০ সালে ৭৯ শতাংশ থেকে বেড়ে তা ২০১৯ সালে ৯৮.৫ শতাংশে আসে, উন্নত স্যানিটেশনের সুযোগ ১৯৯০ সালে ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৯-এ তা ৮৫ শতাংশে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর হার ১৯৯০ সালে ৬৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০১৯ সালে ৮৬ শতাংশে উন্নীত হয়।

তারপরও এখনো ৬-১৫ বছর বয়সের ৪৩ লক্ষ শিশু স্কুলের বাইরে রয়েছে, পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪৪ শতাংশ শিশুরই আনুষ্ঠানিকভাবে জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন হয়নি। এছাড়াও পাঁচ বছরের কম বয়সী ৪৪ লাখেরও বেশি শিশু খর্বাকৃতির শিকার এবং প্রতি ১০ জনে ৯ জন শিশু তাদের প্রতিপালনকারীদের দ্বারা মানসিক কিংবা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। দেশে এখনো অর্ধেকের বেশি বিয়ে হয় ১৮ পেরুনোর আগেই। দশ লাখেরও বেশি তরুন বর্তমানে বেকার। তাছাড়া ১ কোটি ৯০ লাখ শিশুর জীবন জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে বিপন্ন।

তবে বাংলাদেশে গত তিন দশকে লক্ষণীয় যে যথেষ্ট রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা থাকলে বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব চ্যালেঞ্জই সার্থকভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব।

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

ফারিয়া সেলিম

ইউনিসেফ বাংলাদেশ

টেলিফোন: +8809604107077

এএম শাকিল ফয়জুল্লাহ

ইউনিসেফ বাংলাদেশ

টেলিফোন: +8801713 049900

ইউনিসেফ সম্পর্কে

প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।

আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd

ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার