কক্সবাজারের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কোভিড-১৯ আইসোলেশন ও চিকিৎসাকেন্দ্র চালু

31 আগস্ট 2020
কক্সবাজারের বাংলাদেশি কমিউনিটি ও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কোভিড-১৯ আইসোলেশন ও চিকিৎসাকেন্দ্র
UNICEF Bangladesh/2020/Lateef

ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০২০ – ইউনিসেফ আইসিডিডিআর,বি'র (আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ) সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা শরণার্থী– উভয় জনগোষ্ঠীতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের সংকটকালীন সেবা প্রদানে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আইসোলেশন ও চিকিৎসা কেন্দ্র পরিচালনায় সহায়তা দিচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহযোগিতায় ‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপাইরেটরি ইনফেকশন আইসোলেশন অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার'  (এএআরআইআইটিসি) নামের চিকিৎসা কেন্দ্রটি ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালনা করবে আইসিডিডিআর,বি।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি তোমু হোজুমি এ বিষয়ে বলেন, “বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা এখনও বেড়েই চলেছে। জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে নজিরবিহীন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে ইউনিসেফ নিবিড়ভাবে বাংলাদেশ সরকার এবং উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।”

অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি কোভিড-১৯ এর সঙ্গে সম্পর্কিত সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ, আক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং উপাত্ত ব্যবস্থাপনা-সম্পর্কিত বিষয়গুলো জোরদারে সহায়তা করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ। এ ছাড়াও ইউনিসেফ জাতীয় পর্যায়ে এবং একইসঙ্গে কক্সবাজারে বসবাসরতদের মাঝে কোভিড-১৯ প্রতিরোধ এবং আক্রান্তদের চিকিৎসায় সহায়তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সামগ্রী ক্রয় করছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, “জীবন বাঁচাতে ইউনিসেফ এবং আইসিডিডিআর,বি'র সঙ্গে হাতে হাত রেখে একসঙ্গে কাজ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কোভিড-১৯ আইসোলেশন ও চিকিৎসা কেন্দ্রটি এক্ষেত্রে একটি বড় পদক্ষেপ।” 

চিকিৎসা কেন্দ্রটি টেকনাফ উপজেলায় বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা– উভয় জনগোষ্ঠীতে কোভিড-১৯ শনাক্ত ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের অক্সিজেন থেরাপিসহ চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। এটি প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকবে এবং  চিকিৎসক, নার্স, রোগীর পরিচর্যাকারী, ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান, ফার্মাসিস্ট ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ অগ্রভাগে থাকা তিনশ’রও বেশি উচ্চ প্রশিক্ষিত ও নিবেদিত কর্মী দ্বারা পরিচালিত হবে। যেসব গুরুতর রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাসের জন্য যান্ত্রিক ভেন্টিলেশনের প্রয়োজন হবে, তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর জেলা হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হবে। বর্জ্য সামগ্রীর নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য একটি ইনসিনিটার বা বর্জ্য পোড়ানোর চুল্লি স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়াও কোভিড-১৯ রোগের বিস্তার রোধে এই কেন্দ্রের সচেতনতা কর্মসূচি থাকবে।

কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, “জনসংখ্যার ঘনত্ব খুব বেশি হওয়ার কারণে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির কোভিড-১৯ মহামারির জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। এই কেন্দ্র বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা– উভয় জনগোষ্ঠীকে গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রদান করবে।”

আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. জন ডেভিড ক্লেমেন্স বলেন, “এই ব্যতিক্রমী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে ইউনিসেফের সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে পেরে আমরা গর্বিত। এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের যেসব কর্মী অগ্রভাগে রয়েছে তাদের প্রচেষ্টাকে আমরা সাধুবাদ জানাই।”

 

সম্পাদকদের জন্য নোট:

কক্সবাজারের সিভিল সার্জন কার্যালয় এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বে জেলায় কোভিড -১৯ মোকাবিলা কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্বাস্থ্য খাত।

মানবিক সহায়তা প্রদানকারী কমিউনিটি রোহিঙ্গা শরণার্থী এবং স্থানীয় অধিবাসী– উভয় জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদানে কক্সবাজার জেলায় মোট ১৭টি এসএআরআই আইটিসি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করছে। এসএআরআই আইটিসিগুলো পরিচালিত হচ্ছে আইওএম, ইউএনএইচসিআর, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ফুড ফর দ্য হাঙ্গরি/মেডিকেল টিমস ইন্টারন্যাশনাল (এফএইচ/এমটিআই), হোপ ফাউন্ডেশন, আইসিডিডিআর,বি, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব রেড ক্রস অ্যান্ড রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিস, ইন্টারন্যাশনাল রেড ক্রস, রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল, মেডিসিন সানস ফ্রন্টিয়ার এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায়। ১৩টি কেন্দ্র ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে।

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

ফারিয়া সেলিম
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8809604107077
ই-মেইল: fselim@unicef.org
অমিত মল্লিক
কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট
এসএআরআই আইটিসি, আইসিডিডিআর,বি
ই-মেইল: amit1554@yahoo.com

ইউনিসেফ সম্পর্কে

প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।

আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd

ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার

 

আইসিডিডিআর,বি সম্পর্কে

আইসিডিডিআর,বি বাংলাদেশে অবস্থিত একটি আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান। ১৯৬০ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিডিডিআর,বি দরিদ্র জনগোষ্ঠী যেসব জটিল স্বাস্থ্যজনিত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয় তার সাশ্রয়ী চিকিৎসাসেবা বের করার ক্ষেত্রে অগ্রভাগে রয়েছে এবং বৃহত্তর পরিসরে তাদের কার্যক্রমের কার্যকারিতার দৃঢ় প্রমাণ দিয়ে যাচ্ছে। গবেষণা ও চিকিত্সার মাধ্যমে জীবন বাঁচাতে নিজেদের উত্সর্গ করা আইসিডিডিআর,বি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা নিয়ে কাজ করছে।

আইসিডিডিআর,বিকে অনুসরণ করুন TwitterFacebook-এ।