ইউনিসেফের জরিপ: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘিরে তরুণদের মানসিক চাপের সবচেয়ে বড় কারণ ভুল তথ্য, এর পরে রয়েছে বুলিংয়ের (হেয় করা) কনটেন্ট
তরুণ-তরুণীদের নিয়ে করা এই জরিপে অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষতিকর আচরণ বন্ধে নিয়ম-নীতি কঠোর করার পক্ষে বলেছেন। নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস ২০২৫- এ অনলাইনে শিশুদের অধিকারসমূহ রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।
- বাংলা
- English
ঢাকা, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫- সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘খুব বেশি পরিমাণে ভুয়া খবর ও ভুল তথ্য’ মানসিক চাপ তৈরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে কাজ করছে বলে দুই তৃতীয়াংশ তরুণ-তরুণী জানিয়েছে; নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস উপলক্ষে শিশু ও তরুণ-তরুণীদের ওপর ইউনিসেফ বাংলাদেশ পরিচালিত একটি জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। বুলিং (অপদস্থ বা হেয় করা) ও নেতিবাচক মন্তব্যকে সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেছে জরিপে অংশগ্রহণকারীদের প্রায় এক অষ্টমাংশ, যেখানে কন্যাশিশুদের সংখ্যা সামান্য বেশি। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষতিকর/মন খারাপ করার মতো আধেয় (কনটেন্ট) দেখাকে মানসিক চাপের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে অপর ১৪ শতাংশ তরুণ-তরুণী।
নিরাপদ ইন্টারনেট দিবস উপলক্ষে ইউনিসেফের প্ল্যাটফর্ম ইউ-রিপোর্ট এই জরিপ পরিচালনা করেছে। তাতে প্রায় ২৯ হাজার শিশু ও তরুণ-তরুণী অংশ নিয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী এই শিশু ও তরুণ-তরুণীদের কাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আধেয় (কনটেন্ট) নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ম-নীতি থাকা প্রয়োজন কি না সে বিষয়ে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। মতামত প্রদানকারীদের মধ্যে একটি ছোট সংখ্যা (২৩ শতাংশ) বলেছে যে, এমন নিয়ম প্রয়োগ করলে মানুষ সত্যিকারে কী ভাবছে সেটা প্রকাশ করা বন্ধ করে দিতে পারে। কিন্তু এর দ্বিগুনেরও বেশি (৫২ শতাংশ) উত্তরদাতা বলেছে, বুলিং (অপদস্থ বা হেয় করা) ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের মতো ক্ষতিকর আচরণ বন্ধ করার জন্য কিছু নিয়ম থাকাটা গুরুত্বপূর্ণ।
প্রচলিত নিয়মগুলো শিথিল করা হলে কী ঘটতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ৭৯ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছে, তাদের কমিউনিটির অসহায় জনগোষ্ঠী তখন ক্ষতির শিকার হতে পারে। এতে যারা আক্রান্ত হতে পারে বলে তারা মনে করে, সেই সব জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় (৩০ শতাংশ ভোট দিয়েছে), শিশু ও তরুণ-তরুণী (২৬ শতাংশ ভোট দিয়েছে) এবং নারী ও কন্যাশিশু (২৩ শতাংশ ভোট দিয়েছে)।
“ইতিমধ্যেই দুঃখজনক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমরা জেনেছি যে ভুল তথ্য ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের প্রভাব কেবল অনলাইন জগতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বাস্তব জীবনেও এর ভয়ংকর পরিনতি দেখা যায়, যা শিশুদের মানসিক এবং শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলে, বিশেষ করে সেসকল শিশুদের যারা ইতিমধ্যেই নানাবিধ বৈষম্যের শিকার, যেমন মেয়ে এবং সংখ্যালঘু কমিউনিটির শিশুরা”, বলেছেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্ল্যাওয়ার্স। “আধুনিক বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা জানে যে, ডিজিটাল জগত যোগাযোগ, শেখা ও উন্মুক্ত আলোচনার জন্য সহায়ক সুযোগগুলো তৈরি করে দেয়। কিন্তু এখন তারা ঝুঁকিগুলোও বুঝতে পারছে, নিয়ম-নীতির ঘাটতির কারণে এই জায়গায় অনেকে নিজেকে অনিরাপদ মনে করছে।”
জরিপে উত্তরদাতাদের অর্ধেকেরও বেশি বলেছেন যে তারা সোশ্যাল মিডিয়াতে এখন যে ধরনের বিষয়বস্তু দেখছেন তাতে পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন, এর প্রভাব সম্পর্কে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে - ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন যে তারা অনলাইনে কম নিরাপদ বোধ করছেন।
“শিশু ও তরুণ-তরুণীরা যেন অনলাইনে সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পায়, কীভাবে ভুল তথ্যের ভিড়েও সত্যটা বের করতে হয়, নিরাপদে অনলাইনে বিচরণ করতে হয়, ক্ষতিকর আধেয় (কনটেন্ট), বুলিং ও হয়রানি থেকে কীভাবে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে হয় সেসব বিষয়ে যেন তারা সচেতন থাকে তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের সবার। এর মধ্যে নীতি-নির্ধারক, নিয়ন্ত্রক, বৃহৎ প্রযুক্তি কোম্পানি, প্রশিক্ষক, বাবা-মা ও সেবাদাতা এবং যে তরুণেরা এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে তাদেরও এই দায়িত্ব রয়েছে,” বলেন রানা ফ্ল্যাওয়ার্স।
ইউনিসেফ এমন এক পরিবেশ তৈরিতে সহায়তার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যেখানে বাংলাদেশের শিশুরা ক্ষতিকর আধেয় (কনটেন্ট), বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও ভুল তথ্য থেকে নিরাপদ বোধ করে। বৈশ্বিক ডিজিটাল পরিবেশে ক্রমশ জটিল হতে থাকা বাস্তবতায়ও কীভাবে শিশু ও তরুণ-তরুণীদের জন্য নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ।
ইউনিসেফ নিন্মোক্ত বিষয়গুলোতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য নীতি-নির্ধারকবৃন্দ, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রযু্ক্তি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে যেন তারা:
• শিশুদের সুরক্ষা এবং অনলাইনে তাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার সমুন্নত রাখতে মডারেশন ব্যবস্থা ও নীতি গ্রহণ করে;
• নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ক্ষমতায়িত ডিজিটাল স্পেস তৈরী করে, যেখানে প্রতিটি শিশু কোনো ধরনের ভয় ছাড়া নিজেকে প্রকাশ করতে পারবে;
• তরুণদেরকে ডিজিটাল লিটারেসি (স্বাক্ষরতা) শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে এমনভাবে দক্ষ করে তোলে যাতে তারা কার্যকরভাবে অনলাইন তথ্য মূল্যায়ন/যাচাই করতে পারে, ভুল তথ্য শনাক্ত করতে পারে এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল যোগাযোগে যুক্ত হতে পারে;
সম্পাদকদের জন্য নোট:
ছবি ডাইনলোড করুন এখানে।
গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ
ইউনিসেফ সম্পর্কে
বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি।
ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org/bangladesh/
ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram এবং YouTube-এ।
ইউ-রিপোর্ট
হল একটি বিনামূল্যের সামাজিক বার্তাপ্রেরণ সরঞ্জাম যা বিশ্বের যেকোন স্থান থেকে যে কাউকে তাদের পছন্দের বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলার সুযোগ দেয়৷ ইউনিসেফ এবং অংশীজনেরা মিলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের মতামত জানা ও বোঝার জন্য প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছে। ইউ-রিপোর্ট নাগরিক-নেতৃত্বাধীন উন্নয়নকে উত্সাহিত করে, মানবিক জরুরী পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবার ক্ষেত্রে সহায়তা করে এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী এই মতামতগুলোকে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।
কিশোর-কিশোরীএবং তরুন-তরুনীরা এসএমএস (ক্ষুদে বার্তা) বা সোশ্যাল মিডিয়ার (ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা ভাইবার) মাধ্যমে এই প্ল্যাটফর্মে যোগ দিয়ে ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে, উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারে, শিশু অধিকারকে সমর্থন করতে এবং তাদের কমিউনিটির উন্নতির জন্য কাজ করতে পারে। বর্তমানে, ১০২ টিরও বেশি দেশে ৩৭ মিলিয়নেরও বেশি ইউ-রিপোর্টার রয়েছে।
আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুনঃ https://bangladesh.ureport.in/