প্রতিটি শিশুর জন্য সুরক্ষাঃ দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি চালু

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সের বিবৃতি:

20 এপ্রিল 2026
A smiling child with vaccination card
UNICEF/2026/Mukut

ঢাকা, ২0 এপ্রিল ২০২৬-“বাংলাদেশে এই হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শুরু হচ্ছে। হামে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনার পরএখন ২০ এপ্রিল থেকে দেশজুড়ে এই কর্মসূচি চালু হচ্ছে—যা শিশুদের জীবন রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষিত করা; অতঃপর এই মারাত্মক রোগ থেকে স্বস্তি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

“ইউনিসেফ, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করছে; পরিকল্পনা প্রণয়ন, কমিউনিটিকে সংগঠিত মোবিলাইজ করা, টিকা সরবরাহ ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা, যোগাযোগ এবং মাঠ পর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সহায়তা করছে। টিকার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বৃহৎ পরিসরে এই জীবন রক্ষাকারী কর্মসূচি পরিচালনা সম্ভব করার ক্ষেত্রে গ্যাভি, দ্যা ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি, এই টিকাদান প্রচেষ্টা জোরদার ও সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে মূল্যবান সহায়তা প্রদান করার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি

এই কর্মসূচির আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে হাম-রুবেলা টিকা দেওয়া হবে—আগে এই টিকা নিয়ে থাকলেও, এই বয়সী সব শিশুকে আবারও এই টিকা নিতে হবে। এই বয়সের শিশুরাই সংক্রমণ ও গুরুতর অসুস্থতার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এই টিকা কর্মসূচি সহজ তবে খুবই কার্যকর একটি উদ্যোগযা বড় পরিসরে সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

“টিকা দেওয়া হবে মূলত বিদ্যমান সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কেন্দ্রগুলোতে। কর্মজীবী বাবা-মায়েরাও যেন সহজে সন্তানদের টিকা কেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারেনসেজন্য শহরগুলোতে সন্ধ্যায়ও টিকা প্রদানের ব্যবস্থা  করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়মাদ্রাসা, প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার কমিউনিটি, বাস-রিক্সা-ট্রেন স্টেশনসহ যেসব জায়গায় মানুষের সমাগম বেশি সেসব জায়গা এবং যেসব এলাকায় শিশুদের টিকাদানের হার কম সেসব এলাকায় আবারো এই টিকা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। পাশাপাশি, টিকা প্রদানকারীরা ঘরে ঘরে গিয়ে এক ডোজও টিকা না পাওয়া অথবা টিকার আংশিক ডোজ পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করবেন। এসব কর্মসূচির একটিই লক্ষ্য - প্রতিটি শিশুর জন্য টিকা নিশ্চিত করা এবং অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা।

৫ এপ্রিল জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে আমরা ভালো অগ্রগতি দেখছি। ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১৬ লাখ শিশু—লক্ষ্যমাত্রার ৭৩ শতাংশ—ইতিমধ্যে টিকা পেয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মী ও কমিউনিটির নিরলস প্রচেষ্টাকে ইউনিসেফ সাধুবাদ জানায়।

তবুও পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক ১,১৯৭টি হামের ঘটনার তথ্য পাওয়া গেছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম সংক্রমণের সংখ্যা সর্বমোট ২৩,৬০৬ জনে দাঁড়িয়েছে; একই সময়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এগুলো কেবল সংখ্যা নয়—এর পেছনে রয়েছে শিশুপরিবার ও পুরো কমিউনিটির কষ্ট- হারানোর বেদনা।

“এই পরিস্থিতি আমাদের যে বার্তা দেয় তা খুবই স্পষ্ট: সুরক্ষার ক্ষেত্রে সামান্য ঘাটতিও গুরুতর পরিণতি নিয়ে আসতে পারে। হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। শিশুরা পরিপূর্ণভাবে সুরক্ষিত না থাকলে ভাইরাস তাদের ধরে ফেলবে। যেসব শিশু সময়মতো দ্বিতীয় ডোজ টিকা পায়নি বা দুই ডোজের কোনোটিই পায়নি অথবা যেসব শিশুর এখনো টিকা নেওয়ার বয়স হয়নি এবং যে শিশুদের সুরক্ষা তাদের আশপাশে থাকা মানুষের ওপর নির্ভর করে- এই সব শিশুরাই প্রথমে আক্রান্ত হওয়ার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

“এ কারণেই দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি এতটা গুরুত্বপূর্ণ। চলমান রোগের প্রাদুর্ভাব ও পরিস্থিতি মোকাবিলা করাই কেবল এই কর্মসুচির একমাত্র লক্ষ্য নয়, বরং সময়ের সাথে সাথে শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে তৈরি হওয়া ঘাটতি পূরণ, টিকা না পাওয়া প্রতিটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং কমিউনিটি পর্যায়ে শিশুদের শক্তিশালী সুরক্ষা পুনর্জ্জীবিত করার সুযোগ তৈরী হয়েছে এই কর্মসূচির মাধ্যমে। টিকা জীবন বাঁচায়। টিকা যে সুরক্ষা দেয় তার প্রমাণ আমরা প্রতিদিন পাই এবং শিশুরা টিকা না পেলে তার জন্য যে মূল্য দিতে হয়, সেটাও আমরা দেখতে পাই।

“হাম-রুবেলার এক ডোজ টিকা প্রায় ৮৫ শতাংশ সুরক্ষা দেয় এবং শিশু দুই ডোজ টিকা পেলে এই সুরক্ষার হার প্রায় ৯৫ শতাংশে পৌঁছায়। যখন শিশুদের সময়মতো টিকার ডোজ দেওয়া না হয়, তখন নীরবে সুরক্ষার ঘাটতি বাড়তে থাকে আর আমরা যখন তা টের পাই ততক্ষনে রোগ অনেকটাই ছড়িয়ে পড়ে। এই টিকাদান কর্মসূচি আমাদের এধরনের পরিস্থিতি যেন আর না ঘটে তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।

আমাদের অংশীজনদের সঙ্গে এবং দেশের স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা নিশ্চিত করছি যেন দেশের প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকাসহ সব জায়গায় টিকা পৌঁছে যায়।

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীনে প্রাথমিকভাবে দ্রুত জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা এবং অল্প সময়ের মধ্যে এখন দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে টিকাদান শুরু করার মধ্য দিয়ে সরকার সংকট মোকাবিলার যে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়েছে ও আন্তরিকতা দেখিয়েছে, সেজন্য আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রশংসা করছি। জীবন রক্ষা করতে প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব।

প্রতিটি প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার মাধ্যমে দেশ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট—১ কোটি ৭৮ লাখের বেশি শিশুর কাছে পৌঁছানোকমপক্ষে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা এবং কোনো শিশু যেন টিকা পাওয়া থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করা।”
 

### 

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

মিগেল মাতেওস মুনোজ
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801713043478
ই-মেইল: [email protected]
ফারিয়া সেলিম
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801817586096
ই-মেইল: [email protected]

ইউনিসেফ সম্পর্কে

বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি।

ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org/bangladesh/

ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram এবং YouTube-এ।