শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ ২০২৬-এর যাচাইকরণ কর্মশালা বাংলাদেশে প্রমাণভিত্তিক শিক্ষা সংস্কার এগিয়ে নিচ্ছে
- বাংলা
- English
ঢাকা, ১৪ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ সরকার, গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশনের (জিপিই) আওতায় ইউনিসেফ ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যৌথভাবে শিক্ষা খাত বিশ্লেষণ (ইএসএ)–২০২৬ বিষয়ে একটি যাচাইকরণ কর্মশালার আয়োজন করে। রাজধানীর বনানীতে অবস্থিত হোটেল শেরাটনে আয়োজিত কর্মশালাটিতে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী, শিক্ষা বিশেষজ্ঞ , শিক্ষাবিদ, গবেষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকসহ শতাধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন।
ইএসএ–২০২৬ বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের একটি বিশদ ও প্রমাণভিত্তিক পর্যালোচনা, যেখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত সব স্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষক উন্নয়ন, প্রশাসন, অর্থায়ন, অন্তর্ভুক্তি, প্রযুক্তি ব্যবহার ইত্যাদি আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ও ইএসএ ২০২৬–এর অন্তর্ভুক্ত।
ইএসএ–২০২৬ বর্তমানে খসড়া অবস্থায় রয়েছে; এতে ব্যাপক তথ্য বিশ্লেষণ ও দেশব্যাপী আলোচনা–পরামর্শ থেকে পাওয়া মূল বিষয়গুলো ও সুপারিশমালা উপস্থাপন করা হয়েছে। যাচাইকরণ কর্মশালাটি অংশীজনদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে, যেখানে তাঁরা প্রমাণসমূহ পর্যালোচনা, মতামত প্রদান এবং শিক্ষা সংস্কারেরর ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের বিষয়ে ঐকমত্য জোরদার করার সুযোগ পান।
ইএসই–২০২৬ বাংলাদেশে শিক্ষানীতি, পরিকল্পনা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। আশা করা হচ্ছে যে বিকাশমান জাতীয় অগ্রাধিকারসমূহ এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে শিক্ষার ফলাফল উন্নয়ন, সমতা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাগত সংস্কারের প্রয়াসে এটি সহায়তা জোগাবে।
ইএসইতে উল্লেখিত প্রধান প্রবণতাসমূহ
- অবিরাম অগ্রগতি, তবে স্থায়ী ঘাটতি: শিক্ষাক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার ও ছেলে–মেয়ে সমতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হলেও প্রাথমিক স্তরে ‘শেষ ধাপের’ চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সব স্তরে উচ্চ হারে ঝরে পড়ার অর্থ হচ্ছে অনেক শিশু মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারছে না।
- শেখার সংকট রয়ে গেছে, অর্ধেক শিশুর মৌলিক সাক্ষরতা নেই, প্রতি তিনজনের একজন মৌলিক সংখ্যাজ্ঞান অর্জন করতে পারে না, যা গুরুতর মনোযোগ দাবি করে: পড়া, লেখা, অংক করা, শিক্ষাদানের মান ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক দক্ষতার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া প্রয়োজন।
- সমতা নিয়ে উদ্বেগ: নিম্ন-আয়ের পরিবারের শিশুরা, প্রত্যন্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার শিশুরা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীগুলোর শিশুরা এবং প্রতিবন্ধী শিশুরা ক্রমাগতভাবে বৈষম্যের শিকার হয়ে চলেছে।
- ব্যবস্থাগত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা: বিচিত্র ও বহুমুখী সেবাদান ব্যবস্থার দৃশ্যপটে আরও শক্তিশালী ব্যবস্থাপনা, সুশাসন ও কর্মসমন্বয় প্রয়োজন।
- অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা: বিনিয়োগ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিচে রয়ে গেছে; দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন। যেসব পরিবারকে ছেলেমেয়ের শিক্ষার পেছনে নিজেদের অর্থ ব্যয় করতে হয়, তাদের ওপর আর্থিক চাপ পড়ে।
- পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপট: জলবায়ু পরিবর্তন, জনমিতিগত পরিবর্তন, ডিজিটাল রূপান্তর এবং শ্রমবাজারের চাহিদার কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারগুলো পরিবর্তিত হচ্ছে।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথিদের মধ্যে ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব ববি হাজ্জাজ; কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব মো. দাউদ মিয়া; জিপিই বোর্ডের সদস্য ও গণস্বাক্ষরতা অভিযান এর নির্বাহী পরিচালক মিসেস রাশেদা কে চৌধুরী; বাংলাদেশে ইউনিসেফ–এর প্রতিনিধি মিসেস রানা ফ্লাওয়ার্স; ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের ডেপুটি ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর মার্টিন ডসন ও ডেলিগেশন অব দ্যা ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন টু বাংলাদেশ–এর হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো–অপারেশন মিখাল ক্রেইজা।
কর্মশালাটির মাধ্যমে ইএসএ-র ফলাফলগুলো নিয়ে সবার মধ্যে একটি যৌথ বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং তৈরি হয়েছে শিক্ষা খাত বিষয়ক প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত করার পথ । ইএসএ–২০২৬ শীর্ষক প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত ও অনুমোদিত হওয়ার পর তা থেকে বাংলাদেশে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কৌশলগত শিক্ষা সংস্কার, পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দিকনির্দেশনা মিলবে।
###
গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ
ইউনিসেফ সম্পর্কে
বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি।
ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org/bangladesh/
ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter, Facebook, Instagram এবং YouTube-এ।