ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তনের জন্য কৈশোর প্রচারাভিযান শুরু
- বাংলা
- English
ঢাকা, ৩১ জুলাই, ২০১৮: দশ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরী জনগোষ্ঠী, যারা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ, তাদের ওপর ক্রমবর্ধমান হারে গুরুত্ব বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ সরকার ও উন্নয়ন অংশীদাররা, যাতে এই জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটানো যায়।
জীবনের কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কল্যাণ, সুরক্ষা এবং অংশগ্রহণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে উপাত্ত ও প্রমাণ তৈরি, নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেবা প্রদানে বিশেষ ভুমিকা রাখবে এই প্রচারাভিযান।
দেশে ইতিবাচক প্রথার প্রচলন বজায় রাখতে 'পাওয়ার অব অ্যাডলেসেন্টস' বা 'কৈশোরের শক্তি' উদযাপনে ইউনিসেফের সহায়তায় নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আজ একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ, ডিএফআইডি, সিআইডিএ, নেদারল্যান্ডস দূতাবাস, পিসিআই মিডিয়া, গ্রামীণফোন, এইচঅ্যান্ডএম, চ্যানেল আই ও স্বর্ণকিশোরী ফাউন্ডেশনের সহায়তায় কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে গণমাধ্যম-ভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানের উন্মোচন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি এমপি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক জিন গফ।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদার অনুষ্ঠানে বলেন, 'নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে যে কৈশোরকালীন মস্তিষ্ক একটি চলমান কর্ম প্রক্রিয়া যা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে শিশুদের জীবনের দ্বিতীয় দশকে তাদের বিকাশকে প্রভাবিত করে।' তিনি আরও বলেন, 'কিশোর-কিশোরীরা যাতে নিরাপদ পরিবেশে তথ্য অনুসন্ধান করতে, শিখতে ও তাদের নিজেদের প্রকাশ করতে পারে এবং তাদের পরিবার ও কমিউনিটিতে পরিবর্তনের সূচনা ঘটাতে পারে সেজন্য তাদের সম্পৃক্ত ও ক্ষমতায়িত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, এই জনগোষ্ঠীর শক্তিকে কাজে লাগাতে এবং দেশের ভেতরে তাদেরকে পরিবর্তনের অনুঘটকে পরিণত করতে কিশোরীদের সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।
কিশোর-কিশোরীদের সম্পৃক্ততা ও ক্ষমতায়ন বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে 'পাওয়ার অব অ্যাডলেসেন্টস' উদযাপনে গণমাধ্যম ও যোগাযোগভিত্তিক বেশ কিছু উদ্যোগ চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কিশোর-কিশোরী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ায় উৎসাহ দিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পিসিআই মিডিয়ার কারিগরি সহায়তায় ইউনিসেফ, চ্যানেল আই ও স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক নির্মিত প্রতিযোগিতামূলক রান্নার অনুষ্ঠান স্বর্ণ শেফ। অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের সহযোগিতার ভিত্তিতে ইউ-রিপোর্ট চালু করা হয়। ইউ-রিপোর্ট হচ্ছে তরুণদের জন্য মোবাইল ফোনভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের একটি টুল; যা তাদের তথ্যপ্রাপ্তি, নিজেদের সম্পর্কিত বিষয়ে কথা বলা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে প্রচারণার সুযোগ করে দেয়। এটি একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ, ৫০টির বেশি দেশে যার ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫৫ লাখেরও বেশি এবং বাংলাদেশ হচ্ছে এই উদ্যোগে নতুন সংযোজন।
ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ, পিসিআই মিডিয়া ও এশিয়াটিক এমসিএলের সহায়তায় নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং তথ্য মন্ত্রণালয় 'ইচ্ছেডানা' নামে ২৬ পর্বের একটি নতুন প্রমাণভিত্তিক কিশোরীকেন্দ্রীক ধারাবাহিক নাটক চালু করেছে। বাংলাদেশের কিছু মেয়ের জীবনযাত্রা এতে তুলে ধরা হয়েছে, যে মেয়েরা কৈশোরকালীন চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকির সম্মুখীন হয়েছে এবং তা থেকে নিজেদের উত্তরণ ঘটিয়েছে।
সবশেষে শিশুবিয়ে বন্ধে ২০১৭ সালে শুরু হওয়া প্রথম পর্যায়ের প্রচারাভিযানের সাফল্যের ওপর ভর করে পুরস্কার-বিজয়ী এই প্রচারাভিযানের দ্বিতীয় পর্যায় চালু করে নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইউনিসেফ ও ইউএনএফপিএ। সর্বজনীন ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে শিশুবিয়ে প্রতিরোধ এবং দেশে শিশুবিয়ে বন্ধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ নাগরিকরা যে ভূমিকা পালন করেন তা তুলে ধরাই চলমান উদ্যোগের লক্ষ্য।
সহযোগীদের অবদানঃ
- প্রচারাভিযানে গৃহীত কর্মকাণ্ড গুলি বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয় ও কিশোর কিশোরীদের সাথে মতবিনিময়য়ের মাধ্যমে গ্রহন করা হয়েছে
- প্রচারাভিযানে গৃহীত কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে ক্যানাডা, যুক্তরাজ্য, ও ডাচ সরকার এবং বেসরকারি খাত সহযোগী এইচএন্ডএম
- ইউনিসেফের সার্বিক কারিগরী সহায়তায় ও ইউএনএফপিএ-এর অংশগ্রহনে শিশু বিয়ে বন্ধ সংক্রান্ত প্রচারাভিযান ও কিশোর কিশোরীদের নাটক নির্মাণ করা হয়
- চ্যানেল আই ও স্বর্ণকিশোরী ফাউনডেশনের সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয় স্বর্ণ শেফ বা প্রতিযোগিতামূলক রান্নার অনুষ্ঠান
- ইউ-রিপোর্টের সফল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গ্রামীণ ফোন দেশের সর্বপ্রথম টেলিফোন অপারেটর। গ্রামীণ ফোন বিনামূল্যে সেবা প্রদান করে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে
- পিসিআই মিডিয়া – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যা বিনোদনমূলক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে – টিভি অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে
- প্রচারাভিযানের সার্বিক সৃজনশীল ও আনুষ্ঠানিক কাজে সহায়তা করেছে এশিয়াটিক এমসিএল
গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ
ইউনিসেফ সম্পর্কে
প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।
আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd
ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার