মহামারি-পরবর্তী বিশ্বের শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে টিকার প্রতি আস্থা গড়ে তোলা, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলা করা ও ডিজিটাল বিভাজন দূর করা – ইউনিসেফ

কোভিড-১৯ পরবর্তী নতুন এক বিশ্ব কল্পনা করার বিষয়ে এক খোলা চিঠিতে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক বৈশ্বিক মহামারি থেকে পাঁচটি শিক্ষা তুলে ধরেছেন

17 ফেব্রুয়ারি 2021
Mother and child, India
UNICEF/UNI341033/Panjwani

নিউইয়র্ক/ঢাকা, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ – ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর আজ তার বার্ষিক খোলা চিঠিতে বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারি আন্তর্জাতিক কমিউনিটির সামনে শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় যে কাজগুলো করার সুযোগ তৈরি করেছে তার মধ্যে রয়েছে ভ্যাকসিনের প্রতি বৈশ্বিক আস্থা ফিরিয়ে আনা, তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা, জলবায়ু পরিবর্তন সামাল দেওয়া এবং ডিজিটাল বিভাজন দূর করা।

বিশ্বব্যাপী ইউনিসেফের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপনের মাঝে প্রকাশিত এই চিঠিতে ফোর তুলে ধরেছেন যে, বিশ্ব যখন বৈশ্বিক মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, তখন শিশুদের জন্য আরও উপযোগী একটি বিশ্বের কথা পুনরায় কল্পনা করার যে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগগুলো এই মহামারি নিয়ে এসেছে তা আমাদের কীভাবে গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ফোর লিখেছেন, “আমরা যখন ইউনিসেফের ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপন শুরু করি তখন এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আরও একটি ঐতিহাসিক সংকটের মাঝে এই সংস্থাটি গড়ে তোলা হয়েছিল। সেই সময়ে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিশ্বে শিশুরা যে পরিমাণ সমস্যার মুখোমুখি হয়েছিল তা দেখে হতবিহ্বল হওয়া অনেক সহজ হতো। তবে আমরা  পুনরায় এমন স্বপ্ন দেখেছিলাম যা সম্ভব ছিল। আমরা বিশ্বজুড়ে নতুন স্বাস্থ্য ও কল্যাণ ব্যবস্থা তৈরি করেছি। আমরা স্মলপক্স ও পোলিওকে পরাজিত করেছি। আমরা জাতিসংঘ গড়ে তুলেছি। এই প্ৰেক্ষাপটে ইতিহাস আমাদের এগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়।”

টিকা সম্পর্কে ফোর সতর্ক করে দিয়ে বলেন যে, টিকা নিয়ে দ্বিধাগ্রস্থতা কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আমাদের সক্ষমতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে। ফোর লিখেছেন, এমনকি টিকা সংগ্রহ, পরিবহন ও বিশ্বব্যাপী সরবরাহে সহায়তার জন্য আমরা যখন সরকার, অংশীদার ও দাতাদের সঙ্গে কাজ করি, তখনও জনসাধারণ যাতে এটা গ্রহণ করে সে জন্য টিকার ওপর আমাদের অবশ্যই আস্থা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, “আস্থা ব্যতীত, টিকাগুলো কেবল চিকিৎসকের আলমারিতে থাকা দামি ওষুধের শিশি।”

মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে চিঠিতে ফোর বলেন, কোভিড-১৯ শিশু ও তরুণদের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত ব্যাধিগুলো উদ্বেগজনক হারে বাড়িয়ে দিয়েছে। এক্ষেত্রে আরও বেশি কাজ করতে আন্তর্জাতিক কমিউনিটির প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “দেশগুলোকে এই সমস্যা মোকাবিলায় যত বিনিয়োগ দরকার তা করতে হবে, নাটকীয়ভাবে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং কমিউনিটি ও স্কুলগুলোতে তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য সহায়তার বিস্তার ঘটাতে হবে এবং ঝুঁকির মুখে থাকা পরিবারের শিশুরা যাতে বাড়িতে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুরক্ষা পায় তা নিশ্চিত করার জন্য শিশু লালনপালন সংক্রান্ত কর্মসূচি (প্যারেন্টিং প্রোগ্রাম) চালু করতে হবে।”

ডিজিটাল বিভাজন দূর করার বিষয়ে ফোর বিশ্বজুড়ে লকডাউন ডিজিটাল বিভাজনের অন্তর্নিহিত অসমতাকে কীভাবে উন্মোচিত করেছে তা উল্লেখ করেছেন। ২০২০ সালে স্কুলগুলো বন্ধ রাখার চূড়ান্ত পর্যায়ে বিশ্বের স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৩০ শতাংশ দূরশিক্ষণ ব্যবস্থায় শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ গ্রহণে অক্ষম ছিল, যে শিশুদের অনেকের আগে থেকেই মানসম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ ছিল না। চিঠিতে শিক্ষা নিয়ে নতুন করে ভাবার এবং ডিজিটাল বিভাজন দূর করার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে সাজানোর ক্ষেত্রে ডিজিটাল উপকরণগুলোর সুবিধা গ্রহণ করা যায় এবং ভবিষ্যতের পথে দ্রুত এগোনো যায়।

পরিশেষে, সুযোগ কাজে লাগানোর জন্য এই মুহূর্তটি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ফোর লিখেছেন, “আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা দিতে হবে যা শিশুদের জন্য বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেয়। এই বছর, ইউনিসেফ যখন প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যত নিয়ে নতুন স্বপ্ন দেখার ৭৫তম বার্ষিকী উদযাপন করছে, তখন চলুন নতুন মনোভাব নিয়ে আমরা শিশু ও তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে, তাদের স্বপ্নকে প্রজ্জ্বলিত করে এবং জীবনের প্রতিটি অংশজুড়ে সমর্থন দিয়ে তাদের পেছনে দাঁড়াই।”

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

ফারিয়া সেলিম
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8809604107077
ই-মেইল: fselim@unicef.org

মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট

ED Fore

পুরো চিঠি দেখতে এখানে ক্লিক করুন

কোভিড-১৯ সংকটে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে ইউনিসেফের ছয় দফা পরিকল্পনা সম্পর্কে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ইউনিসেফ সম্পর্কে

প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।

আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd

ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার