বিশ্ব টয়লেট দিবস ২০১৯-এ স্যানিটেশন সুযোগ ও সেবার মানের মধ্যে ব্যাবধান ঘুচানোর আহ্বান

19 নভেম্বর 2019
বিশ্ব টয়লেট দিবস ২০১৯
UNICEF/UNI80744/Siddique

ঢাকা,  মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ - এবছর ১৯ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব টয়লেট দিবস। বিশ্বব্যাপী স্যানিটেশন সংকট মোকাবেলার জন্য অনুপ্রেরনামূলক পদক্ষেপ। এ বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় হল “কাউকে বাদ দিয়ে নয়।” এটি মৌলিক স্যানিটেশনের সুবিধা নেই এমন প্রত্যেকের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) ৬.২ অর্জনে সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত অংশগুলির মধ্যে দ্রুত অগ্রগতির প্রয়োজনীয়তার দিকে দৃষ্টি আকর্ষন করেছে।

বাংলাদেশ যে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে তা হলো স্যানিটেশন সেবার প্রবেশাধিকার বা সুযোগ এবং গুনগত মানের মধ্যে পার্থক্য যেমন খোলা যায়গায় মলত্যাগমুক্ত (৯৮.৫%) নিরাপদে পরিচালিত স্যানিটেশনের সর্বজনীন প্রবেশাধিকারের অগ্রগতি যা বর্তমানে গ্রামাঞ্চলে ৩১ শতাংশ (জেএমপি, ২০১৭)।

মৌলিক স্যানিটেশন পরিসেবার ক্ষেত্রে এখনও অঞ্চল ভেদে ও ধনী-দরিদ্র ভেদে অসমতা রয়েছে। দেশে ধনীদের মধ্যে ৮৩ শতাংশ, তবে দরিদ্রতম মানুষদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ মানুষ মৌলিক স্যানিটেশন ব্যবহার করেন। বাংলাদেশকে ২০৩০ সালের মধ্যে স্যানিটেশনে সার্বজনীন প্রবেশাধিকার অর্জনের জন্য ১ কোটি  ৯০ লাখ পরিবারকে নিরাপদ স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনার (স্যানিটেশন মার্কেট অ্যানালাইসিস রিপোর্ট, ইউনিসেফ, ২০১৯) প্রবেশাধিকার অর্জন করতে হবে। সম্ভাব্য বাজারটি বিরাট, যার মূল্য ১.২ থেকে ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।  স্যানিটেশন সম্পর্কিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি ৬.২) অর্জনের জন্য সরকারী এবং বেসরকারী উভয় খাতেরই অংশগ্রহন প্রয়োজন।

আর্থিক সম্পদের ক্ষেত্রে, শহর ও গ্রামীন অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। মোট  স্যানিটেশন তহবিলের কেবলমাত্র ২২ শতাংশ গ্রামাঞ্চলে এবং বাকী ৮০ শতাংশ তহবিলই শহরাঞ্চলে ব্যয় হয়েছে (গ্লোবাল এনালাইসিস এ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট অফ স্যানিটেশন এ্যান্ড ড্রিংকিং ওয়াটার  ২০১৮)।

বাংলাদেশ সরকার, জনসংখ্যা স্বাস্থ্য জরিপ এবং মাল্টিপল ইনডিকেটর ক্লাষ্টার জরিপের মতো জাতীয়ভাবে গ্রহন করা সমীক্ষা ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় জায়গাগুলি চিহ্নিত করার মাধ্যমে আরও সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য প্রমান-সাপেক্ষ পদক্ষেপ নিয়েছে। উদাহরনস্বরুপ, আইএমইডি,  বিআইডিএস এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো-এর  সহযোগীতায় ইউনিসেফ বাংলাদেশ মৌলিক সামাজিক সেবার কার্যকর বিস্তার মূল্যায়নের জন্য একটি প্রকল্প শুরু করে। বাংলাদেশ সরকার জাতীয় ওয়াটার স্যানিটেশন দরিদ্র-বান্ধব কৌশল ও দূর্গম এলাকার জন্য ওয়াটার-স্যানিটেশন জতীয় কৌশল এবং আর্সেনিক প্রশমন সংক্রান্ত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সমূহ পর্যালোচনা ও সংশোধন করছে। 

এই বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডায় কাউকে বাদ দিয়ে নয় অনুসরন করে। স্যানিটেশন প্রবেশাধিকারের লক্ষে অসমতা এবং কার্যকর পয়:বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব মানুষকে এমন রোগের ঝুঁকিতে ফেলতে পারে যা তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক পরিনতিগুলোকে প্রভাবিত করে।

কাউকে বাদ না দিয়ে আমাদের অবশ্যই স্যানিটেশনকে ঘিরে যে সামাজিক বাধা এবং নিষেধাজ্ঞাগুলি রয়েছে তা অপসারন করতে হবে এবং প্রান্তিক বা উপেক্ষিত জনগোষ্ঠীকে অন্তভর্’ক্ত করার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত করতে হবে। এই একই ব্যক্তিরা প্রায়শই অপর্যাপ্ত স্যানিটেশনের সবচেয়ে খারাপ স্বাস্থ্যগত পরিনতি ভোগ করেন।
 

 

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801711 595045
ই-মেইল: iachowdhury@unicef.org
এএম শাকিল ফয়জুল্লাহ
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801713 049900
ই-মেইল: asfaizullah@unicef.org

ইউনিসেফ সম্পর্কে

প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।

আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd

ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার