ঢাকা ও কক্সবাজারে “মানবিক সহায়তায় শিশু সুরক্ষা বিষয়ক ন‍্যূনতম মানদণ্ড” জাতীয়ভাবে চালু

19 নভেম্বর 2020
বাংলাদেশ। রোহিঙ্গা শরণার্থী
UNICEF Bangladesh/2020/Sujan

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর ২০২০ – জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এর সহায়তায় বাংলাদেশের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় আজ যৌথভাবে মানবিক সহায়তায় শিশু সুরক্ষা বিষয়ক ন‍্যূনতম মানদণ্ড উদ্বোধন করেছে। আজকের যৌথ উদ্বোধন কোনও শিশু যাতে পিছনে না পড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য সমস্ত পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

এই ন্যুনতম মানদন্ড, সংক্ষেপে সিপিএমএস (চাইল্ড প্রোটেকশন মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ড), প্রাথমিকভাবে ২০১২ সালে দি অ্যালায়েন্স ফর চাইল্ড প্রোটেকশন ইন হিউম্যানিটারিয়ান একশন-এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল। মানবিক সহায়তায় উপযুক্ত শিশু সুরক্ষামূলক সর্বজন গৃহীত বিষয়গুলোই সিপিএমএস তুলে ধরে। এটি তৈরি করে সাধারণ কিছু মূলনীতি, সাহায্য করে মানবিক কর্মকান্ডের গুণগত মানোন্নয়নে, সক্রিয় সকল পক্ষের মধ্যে সমন্বয় বাড়ায়, আর শিশু সুরক্ষায় গণযোগাযোগ ও প্রচারণায় সাহায্য করে। ইউএনএইচসিআর ও ইউনিসেফ সহ মোট ৮৫টি সংস্থা থেকে মতামত নিয়ে এক বছর আগে সিপিএমএস-এর একটি নতুন সংস্কার তৈরি করা হয়। কোভিড-১৯ অতিমারীর কারণে বাংলাদেশে এর উদ্বোধন বিলম্বিত হয়েছিল।

সিপিএমএস-এর নতুন সংস্করণ আরও সার্বজনীন এবং এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বাস্তুচ্যুতি ও শরণার্থী বিষয়ক পরিস্থিতি। সিপিএমএস-এ আছে ১০টি মূলনীতি ও ২৮টি মানদন্ড, আর এগুলোকে সবার কাছে পৌঁছে দেয়ার উদ্দেশ্যে এগুলো এখন বাংলা ও বার্মিজ ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও পরিসংখ্যান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ডঃ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, “শিশুদের প্রতি দুর্ব্যবহার, অবহেলা, শোষণ ও সহিংসতা প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় বিভিন্ন পদক্ষপের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সাহায্য, সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে আমি আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সরকারী বিভাগ, জাতিসংঘ, দেশী-বিদেশী এনজিও, স্থানীয় সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতি সর্বোচ্চ সহযোগিতা পুনরায় নিশ্চিত করছি”।

সারা বাংলাদেশে ও কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে থাকা লক্ষ লক্ষ শিশুদের সুরক্ষায় বাংলাদেশের মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার জনাব শাহ রেজওয়ান হায়াতকে তাঁদের প্রত্যক্ষ প্রত্যয়ের জন্য ধন্যবাদ জানান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অনলাইনে অংশ নেয়া ১০০-রও বেশি অংশগ্রহণকারী।

কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পের অর্ধেকেরও বেশি হচ্ছে শিশু। এই সিপিএমএস বা ন্যুনতম মানদন্ড নির্দেশ করে কৌশলগত সহযোগিতার গুরুত্ব। আর এটি তৈরি করা হয়েছে যেন সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও যৌন সহিংসতার শিকার শিশু, অনাথ বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শিশু, বাল্যবিবাহের শিকার শিশু, মানব পাচারের ঝুঁকিতে থাকা শিশুসহ সকল শিশুদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করা যায়।

বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর-এর রিপ্রেজেন্টেটিভ স্টিভেন করলিস বলেন, “সিপিএমএস আমাদের পথ দেখাবে  শিশু সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট ও কার্যকরী পদক্ষেপ তৈরি করতে এবং তার মূল্যায়ন করতে। ২০১৭ সালের আগস্টে ঘটে যাওয়া সর্বশেষ রোহিঙ্গা সংকটের সময় থেকে ইউএনএইচসিআর সব সময় শরণার্থীদের কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই মানবিক কার্যক্রম চালিয়েছে – তারাই তাদের নিজ সুরক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুরক্ষার এই নতুন মানদন্ড শরণার্থীদের ভূমিকা জোরালো করবে। কোভিড-১৯ সংকটের সময় আমাদের কার্যক্রমকে নতুনভাবে সাজাতেও সাহায্য করেছিল এই ন্যুনতম মানদন্ড। ক্যাম্পে প্রবেশের সীমিত সুযোগের মধ্যেও শরণার্থী স্বেচ্ছাসেবকদের দৃঢ় মানসিকতা ও প্রত্যয়ের মাধ্যমেই আমাদের শিশু সুরক্ষা নিয়ে কর্মরত সংস্থাগুলো দূরে থেকেও সাহায্য ও সুরক্ষা দিতে পেরেছে”।

বাংলাদেশে ইউনিসেফ ও ইউএনএইচসিআর-এর মাধ্যমে ছয়টি মানদন্ড অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রচার ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছেঃ তথ্য ব্যবস্থাপনা, যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, স্থানীয় সমাজ ভিত্তিক কর্মপন্থা, স্বাস্থ্য ও শিশু সুরক্ষা, মানসিক স্বাস্থ্য ও মনো-সামাজিক সমস্যা, এবং শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমে সামাজিক ও পরিবেশগত পন্থা অবলম্বন।

বাংলাদেশে ইউনিসেফ-এর রিপ্রেজেন্টেটিভ টমো হোজুমি বলেন, “আজ সারা বিশ্বে প্রতি চার জন শিশুর মাঝে একজন সংঘাত কিংবা দুর্যোগপূর্ণ দেশে বাস করে। প্রতিদিনই তারা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির মাঝে থাকে, আর এর ভয়ংকর ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ে তাদের জীবনে। শিশুদের সহিংসতা, দুর্ব্যবহার, শোষণ ও অবহেলা থেকে রক্ষা করা শুধুই প্রোটেকশন সেক্টরের কাজ নয়। যেহেতু শিশুরা নানামুখী ঝুঁকিতে থাকে, তাই সকল সেক্টরকে এগিয়ে আসতে হবে প্রত্যাশিত, দ্রুত ও সুপরিকল্পিত কার্যক্রম গড়ে তুলতে। এই ন্যুনতম মানদন্ড সেই প্রয়োজনীয় কর্মপন্থাকেই ধারণ করে”।

শিশু সুরক্ষার চাহিদা ও কর্মকান্ড বিষয়ক একটি সার্বজনীন উপলব্ধি গড়ে তোলা একটি যৌথ দায়িত্ব। তাই ইউএনএইচসিআর ও ইউনিসেফ বাংলাদেশ সরকারের সাথে হাতে হাত রেখে কাজ করছে, যেন কোন শিশু পিছনে না পড়ে থাকে।

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

লুইজ ডনোভ্যান
ইউএনএইচসিআর
টেলিফোন: +8801847327279
ই-মেইল: donovan@unhcr.org
ফারিয়া সেলিম
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8809604107077
ই-মেইল: fselim@unicef.org

ইউনিসেফ সম্পর্কে

প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।

আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd

ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার