কোভিড-১৯ এর কারণে ৪ কোটি শিশু স্কুল শুরুর আগের গুরুত্বপূর্ণ বছরে প্রারম্ভিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বাদ পড়েছে

22 জুলাই 2020
বাংলাদেশ। প্রাক-প্রাথমিক স্কুলের শিশুরা
UNICEF Bangladesh/2019/Mawa

নিউইয়র্ক/ঢাকা, ২২ জুলাই ২০২০ আজ ইউনিসেফ প্রকাশিত নতুন এক গবেষণার সার সংক্ষেপের  তথ্য  অনুযায়ী, কোভিড-১৯ এর কারণে শিশুসেবা ও প্রারম্ভিক শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী অন্তত ৪ কোটি শিশু স্কুল শুরুর আগে প্রারম্ভবিক শৈশবকালীন শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

ইউনিসেফের গবেষণা বিষয়ক কার্যালয় ‘ইনোসেন্টি’র তৈরি করা এই গবেষণার সার সংক্ষেপ বৈশ্বিকভাবে শিশুসেবা এবং প্রারম্ভিক শৈশবকালীন শিক্ষা পরিস্থিতির দিকে নজর দেয় এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ এর কারণে এসব গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব সম্পর্কিত একটি বিশ্লেষণ অন্তর্ভুক্ত করে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারি কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় তা সম্ভাব্য সবচেয়ে ভালো উপায়ে শিশুদের পড়াশোনা শুরু করায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।” শিশুসেবা এবং প্রারম্ভিক শৈশবকালীন শিক্ষা এমন একটি ভিত তৈরি করে, যার ওপর শিশুদের বিকাশের প্রতিটি বিষয় নির্ভর করে। বৈশ্বিক মহামারি সেই ভিতকে মারাত্মক হুমকিতে ফেলেছে।”

বৈশ্বিক সংকটে শিশুসেবা: কর্মক্ষেত্র ও পারিবারিক জীবনের ওপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উল্লেখ করা হয়েছে, লকডাউন কারণে অনেক বাবা-মাকে শিশুসেবা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে এবং এ কারণে বৈষম্যমূলকভাবে নারীদের ওপর চাপ অনেক বেড়েছে, যারা যত্ন ও গৃহস্থালী কাজের ক্ষেত্রে পুরুষের তুলনায় গড়ে তিনগুণ বেশি সময় ব্যয় করে।

সেবাসমূহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তা বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে ছোট শিশুদের পরিবারগুলোর জন্য সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে, যেসব শিশুর অনেকে আগে থেকেই সামাজিক সুরক্ষামূলক সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত ছিল। শিশুদের সমন্বিত পরিষেবা, মমতা, সুরক্ষা, উদ্দীপনা ও পুষ্টি সেবা প্রদানে এবং একই সঙ্গে তাদের সামাজিক, অনুভূতি ও মানসিক দক্ষতার বিকাশে সক্ষম করে তুলতে শিশুসেবা অপরিহার্য।

কোভিড-১৯ মহামারির আগে ব্যয়বহুল, নিম্ন-মানের অথবা অপ্রাপ্য শিশুসেবা এবং প্রারম্ভিক শৈশবকালীন শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে অনেক বাবা-মা তাদের ছোট শিশুকে তাদের বেড়ে ওঠার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ  সময়ে উদ্দীপনাহীন অনিরাপদ পরিবেশে ফেলে যেতে বাধ্য হয় এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী সাড়ে ৩ কোটির বেশি শিশুকে মাঝে মাঝে বড়দের তত্ত্বাবধান ছাড়াই রাখা হয়।

১৬৬টি দেশের মধ্যে অর্ধেকেরও কম দেশে অন্তত এক বছরের জন্য বিনামূল্যের প্রাক-প্রাথমিক কর্মসূচি রয়েছে, যা নিম্ন-আয়ের দেশগুলোর ক্ষেত্রে মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।

অনেক ছোট শিশু যারা বাড়িতেই ছিল, তারা তাদের সুস্থ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় খেলা এবং প্রাথমিক শিক্ষা সহায়তার সুযোগ পায় না। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ৫৪টি দেশের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ শিশুর পরিবারের বড় কারও কাছ থেকে সামাজিক-সংবেদনশীলতা এবং জ্ঞান ভিত্তিক উদ্দীপনা পাচ্ছিল না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শিশুসেবা ও প্রারম্ভিক শিক্ষাজনিত বিকল্পের অভাবও অনেক বাবা-মাকে, বিশেষ করে অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করা মায়েদের অনেকেই তাদের ছোট শিশুটিকে নিজ কর্মক্ষেত্রে নিয়ে আসা ছাড়া তাদের সামনে কোনো বিকল্প থাকে না। আফ্রিকায় প্রতি ১০ জন নারীর মধ্যে ৯ জনেরও বেশি এবং এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৭ জন নারী অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে এবং কোনো ধরনের সামাজিক সুরক্ষা সেবা পায় না বা অত্যন্ত সীমিত আকারে পায়। অনেক বাবা-মা এই অনির্ভরযোগ্য, স্বল্প বেতনের চাকরিতে আটকা পড়ে যায়, যা কয়েক প্রজন্মের মধ্যে দারিদ্র্যের একটি চক্র গড়ে তুলতে অবদান রাখে।

সাশ্রয়ী, মানসম্মত শিশুসেবা এবং প্রারম্ভিক শৈশবকালীন শিক্ষা প্রাপ্তির সুযোগ পরিবার এবং সামাজিকভাবে সমন্বিত সমাজগুলোর বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ইউনিসেফ শিশুদের জন্মের পর থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের প্রথম গ্রেডে তাদের প্রবেশের আগ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য, সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন শিশুসেবা প্রাপ্তির পক্ষে কাজ করে।

সরকার ও কর্মীরা কীভাবে তাদের শিশুসেবা এবং প্রারম্ভিক শিশু শিক্ষার নীতিমালার উন্নয়ন ঘটাতে পারে সে বিষয়ক নির্দেশনা রয়েছে এই গবেষণার সার সংক্ষেপে। একই সাথে পরিবারের অবস্থা নির্বিশেষে সব শিশুই যেন উচ্চ-মানসম্পন্ন, বয়স উপযোগী, সাশ্রয়ী ও সহজে পাওয়া যায় এমন শিশুসেবা কেন্দ্রে সেবা প্রাপ্তির সুযোগ পায় সে বিসয়েও গবেষণাটি দিক নির্দেশনা দেয়।

নির্দেশনায় পরিবার-বান্ধব নীতিমালার আরও কিছু রূপরেখা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:

  • সব বাবা-মায়ের জন্য সবেতন মাতৃত্ব বা পিতৃত্বকালীন  ছুটির ব্যবস্থা করা, যাতে মাতৃত্ব বা পিতৃত্বকালীন ছুটি শেষ হওয়া ও সাশ্রয়ী শিশুসেবা শুরু হওয়ার মাঝে কোনো ফাঁক না থাকে;
  • কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য প্রয়োজন অনুসারে নমনীয় বা সুবিধাজনক কাজের ব্যবস্থা করা;
  • প্রশিক্ষণসহ অ-পারিবারিক শিশুসেবায় নিয়োজিত কর্মীদের পেছনে বিনিয়োগ করা;
  • নগদ অর্থ প্রদানসহ সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাসমূহ যা অনানুষ্ঠানিকভাবে খাতে কর্মরত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়।

ফোর বলেন, “কোভিড -১৯ মহামারি বিশ্বব্যাপী শিশুসেবা সংকটকে আরও খারাপ অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই দুর্যোগের সঙ্গে মানিয়ে নিতে এবং শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য পরিবাগুলোর তাদের সরকারের ও চাকরিদাতাদের সহায়তা প্রয়োজন।”

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

জরজিনা থমসন
ইউনিসেফ নিউইয়র্ক
টেলিফোন: +1 917 238 1559
ই-মেইল: gthompson@unicef.org
ফারিয়া সেলিম
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8809604107077
ই-মেইল: fselim@unicef.org

ইউনিসেফ সম্পর্কে

প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।

আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd

ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার