কোভিড-১৯ এর কারণে শিশুদের টিকাদান সেবা ব্যাহত হওয়ায় প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকিতে লাখ লাখ শিশু – ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, গ্যাভি

উচ্চাভিলাষী নতুন বৈশ্বিক কৌশলের লক্ষ্য হচ্ছে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে ৫ কোটিরও বেশি জীবন বাঁচানো

26 এপ্রিল 2021
বাংলাদেশ। শিশু
UNICEF Bangladesh/2020/Mawa

জেনেভা/নিউইয়র্ক/ঢাকা, ২৬ এপ্রিল ২০২১ --- টিকা প্রাপ্তি ও গ্রহণের পরিস্থিতি উন্নয়নে বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি তুলে ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ ও ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স, গ্যাভি আজ বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহ চলাকালে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যদিও কোভিড-১৯ এর কারণে ব্যাহত হওয়া টিকাদান সেবা কার্যক্রম পুনরায় চালু হতে শুরু করেছে, তা সত্ত্বেও লাখ লাখ শিশু প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকিতে রয়ে গেছে। মহামারির প্রথম দিকের মাসগুলোতে টিকাদান সেবা ব্যাহত হতে শুরু করলেও ২০২০ সালের জুনে প্রাক-কোভিড-১৯ পর্যায়ে বাংলাদেশ রুটিন টিকাদান পরিষেবা পুনরায় শুরু করে এবং নিয়মিতভাবে এই কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও, দেশটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সফলভাবে হাম ও রুবেলার গণটিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছে, যার আওতায় ৩ কোটি ৬০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে এবং এতে কোভিড-১৯ এর কারণে বাড়তি যে চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল তা সামাল দেওয়া গেছে। এখন বাংলাদেশে যখন কোভিড-১৯ এর তৃতীয় ও আজ অবধি সবচেয়ে বড় ঢেউ চলছে, তখন শিশুদের টিকাদানের এই ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত রাখার জন্য কাজ করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রস আধ্যানম ঘেব্রেইয়েসুস বলেন, “আমরা যদি সব দেশের জন্য টিকার সুষ্ঠু প্রাপ্তি এবং এগুলো সরবরাহের জন্য শক্তিশালী ব্যবস্থা গড়ে তোলা নিশ্চিত করতে পারি কেবল সেক্ষেত্রেই তা কোভিড-১৯ মহামারির সমাপ্তি ঘটাতে সহায়তা করবে। আর আমরা যদি হাম, হলুদ জ্বর ও ডিপথেরিয়ার মতো প্রাণঘাতী রোগের একাধিক প্রাদুর্ভাব এড়াতে চাই, তাহলে বিশ্বের প্রতিটি দেশে যাতে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম সেবা অব্যাহত থাকে তা আমাদের অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।”

ডব্লিউএইচওর এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২০ সালের পরিস্থিতির তুলনায় অগ্রগতি সত্ত্বেও, জরিপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর এক তৃতীয়াংশ (৩৭%) এখনও তাদের নিয়মিত টিকাদান পরিষেবা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হওয়ার কথা জানিয়েছে।

গণ টিকাদান কার্যক্রমও ব্যাহত হয়েছে। নতুন তথ্য অনুসারে, বর্তমানে ৫০টি দেশে জীবনরক্ষার ৬০টি টিকাদান কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে, যা প্রায় ২২ কোটি ৮০ লাখ মানুষকে (যাদের বেশিরভাগই শিশু) হাম, হলুদ জ্বর ও পোলিওর মতো রোগের ঝুঁকিতে ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এই ৫০টি দেশের অর্ধেকের বেশি আফ্রিকার মহাদেশের, যা গুরুত্বপূর্ণ টিকাদান পরিষেবা প্রাপ্তিতে মানুষের দীর্ঘদিনের বৈষম্যকে তুলে ধরে।

হামের বিরুদ্ধে টিকাদান কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা সবচেয়ে সংক্রামক ব্যাধিগুলোর একটি এবং টিকা দেওয়া না থাকলে লোকজনের মাঝে এর ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। স্থগিত হওয়া টিকাদান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে হামের টিকাদান কার্যক্রমই ২৩টি, যার প্রভাব পড়েছে প্রায় ১৪ কোটি মানুষের ওপর। স্থগিত হওয়া এসব টিকাদান কার্যক্রমের অনেকগুলো এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর বলেন, “মহামারির আগেও এমন উদ্বেগজনক লক্ষণ দেখা গেছে যে, আমরা প্রতিরোধযোগ্য শিশু অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পায়ের নিচে মাটি হারাতে শুরু করেছিলাম, যেখানে এরইমধ্যে ২ কোটি শিশু গুরুত্বপূর্ণ টিকাদান থেকে বাদ পড়েছে। মহামারিটি একটি খারাপ পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলেছে, যার ফলে আরও লাখ লাখ শিশু টিকাদান থেকে বাদ পড়ছে। এখন যেহেতু সবার মনেই টিকার বিষয়টি চলে এসেছে, প্রতিটি শিশুকে তাদের হাম, পোলিও এবং অন্যান্য টিকা পেতে সহায়তা করার জন্য আমাদের অবশ্যই এই শক্তি বজায় রাখতে হবে। আমাদের অপচয় করার মতো সময় নেই। এই পরিস্থিতিতে হেরে যাওয়া মানে প্রাণ হারানো।”

সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, টিকাদান ব্যাহত হওয়ায় সম্প্রতি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো, পাকিস্তান ও ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশে মারাত্মক হামের প্রাদুর্ভাবের খবর পাওয়া গেছে এবং জীবনরক্ষাকারী টিকাদান থেকে বাদ পড়া শিশুদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকায় এমন ঘটনা আরও অনেক দেশেই ঘটতে পারে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চলমান কার্যক্রমের কারণে সেবা ব্যাহত হচ্ছে এমন দেশগুলোর পাশাপাশি ইতোমধ্যে যেসব দেশ সংঘাতময় পরিস্থিতিতে আছে সেখানে এসব রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে।

শিশুদের টিকাদানের জন্য টিকা এবং অন্যান্য উপকরণ সরবরাহও জরুরি। কোভিড-১৯ মহামারি শুরু থেকে টিকাদান ব্যাহত হওয়ায় ২০২০ সালে ২০১ কোটি ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে ইউনিসেফ, যা ২০১৯ সালে ছিল ২২৯ কোটি।

ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স, গ্যাভির সিইও ড. বার্কলে বলেন, “বর্তমান মহামারিটি যখন নিয়মিত টিকাদানে দুই দশকের অগ্রগতিকে নস্যাৎ করার হুমকি তৈরি করেছে, তখন বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শিশুর প্রাথমিক টিকাগ্রহণ থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোভিড-১৯ এর ধকল কাটিয়ে উঠতে এবং ভবিষ্যতের মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করতে হলে আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে যাতে নিয়মিত টিকাদানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এবং একইসঙ্গে যেসব শিশু নিয়মিত টিকা গ্রহণ করেনি বা যেসব শিশু কোনো টিকাই পায়নি তাদের কাছে এই সেবা পৌঁছানোর দিকে নজর দেওয়া হয়। এটা করার জন্য কোনো শিশু যাতে বাদ না পড়ে তা নিশ্চিত করার জন্য আমাদের সব উন্নয়ন সংস্থা, সরকার ও সুশীল সমাজকে একত্রে কাজ করতে হবে।”

নতুন বৈশ্বিক টিকাদান কৌশলের লক্ষ্য হচ্ছে ৫ কোটিরও বেশি জীবন বাঁচানো

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং কোভিড-১৯ মহামারির ধকল কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, গ্যাভি ও অন্যান্য সহযোগীরা আজ ইম্যুনাইজেশন এজেন্ডা ২০৩০ (আইএ২০৩০) প্রকাশ করেছে, যা আরও শক্তিশালী টিকাদান ব্যবস্থার মাধ্যমে জীবন রক্ষায় টিকার ভূমিকা আরও জোরালো করতে একটি উচ্চাভিলাষী নতুন বৈশ্বিক কৌশল।

এই এজেন্ডা একেবারে শৈশবকাল থেকে শুরু করে কৈশোর এবং আরও বেশি বয়স পর্যন্ত অর্থাৎ সারা জীবন টিকা দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেবে। যদি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হয়, তবে এটি ডব্লিউএইচও’র হিসাব অনুযায়ী আনুমানিক ৫ কোটি মৃত্যু ঠেকিয়ে দেবে, যাদের ৭৫ শতাংশই নিম্ন এবং নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের অধিবাসী।

২০৩০ সালের মধ্যে যেসব লক্ষ্য অর্জন করতে হবে তার মধ্যে রয়েছে:

  • শৈশব এবং কৈশোরে প্রদত্ত প্রয়োজনীয় টিকাগুলোর ৯০ শতাংশ প্রদানের লক্ষ্য অর্জন করা[i]
  • একেবারে টিকা না পাওয়া শিশুদের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা
  • জাতীয় বা আঞ্চলিক পর্যায়ে ৫০০ স্থানে কোভিড-১৯, রোটাভাইরাস বা হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাসের (এইপিভি) মতো নতুন বা স্বল্প-ব্যবহৃত টিকার প্রয়োগ সম্পন্ন করা।

টিকাদানের সব অংশীদারদের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

আইএ২০৩০-এর উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যগুলো অর্জনে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ, গ্যাভি ও সহযোগীরা জোরালো পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে:

  • বিশ্ব নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন কমিউনিটির উচিত আইএ২০৩০ এর প্রতি সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা এবং নাজুক ও সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য যথাযথ পদ্ধতি গ্রহণ করাসহ আরও শক্তিশালী টিকাদান ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা। টিকাদান কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, বৈশ্বিক মহামারি জন্য প্রস্তুতি নেওয়া ও মোকাবিলা কার্যক্রমের কেন্দ্রস্থল এবং সামাজিক কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ার সময়ে একাধিক মহামারির বোঝা লাঘবের মূল উপায়
  • সব দেশের উচিত উচ্চাভিলাষী জাতীয় টিকাদান পরিকল্পনাগুলো প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা, যা আইএ২০৩০ কাঠামোর সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ এবং সবাইকে টিকাদান পরিষেবার আওতায় আনতে বিনিয়োগ বাড়ানো
  • দাতা ও সরকারগুলোর উচিত নিম্নবিত্ত জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনের ওপর মনোনিবেশ করে টিকা নিয়ে গবেষণা এবং উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও বিতরণে বিনিয়োগ বাড়ানো
  • ওষুধ শিল্প এবং বিজ্ঞানীদের উচিত সরকার ও তহবিল দাতাদের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে টিকার গবেষণা ও উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করাকে অব্যাহত রাখা, বৈশ্বিক চাহিদা মেটাতে সাশ্রয়ী মূল্যের টিকার নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কোভিড-১৯ থেকে পাওয়া শিক্ষা অন্যান্য রোগের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা

###

সম্পাদকদের জন্য নোট

ছবি ও বি-রোল ডাউল করা যাবে এখান থেকে

বিশ্ব টিকাদান সপ্তাহ ২০২১ টিকার জীবনরক্ষাকারী সুবিধাগুলো উদযাপনের লক্ষ্যে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে (২৪-৩০ এপ্রিল) পালিত হয়। এই বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘টিকা আমাদের কাছে আনে’, যার লক্ষ্য হচ্ছে টিকাদান কীভাবে মানুষ, লক্ষ্য ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর সঙ্গে আমাদের সংযুক্ত করে, সর্বত্র সবার জন্য জীবনভর কীভাবে স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সহায়তা করে তা তুলে ধরা।

[i] ডিপথেরিয়া, টিটেনাস, পারটুসিস (ডিপিপি৩)-এর তিন ডোজ, হাম, এইচপিভির দুই ডোজ এবং নিউমোককাল টিকার তিন ডোজসহ 

 

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

লরা কিনান
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
টেলিফোন: +41 79 500 65 64
ই-মেইল: keenanl@who.int
সাবরিনা সিধু
ইউনিসেফ (নিউইয়র্ক)
টেলিফোন: +19174761537
ই-মেইল: ssidhu@unicef.org

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্পর্কে

জাতিসংঘের কার্যপরিধির ভেতরে থেকেই জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বৈশ্বিকভাবে নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ডব্লিউএইচও সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি তুলে ধরতে, বিশ্বকে নিরাপদ রাখতে এবং সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদানে ছয়টি অঞ্চলজুড়ে দেড় শতাধিক কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৯৪টি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করে। ২০১৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আরও ১০০ কোটি মানুষকে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা, আরও ১০০ কোটি মানুষকেস্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা থেকে রক্ষা করা এবং আরও ১০০ কোটি মানুষকে আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও ভালো রাখা নিশ্চিত করা।

ইউনিসেফ সম্পর্কে

বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের কঠিনতম কিছু স্থানে কাজ করে। ১৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে সর্বত্র সব শিশুর জন্য আরও ভালো একটি পৃথিবী গড়ে তুলতে আমরা কাজ করি। ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কাজ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org। কোভিড-১৯ সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org/coronavirus। ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন TwitterFacebook-এ। ইউনিসেফের টিকাদান কার্যক্রম সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে এখানেসবার জন্য টিকা পেইজটি ভিজিট করুন, যেখানে কোভিড-১৯ টিকা ও নিয়মিত টিকাদান সম্পর্কে সর্বশেষ বিশ্বাসযোগ্য তথ্য একসঙ্গে পাওয়া যাবে।

ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স, গ্যাভি সম্পর্কে

একটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, যা বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী কিছু রোগের বিরুদ্ধে বিশ্বের অর্ধেক শিশুকে টিকাদানে সহায়তা করে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গ্যাভি পুরো একটি প্রজন্মকে বা ৮২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকাদানে সহায়তা করেছে এবং ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মৃত্যু ঠেকিয়ে দিয়েছে, যা নিম্ন আয়ের ৭৩টি দেশে শিশু মৃত্যুর হার অর্ধেকে নামিয়ে আনতে সহায়তা করেছে।  গ্যাভি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি ইবোলা, কলেরা, মেনিনজাইটিস ও হলুদ জ্বরের টিকার জন্য বিশ্বব্যাপী মজুদ বাড়াতে তহবিল জোগান দেওয়ার মাধ্যমে বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার উন্নতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্যাভি মহামারি প্রস্তুতি উদ্ভাবন জোট (সিইপিআই) ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সঙ্গে যৌথভাবে অ্যাক্সেস টু কোভিড-১৯ টুলস (এসিটি) এক্সিলারেটরের স্তম্ভ ‘কোভ্যাক্স’-এর সহ-আহ্বায়ক। আরও জানতে ভিজিট করুন www.gavi.org এবং ফেসবুক ও টুইটারে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হোন।