ইউনিসেফ: বিশ্ব শিশু দিবসে জলবায়ুকেন্দ্রীক পদক্ষেপ ও আন্তঃপ্রজন্মগত সংহতির আহ্বান বাংলাদেশি শিশুদের

20 নভেম্বর 2020
বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড়টি লক্ষ লক্ষ শিশুকে মারাত্মক পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিতে ফেলেছে
UNICEF/UNI332044/Aronno

ঢাকা, ২০ নভেম্বর ২০২০ – ঢাকা, ২০ নভেম্বর ২০২০ – আজ শিশুদের জন্য ঐতিহাসিক এক জলবায়ু সম্মেলনে (চিলড্রেনস্‌ ক্লাইমেট সামিট) বাংলাদেশি শিশুরা জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে তাদের আশঙ্কার কথা শুনিয়েছে। পাশাপাশি তারা এ বিষয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণেরও আহ্বান জানায়।

শিশুদের জলবায়ু ঘোষণাপত্র গ্রহণের মাধ্যমে এই সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটে, যা আন্তঃপ্রজন্মগত সংহতির চেতনায় জাতীয় নেতাদের কাছে উপস্থাপিত হয়েছে। ঘোষণাপত্রে শিশুরা দূষণ ও গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে; শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও সবুজ অর্থনীতির পেছনে বিনিয়োগ করতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিতে নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানায়।

ইউনিসেফ জেনারেশন পার্লামেন্ট ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অংশ হিসেবে ১০ লাখেরও বেশি শিশু এই 'শিশু জলবায়ু সম্মেলনের' প্রস্তুতিতে সম্পৃক্ত ছিল, যা শিশুদের ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করে- এমন নীতিমালা ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে তাদের সংযুক্ত করে। ইউনিসেফ আয়োজিত এই ভার্চুয়াল সম্মেলন শিশুদের ভবিষ্যতের সুরক্ষার জন্য জলবায়ু সংক্রান্ত সমস্যা, নীতিমালা ও কার্যক্রম নিয়ে কথা বলতে বাংলাদেশের সব সংসদীয় আসনের প্রতিনিধিত্ব করা ৩০০ "শিশু সাংসদ"-কে একত্রিত করে।

ঢাকার শিশু সাংসদ রিদওয়ানা ইসলাম (১৫)  বলেন, “আমাদের দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রথম সারিতে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, দূষণ ও চরম আবহাওয়া আমাদের বেঁচে থাকা, সামগ্রিক কল্যাণ ও ভবিষ্যতকে এলোমেলো করে দিচ্ছে। শিশুদের ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করে এমন নীতিমালা প্রণয়ন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অবশ্যই আমাদের পরামর্শ নিতে হবে। নষ্ট করার মতো সময় নেই।”

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি  টোমো হোযুমি বলেন, “আমরা যেহেতু স্রোতের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, তাই জরুরি জলবায়ু পরিস্থিতিতে সাহসী নেতৃত্বের প্রয়োজন। অনুপ্রেরণা, সাহস ও দূরদৃষ্টির জন্য আমাদের অবশ্যই শিশু এবং তরুণ জনগোষ্ঠীর দিকে তাকাতে হবে। ইউনিসেফ বাংলাদেশি শিশুদের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত বিষয়গুলো যেহেতু সরাসরি শিশুদের ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করে, তাই এ সংক্রান্ত বিষয়ে সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি শিশুদের সম্পৃক্ত করতে সহায়তা দিতে কাজ করে যাচ্ছে ইউনিসেফ।”

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সংসদ সদস্য এবং শিশু অধিকার সম্পর্কিত সংসদীয় ককাসের সভাপতি শামসুল হক টুকু। সরকার, সুশীল সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের পাশাপাশি শিশু জলবায়ু কর্মী, বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানের সংসদ সদস্য এবং জলবায়ু সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

সংসদের ডেপুটি স্পিকার জনাব ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, “আজ শিশুরা আমাদের শিখিয়েছে যে, জলবায়ু নীতিমালা গঠনে আমাদের কনিষ্ঠ নাগরিকদের মূল ভূমিকা নিতে হবে। আমি খুব আনন্দিত হবো যদি অদূর ভবিষ্যতে সংসদে শিশুদের এই জলবায়ু ঘোষণা নিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ  হতে পারি।”

ভার্চুয়াল সম্মেলনটি ছিল বাংলাদেশের প্রথম লিঙ্গ-সমতাভিত্তিক শিশু সংসদ, যেখানে অংশগ্রহণকারী ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে মেয়ে প্রতিনিধি ছিল ৫০ শতাংশ এবং ছেলে প্রতিনিধি ছিল ৫০ শতাংশ। এই সম্মেলন ভৌগলিক এবং সামাজিক বিভাজন ছাড়িয়ে তরুণ জলবায়ু কর্মীদের সংযুক্ত করে।

একসঙ্গে এই শিশুরা বাংলাদেশি নেতাদের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা দেয়: “আমাদের সকলের ভবিষ্যত এতে জড়িত এবং আমাদের গ্রহটি সকলের জন্য। জলবায়ু সংকট মোকাবিলার জন্য আমাদের এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে এবং আমাদের, শিশুদের, অবশ্যই এতে সামিল করতে হবে।”

সম্পাদকদের জন্য নোট

  • শিশুদের জলবায়ু ঘোষণাপত্র নিচে এবং এই লিংকে পাওয়া যাবে.
  • শিশুদের জলবায়ু সম্মেলনটি ইউনিসেফ বাংলাদেশের ফেসবুক পেইজ-এ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়, যা ৮৯ লাখ অনুসারীর কাছে পৌঁছায়.
  • মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ ২০২০-২০২২ মেয়াদে জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ফোরামের (সিভিএফ) সভাপতিত্ব করছে। সিভিএফ ৪৮টি দেশের ১২০ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতার অধিক ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা করতে অংশীদারিত্ব, সহযোগিতা ও জ্ঞান বির্নিমাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে।

ছবি ডাউনলোড করুন এখানে

শিশুদের জলবায়ু ঘোষণা

শিশুদের জলবায়ু সম্মেলন, বাংলাদেশ, ২০ নভেম্বর ২০২০

 

জলবায়ু সংকট সম্ভবত আমাদের সময়ের সবচেয়ে জটিল সমস্যা। আমাদের শিশুদের জন্য, আমাদের ভবিষ্যতের জন্য, যে গ্রহে আমরা বাস করছি তার জন্য, আমাদের বেঁচে থাকার জন্য, আজকের শিশুদের জন্য এবং আগামীকালের শিশুদের জন্য এটি একটি চলমান যুদ্ধ।

আমাদের দেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অগ্রভাগে রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি,  নদী ভাঙ্গন, দূষণ এবং চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া আমাদের বেঁচে থাকা,  সমৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতকে বিপদে ফেলছে। এ সব বিষয়ে আমরা যদি এখনই কোনও ব্যবস্থা না নেই, তবে এখান থেকে ফিরে আসার আর কোনও সুযোগ থাকবে না। এক্ষেত্রে অপূরণীয় ক্ষতি হবে। দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের চরম মূল্য দিতে হবে।

আমরা বাংলাদেশের সবগুলো অর্থাৎ ৩০০ আসনের শিশুদের প্রতিনিধিত্ব করি, এবং আমাদের দেশের ৬ কোটি ১০ লক্ষ শিশুর অধিকারের পক্ষে কথা বলছি।

আমরা, শিশুরা, আন্তঃপ্রজন্ম সংহতির এবং আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি:

  • জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব থেকে শিশুদের সুরক্ষা দিন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কমিউনিটির জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতকল্পে  পরিকল্পনা প্রস্তুত করুন। সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা এবং ঝড় সহনশীল জলবায়ুবান্ধব স্কুল আমাদের প্রয়োজন।
  • দূষণ এবং গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস করুন। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শিশু এবং আমাদের পৃথিবীকে রক্ষা করুন। যে বাতাসে আমরা নিঃশ্বাস নেই, যে পানি আমরা পান করি, যে খাবার আমরা খাই এবং যে ইকোসিস্টেমের উপর আমরা নির্ভর করি সেগুলো রক্ষা করুন।
  • পরিবেশ সম্পর্কিত শিক্ষা এবং সবুজের আচ্ছাদন বাড়ানোর দক্ষতাকে প্রসারিত করুন। পরিবেশবান্ধব উপায়ে কীভাবে বাঁচতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাস করতে আমরা কী করতে পারি, শিশুদের সেসব বিষয় শিক্ষা দিন। জলবায়ু পরিবর্তন হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে প্রয়োজন এমন পেশাগত দক্ষতার সাথে তরুণদের পরিচিত করুন।
  • সবুজ অর্থনীতি এবং সবুজ কর্মসংস্থানে বিনিয়োগ করুন। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ক্রমবর্ধমানভাবে সবুজ অর্থনীতিতে রূপান্তর করুন এবং এই অর্থনীতি যে সব কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে সেগুলোতে তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিন।
  • সমস্যা সমাধানে শিশুদের অংশ নিতে দিন। আমাদের কথা শুনুন। আমাদের ভবিষ্যতকে প্রভাবিত করে এমন নীতি ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে অবশ্যই শিশুদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নেতৃবৃন্দ এবং অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্কদের সমর্থন আমাদের দরকার, আমাদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া দরকার, এবং আমাদের কথা আপনারা শুনুন আমরা তা চাই।

আমরা, শিশুরা, আন্তঃপ্রজন্ম সংহতি ও বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে অনুকরণীয় নেতৃত্বের আহ্বান জানাচ্ছি। নষ্ট করার মতো কোনও সময় আমাদের নেই। আমাদের ভবিষ্যত অনেক কিছুর সাথে জড়িয়ে গেছে এবং আমাদের পৃথিবীকে আমরা সকলে ভাগাভাগি করে নিয়েছি। একটি উন্নত, নিরাপদ, সবুজ বাংলাদেশের জন্য আমরা পুনরায় একসাথে নতুন কল্পনা করতে পারি।

আমরা, শিশুরা, জরুরি ভিত্তিতে এবং সাহসের সাথে কাজ করতে প্রস্তুত। আপনারাও আমাদের সাথে যোগ দিন।

 

BDF_BGP_UNICEF logo

 

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

ফারিয়া সেলিম
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8809604107077
ই-মেইল: fselim@unicef.org

ইউনিসেফ সম্পর্কে

প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।

আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd

ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার