ইউনিসেফ-ডব্লিউএইচও: কোভ্যাক্সের অতি নিম্ন তাপমাত্রার ফ্রিজারগুলো টিকা সংরক্ষণের ক্ষমতা নব্বই লাখে উন্নীত করেছে

নতুন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এই ফ্রিজারগুলোর জন্য কোভ্যাক্স-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের দান করা ২৫ লাখ ফাইজার টিকা সংরক্ষণ সম্ভব হয়েছে

28 সেপ্টেম্বর 2021
Vaccines are been kept in the ultra- freezer
UNICEF/UN0527479/Sujan

ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১: আগস্ট মাসে কোভ্যাক্স-এর মাধ্যমে ইউনিসেফ থেকে ২৬টি অতি নিম্ন তাপমাত্রার ফ্রিজার পাত্তয়ায় বাংলাদেশ এখন প্রচুর পরিমাণে অতি নিম্ন তাপমাত্রয় সংরক্ষণ করতে হয় - এমন কোভিড-১৯ টিকা গ্রহণ, সংরক্ষণ এবং বিতরণ করতে পারবে।

এই ২৬টি ফ্রিজারের প্রতিটি তিন লাখের বেশি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করতে পারে। এতে করে প্রশাসনের পক্ষে ঢাকার বাইরের জেলাগুলোতেও এই টিকা দেয়া সম্ভব হবে। এই অতিরিক্ত ধারণক্ষমতার ফ্রিজারের জন্য আজকের ২৫ লাখ ফাইজার টিকার কোভ্যাক্স চালান আসা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফ প্রতিনিধি টোমো হোযুমি বলেন, “এখন ভ্যাকসিনগুলো পাবার সমঅধিকার নিশ্চিত করতে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে আরও দেশ যেহেতু এগিয়ে আসছে, সেহেতু ভ্যাকসিন গ্রহণকারী দেশগুলোর আলট্রা কোল্ড-চেইন ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “এই মহামারী শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোভ্যাক্স-এর বাস্তবায়নকারী সহযোগী হিসাবে ইউনিসেফ বাংলাদেশকে সহযোগিতা করে যাবে। যতক্ষণ পর্যন্ত সবাই নিরাপদ না হয়, আমরা কেউই নিরাপদ নই।”

কোভ্যাক্স-এর আওতায় ৪৫টিরও বেশি দেশে ৩৫০টি অতি নিম্ন তাপমাত্রার ফ্রিজার পৌঁছে দেয়ার ইউনিসেফের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ২৬টি ফ্রিজার সরবরাহ করা হয়েছে। সংক্ষিপ্ততম সময়ে সম্পূর্ণভাবে টিকা পাওয়া মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে আলট্রা কোল্ড-চেইন ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এটি একটি বিশাল এবং অভূতপূর্ব উদ্যোগ।

আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার মাত্র নয় শতাংশ দুই ডোজ টিকা পেয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা ও বিতরনের সমঅধিকার নিশ্চিত করাই কোভ্যাক্স-এর লক্ষ্য। আজকের ২৫ লাখ টিকার চালানটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোভ্যাক্সের মাধ্যমে ৬০ লাখ ফাইজার টিকার অনুদানের অংশ। এছাড়াও অন্যান্য কোভ্যাক্স ডেলিভারি এবং বাংলাদেশ সরকারের দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে দেশে প্রচুর পরিমাণে টিকা এসেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. বারদান জং রানা বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কোভ্যাক্সের প্রশংসা করছে।“ রানা আরও বলেন, “বিশ্বব্যাপী সকল মানুষের জন্য কোভিড-১৯ টিকার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা গেলে মহামারীর গতিকে কমানো এবং মানুষের জীবন বাঁচানো সহ দেশের অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। এই ফ্রিজারগুলো দেশের আলট্রা কোল্ড চেইনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা পালন করবে। সকলের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য সর্বত্র সবার কাছে টিকা পৌছে দেয়া এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কাউকে পেছনে ফেলে যাবার সুযোগ আমাদের নেই।”

বিভিন্ন দাতার অঙ্গীকার এবং সরাসরি অনুদানের মাধ্যমে কোভ্যাক্স বাংলাদেশসহ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে টিকা এবং অন্যান্য সামগ্রী সরবরাহ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন দাতা এবং টিকা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে এগিয়ে আছে এমন দেশগুলোর কাছ থেকে কোভ্যাক্স-এর সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানায় ইউনিসেফ এবং ডব্লিউএইচও।

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

ফারিয়া সেলিম
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8809604107077
ই-মেইল: fselim@unicef.org
ম্যানুয়েলা আল্টোমন্টে
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশ
টেলিফোন: 8801787693318
ই-মেইল: altomontem@who.int

ইউনিসেফ সম্পর্কে

প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।

আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd

ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সম্পর্কে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জাতিসংঘের কার্যপরিধির ভেতরে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে বৈশ্বিকভাবে নেতৃত্বের ভূমিকায় রয়েছে। ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ডব্লিউএইচও সুস্বাস্থ্যের বিষয়টি তুলে ধরতে, বিশ্বকে নিরাপদ রাখতে এবং সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা জনগোষ্ঠীকে সেবা প্রদানে ছয়টি অঞ্চলজুড়ে দেড় শতাধিক কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৯৪টি সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করে। ২০১৯-২০২৩ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আরও ১০০ কোটি মানুষকে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা, আরও ১০০ কোটি মানুষকেস্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা থেকে রক্ষা করা এবং আরও ১০০ কোটি মানুষকে আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও ভালো রাখা নিশ্চিত করা।

আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.who.int

ডব্লিউএইচও-এর সাথে থাকুন: Twitter, Facebook, Instagram and YouTube