আটক কেন্দ্র থেকে শিশুদের মুক্তি দেওয়ার উপর বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি টোমো হোযুমির বিবৃতি

06 মে 2021
A boy crying after being reunited with his father
UNICEF Bangladesh/2020/Himu
টঙ্গীর একটি শিশু আটক কেন্দ্র থেকে মুক্তি পেয়ে বাবার সাথে পুনর্মিলিত হয়ে ১৫ বছর বয়সের একজন ছেলে ভেঙে পড়ে। ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে গত বছরে আটক কেন্দ্র থেকে ১,৪০০ এরও বেশি শিশু মুক্তি পেয়েছে। ছবিটি ২০২০ সালের ২০ মে তোলা।

ঢাকা, ৬ মে ২০২১: “সম্প্রতি ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে বাংলাদেশের আটক কেন্দ্রগুলো থেকে ৩৪৫ শিশুকে মুক্তি দেওয়াকে সাধুবাদ জানিয়েছে ইউনিসেফ। এটি বাংলাদেশে শিশুদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং শিশুদের জন্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও তাদের সর্বোত্তম স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

“বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ইউনিসেফের সহায়তায় ২০২০ সালের মে মাসে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম চালু করে। এর পর থেকে ভার্চুয়াল আদালতের মাধ্যমে এক হাজার চারশ'রও বেশি শিশুকে আটক কেন্দ্র থেকে মুক্ত করা হয়েছে। এই শিশুদের মধ্যে ০.৫ শতাংশেরও কম তাদের মুক্তির পর পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে।

“আটকে রাখা হলে তা শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই অপ্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এড়ানো উচিত। যেসব শিশুর বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং যারা এর শিকার বা সাক্ষী, তাদের জন্য আটকে রাখা ব্যতীত অন্য কোনো ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানাচ্ছে ইউনিসেফ।

“যেসব শিশু নিরাপদে তাদের পরিবারে বা উপযুক্ত বিকল্প যত্নে ফিরে যেতে পারে তাদের আটক কেন্দ্র থেকে ছেড়ে দেওয়া উচিত। বর্তমান অতিমারিজনিত লকডাউন চলাকালে এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, যখন কেন্দ্রগুলোতে সীমিত সংখ্যক কর্মী কাজ করছে এবং শিশুরা জনাকীর্ণ আটক কেন্দ্রগুলোতে সংক্রমণ, অবহেলা, নির্যাতনের শিকার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

“অতিমারি চলাকালে বাংলাদেশ শিশুদের সুবিধা ও তাদের অধিকারের জন্য বিচার ব্যবস্থা সংস্কারের মাধ্যমে শক্তিশালী নেতৃত্ব প্রদর্শন করেছে। শিশু-সম্পর্কিত যেসব মামলা বিচারাধীন থাকায় হাজার হাজার শিশুকে আটকে রাখা হয়েছে সেই মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে এই গতি আমাদের ধরে রাখতে হবে।

“শিশুদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির সুযোগ উন্নত করতে বাংলাদেশ সরকার, সুপ্রিম কোর্টের শিশু অধিকার বিষয়ক বিশেষ কমিটি এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে পূর্ণ সহায়তা দিতে প্রস্তুত ইউনিসেফ। ২০১৩ সালের শিশু আইনের প্রয়োগ জোরদার করার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশে পুলিশিসহ সব পর্যায়ে শিশুদের আটকে রাখা ঠেকাতে পারি।

গণমাধ্যম বিষয়ক যোগাযোগ

অমিয়া ধারা হালদার
ইউনিসেফ বাংলাদেশ
টেলিফোন: +8801701209290
ই-মেইল: ahalder@unicef.org

ইউনিসেফ সম্পর্কে

প্রতিটি শিশুর অধিকার ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বিশ্বের ১৯০ টি দেশে কাজ করছে ইউনিসেফ। সকল বঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে আমরা কাজ করি বিশ্বের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে।

আমাদের কাজ সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd

ইউনিসেফের সাথে থাকুন: ফেসবুক এবং টুইটার