রোহিঙ্গা শিশুদের দুর্দশা

বঞ্চনার জীবন

উখিয়ার বালুখালি ক্যাম্পের একটি পাহাড়ের ওপর দাড়িয়ে শিশু
UNICEF/UN0143063/LeMoyne

অবদান রাখুন

বর্তমানে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে ও মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে অবস্থানরত আনুমানিক সাত লাখ ২০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা শিশুর প্রচণ্ডভাবে মানবিক সহায়তা ও সুরক্ষা দরকার।

সহায়তার জন্য বহির্বিশ্বের দিকে তাকিয়ে আছে তারা।

কেমন আছেন তারা?

ছয় মাস আগে মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা লাখ লাখ ভয়ার্ত রোহিঙ্গার ঢল নেমেছিল বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলের সৈকত ও ধানক্ষেতে। তাদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই ছিল নারী ও শিশু, বিষয়টি সে সময় অনেকের নজর কেড়েছিল।

ছোট ছোট শিশুরা বয়সে একটু ছোট ভাই-বোনকে হাত ধরে, কাঁধে করে নিয়ে আসে, আতঙ্কিত শিশুরা বিপর্যস্ত বাবা-মায়ের কাপড় আঁকড়ে ধরে থাকে এবং অনিশ্চিত এই যাত্রার পথে মারা যাওয়া শিশুদের রেখে আসা হয় ছোট ছোট কবরে।

ব্যতিক্রমীভাবে দেশান্তরী হওয়া এসব মানুষের ঢল শিগগিরই বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠা মানবিক সংকটে রূপ নেয়। শিশুদের জন্য বিশ্বের অন্যতম সংকটকালীন পরিস্থিতিও হয়ে ওঠে এটা। এরপরেও বিষয়টি সম্পর্কে যতটা প্রকাশ্য হয়েছে তা প্রকৃত অবস্থার খণ্ডাংশ মাত্র।

এদিকে মিয়ানমারেও প্রায় ৫০ লাখের মতো রোহিঙ্গা এখনও নিজেদের গ্রাম ও বাস্তুচ্যুতদের শিবিরের বন্দি দশায় দিনযাপন করছে। যে মাত্রার সহিংসতা ও ভয়াবহতার মুখে তাদের আত্মীয়-প্রতিবেশী দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে সে রকম ঘটনা তাদের ক্ষেত্রেও ঘটনা পারে বলে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে এসব মানুষ।

মিয়ানমারের পরিস্থিতি আরও কতটা ভয়ঙ্কর এবং সেখানে শিশুদের পরিস্থিতির উন্নয়নে কী কী চ্যালেঞ্জ রয়েছে সে বিষয়গুলো এখনও খুব স্পষ্ট নয়।


বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ইউনিসেফের আহ্বান 

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের শিবিরগুলোর গাদাগাদি অবস্থার নিরসনে শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দ। তাদের জন্য পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য মৌলিক সেবা প্রাপ্তির পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি।

শরণার্থীদের জন্য অতিরিক্ত জমি বরাদ্দ। পানি, পয়ঃনিষ্কাশন, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য মৌলিক সেবা প্রাপ্তির পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি

শরণার্থী শিবিরগুলোর সব শিশুর জন্য একাধিক ভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা।

শরণার্থী শিবিরগুলোর সব শিশুর জন্য একাধিক ভাষায় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরিতে সহায়তা

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সব রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম নিবন্ধন।

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সব রোহিঙ্গা শিশুর জন্ম নিবন্ধন

সব রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারকে শরণার্থী মর্যাদা প্রদান।

সব রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারকে শরণার্থী মর্যাদা প্রদান


 

রাখাইন প্রদেশের সব জায়গায় ইউনিসেফ ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা দানকারী সংস্থার অবাধ প্রবেশাধিকারই এখনও আলোচনার বাইরে থাকা রোহিঙ্গাদের অত্যাবশ্যক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা সরবরাহের সুযোগ করে দিতে পারে।

আর রাখাইনে স্থায়ীভাবে সহিংসতার অবসান ছাড়া এখনও জীবন বাঁচাতে মরিয়া অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশের দিকে পাড়ি জমাতে থাকবে।

২০১৭ সালের আগস্টে এই সংকট শুরু হওয়ার পর অনেক কিছুই করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা, গভীর এই সংকটের বেদনাদায়ক প্রতিক্রিয়া আরও ছড়িয়ে পড়ার আগে তা নিরসন এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম রোহিঙ্গা শিশুদের বঞ্চনার জীবনে বন্দি করে রাখা রুখতে আরও অনেক কিছু করতে হবে।

প্রায় খালি হাতে আসা পরিবারগুলোকে সহায়তা হিসেবে পাওয়া পানি, খাবার ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজনের জন্য সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

 


মিয়ানমারের প্রতি ইউনিসেফের আহ্বান

শিশু হত্যাসহ রোহিঙ্গাদের ওপর সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ।

শিশু হত্যাসহ রোহিঙ্গাদের ওপর সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ। রোহিঙ্গা ও অন্য সব জাতিগোষ্ঠীর শিশুদের সুরক্ষা প্রদান

মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা ও সংগঠনগুলোকে রাখাইন প্রদেশের সব জায়গায় অবাধে যাওয়ার সুযোগ প্রদান।

মানবিক ত্রাণ সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা ও সংগঠনগুলোকে রাখাইন প্রদেশের সব জায়গায় অবাধে যাওয়ার সুযোগ প্রদান

রাখাইনে মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহায়তা দরকার এমন সব ব্যক্তির অবস্থার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব কিছু সরবরাহ করতে হবে। তা হতে হবে রাখাইন পরামর্শক কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে।

রাখাইনে মানবিক সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব কিছু সরবরাহ করতে হবে। তা হতে হবে রাখাইন পরামর্শক কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে তাদের আগের বসতিতে ফিরে যেতে পারে তার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রথমে তাদেরকে নিজেদের মধ্যে আলোচনার সুযোগ দিতে হবে। তাদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে।

শরণার্থীরা যাতে স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং মর্যাদার সঙ্গে ফিরে যেতে পারে তার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। রোহিঙ্গাদের মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে হবে।


 

রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠীরও অনেকটা একই অবস্থা চলছে। তারাও গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যু ঝুঁকিতে রয়েছে।

শ্বাসতন্ত্র সংক্রান্ত জটিলতা এবং পানিবাহিত রোগ এখানে প্রধান সমস্যা। তবে সম্প্রতি ডিপথেরিয়ার প্রাদুর্ভাবে ১৫ বছরের কম বয়সী ‍শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে, এই রোগীর ৭৫ শতাংশই ছিল শিশু।

গুরুতর অপুষ্টির শিকার ১৪ হাজারের বেশি শিশু ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত চিকিৎসা কেন্দ্রে ভর্তি হয়েছে। এদিকে অসহায় ছেলে-মেয়েগুলো বিশেষ করে মেয়েরা মানবপাচার ও অন্যান্য নিপীড়নের ঝুঁকিতে রয়েছে।

শিবিরে সদ্যোজাত শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবাও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া প্রতিটি শিশুকে জন্ম সনদ দেওয়া হয়। তবে এটা নাগরিকত্বের মর্যাদা পায় না। রোহিঙ্গা শিশুদের দেশহীনতার একটি সমাধান বের করাও জরুরি বিষয়।

 


 

আশ্রয় শিবিরে বালু মাটি ও খাড়া পাহাড়ি ঢালে গড়ে তোলা খুপড়ি ঘরগুলো ঝড়-‍বৃষ্টির মৌসুমে যাতে ভেসে না যায় সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে সেগুলো শক্ত-পোক্ত করা দরকার।
UNICEF/UN0219092/Modola
বালুখালি-কুতুপালং এর পাহাড়ের ঢালে বিপজ্জনক অবস্থায় থাকা শরনারথিদের ঘর।

আশ্রয় শিবিরে বালু মাটি ও খাড়া পাহাড়ি ঢালে গড়ে তোলা খুপড়ি ঘরগুলো ঝড়-‍বৃষ্টির মৌসুমে যাতে ভেসে না যায় সেজন্য জরুরি ভিত্তিতে সেগুলো শক্ত-পোক্ত করা দরকার।

 

রোহিঙ্গা শরণার্থীরা তাদের নিয়তি কী হবে তা জানার অপেক্ষায় থাকায় একটি প্রজন্মের শিশুরা মূল্যবান সময় হারাচ্ছে।

নাগরিক হিসেবে অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে তাদের স্বভূমিতে ফেরার উপযুক্ত পরিবেশ মিয়ানমারে যতদিন না তৈরি হচ্ছে ততদিন তাদের বাংলাদেশে থাকতে হবে এবং সেটা কতদিন হবে তা কারও জানা নেই।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে হবে এবং বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সহায়তা দিতে হবে যাতে তারা নতুন-পুরাতন রোহিঙ্গাদের নিয়ে সৃষ্ট সংকট সামাল দিতে পারে।

একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের ওপর চাপ দিতে হবে যাতে তারা রোহিঙ্গাদের অধিকার দেয় এবং দ্রুত ও নিরাপদে ফেরার পরিবেশ তৈরি করে। রোহিঙ্গাদের আবার কোনো শিবিরে নয় (আইডিপি ক্যাম্প), তাদের নিজেদের বসতবাড়িতে ফেরার পথ তৈরি করতে হবে।

 

ময়নারঘোনা শিবিরে শিশুরা
UNICEF/UN0147302/Brown
ময়নারঘোনা শিবিরে শিশুরা

এখন ১০০ মানুষকে একটি মাত্র টয়লেট ব্যবহার করতে হয়। এই অবস্থায় কলেরা বা ডায়রিয়া ছড়িয়ে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

ISCG map Aug 2 2018
ISCG

বাংলাদেশের দক্ষিণের কয়েকটি জেলাতে বাস করে এখন প্রায় ৯১৯,০০০ রোহিঙ্গা।  

 

 

 

আমরা কি করছি?

ওয়াশ

পানি নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে ৯,০০০ টি স্পটে। ৫০,০০০ এর ওপর টয়লেট তৈরি এবং সেগুলো সংরক্ষণ করা হয়।  

শিক্ষা

ইউনিসেফের শিশু বান্ধব কেন্দ্রগুলোতে খেলতে ও পড়ালেখা করতে আসে প্রায় ১৪৫,০০০ শিশু   

হেলথ

প্রায় ২,১৬৫,৫৪৩ জনকে আউট-পেশেন্ত সেবা দান

 

পুষ্টি

চরম পুষ্টিহীনতা রোধে পরীক্ষা করা হয়েছে ১৪৫,৫৯৯ জন শিশুকে 

 

সিপি

২০০,০০০ এর ওপর শিশুকে মানসিক ও অন্যান্য সেবা দান   



অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে ইউনিসেফ মিয়ানমার ও বাংলাদেশ দুই জায়গাতেই রোহিঙ্গাদের সহায়তা করছে। পুষ্টি, স্বাস্থ্য সেবা, নিরাপদ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশনের মতো জীবন রক্ষাকারী সেবার পাশাপাশি তাদের বিকালে শিক্ষায় সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য সরকার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে ত্রাণ তৎপরতা পরিচালিত হয়। এছাড়া এদেশের সরকার ও সাধারণ মানুষ উদারতা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোয় বিপর্যয় ঘটেনি। তবে ঝড়-বৃষ্টি থেকে তাদের রক্ষা এবং শিশুদের সেবা টিকিয়ে রাখতে জরুরি প্রচেষ্টা ও তহবিল দরকার।

স্থায়ী সমাধানের জন্য আরও অনেক কিছু প্রয়োজন: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি, তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক রীতি-নীতি এবং রাখাইন প্রদেশে বসবাসরত বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনার অবসান।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান নেতৃত্বাধীন পরামর্শক কমিশনও গত বছর তাদের প্রতিবেদনে এসব সুপারিশ করেছিল। কমিশন মিয়ানমারের দরিদ্র প্রদেশগুলোর অন্যতম রাখাইনে স্কুল, স্বাস্থ্য সেবা ও অন্যান্য মৌলিক সেবায় জরুরিভাবে বিনিয়োগের আহ্বান জানায়, যাতে সেখানকার সব সম্প্রদায় লাভবান হয়। এটা করা হলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজেদের বাড়িতে ফেরার অনুকূল পরিবেশও তৈরি হবে।

স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় শিশু বা তাদের পরিবার বিপদে পড়বে না বা ফেরত যাওয়া পরিবারকে শিবিরে বসবাসেও বাধ্য করা হবে না। ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদের অবশ্যই চলাচলের স্বাধীনতা এবং জরুরি সেবা পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।


 

ইউনিসেফ দূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
UNICEF/UN0210251/Sokol
শামলাপুর শরণার্থী শিবিরে ইউনিসেফ শুভেচ্ছা দূত প্রিয়াঙ্কা চোপড়া

খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ উদভ্রান্ত এসব মানুষের জন্য যা করেছে তার জন্য তারা ব্যাপক প্রশংসা পাওয়ার দাবিদার। বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ত্রাণ সহায়তা দানকারী সংস্থাগুলো এই মানবিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা এড়িয়েছে- অন্তত এই সময়ের জন্য হলেও তারা তা পেরেছে।

এই সংকটের ভুক্তভোগী সব শিশুর সুরক্ষার জন্য সম্ভাব্য সব কিছু করতে হবে। মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয়েরই তা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে যেহেতু তারা জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ অনুসমর্থন করেছে।

শিক্ষায় বিনিয়োগ শুরুর মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও রক্ষার অঙ্গীকারের মাধ্যমে শিশু ও পুরো জনগোষ্ঠীকে এই সংকট থেকে উত্তরণের আশা দেখানো যায়।

রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের  প্রতি শ্রদ্ধা এবং তার সুরক্ষার ওপরই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নির্ভর করছে।

বর্তমানের এই সংকটকে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সহিংসতা ও বৈষম্যের অবসান এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নতুনভাবে জীবন শুরু করার জন্য সমন্বিত পদক্ষপ গ্রহণের টার্নিং পয়েন্টে রূপান্তর করতে হবে।

রোহিঙ্গা শিশুদের একটি আশাহীন আতঙ্কের জীবন যেখানে জড়তাগ্রস্ত হওয়া ছাড়া বিকল্প থাকে না তার মধ্যে ফেলে রাখা যাবে না। এটা হবে ওই অঞ্চলের সব শিশু ও জনগোষ্ঠীর একটি উন্নত ভবিষ্যতের আশা সঞ্চারের জন্য বিনিয়োগ।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এসব লক্ষ্য অর্জনে সহায়তার জন্য ইউনিসেফ প্রস্তুত। শিশু, নারী এবং ধর্ম, গোত্র ও সামাজিক অবস্থান নির্বিশেষে সব অসহায় জনগোষ্ঠীর সংকট উত্তরণ ও উন্নয়নের যে অভিন্ন লক্ষ্য তা অর্জনের জন্য উভয় দেশের সরকারের সঙ্গেও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে প্রস্তুত ইউনিসেফ।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শিশু ও পরিবারের সদস্যদের জীবনরক্ষার সব ধরনের মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের যোগান দিতে হবে। বিশেষ করে এই দুরবস্থা থেকে তাদের বের হয়ে আসার জন্য পরিচালিত কর্মকাণ্ডে জরুরি সহায়তা দিতে হবে।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শিশু ও পরিবারের সদস্যদের জীবনরক্ষার সব ধরনের মানবিক সহায়তার জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের যোগান দিতে হবে

রোহিঙ্গা শিশুরা যাতে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য সব রোহিঙ্গা শিশুর মানসম্মত শিক্ষায় বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করতে হবে। ইউনিসেফ ও তার অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তার জন্য তারা যাতে সব রোহিঙ্গা শিশু ও পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারে সেজন্য মিয়ানমারের প্রতি রাখাইন প্রদেশে অবাধে মানবিক সহায়তা দেওয়ার অনুমতি প্রদানের আহ্বান রাখতে হবে।

রোহিঙ্গা শিশুরা যাতে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় সেজন্য সব রোহিঙ্গা শিশুর মানসম্মত শিক্ষায় বিনিয়োগ করতে হবে। পাশাপাশি সংকটের স্থায়ী সমাধানের পথ তৈরি করতে হবে।

ইউনিসেফ ও তার অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তার জন্য তারা যাতে সব রোহিঙ্গা শিশু ও পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারে সেজন্য মিয়ানমারের প্রতি রাখাইন প্রদেশে অবাধে মানবিক সহায়তা দেওয়ার অনুমতি প্রদানের আহ্বান রাখতে হবে।

ইউনিসেফ ও তার অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তার জন্য তারা যাতে সব রোহিঙ্গা শিশু ও পরিবারের কাছে পৌঁছাতে পারে সেজন্য মিয়ানমারের প্রতি রাখাইন প্রদেশে অবাধে মানবিক সহায়তা দেওয়ার অনুমতি প্রদানের আহ্বান রাখতে হবে

রোহিঙ্গা শিশু ও পরিবারকে সহায়তার কার্যক্রম যাতে ঠিকভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে সরকার ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কারণ রোহিঙ্গাদের মানবাধিকারের  প্রতি শ্রদ্ধা এবং তার সুরক্ষার ওপরই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান নির্ভর করছে।

রোহিঙ্গা শিশু ও পরিবারকে সহায়তার কার্যক্রম যাতে ঠিকভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে সরকার ও সুশীল সমাজের সঙ্গে কাজ করতে হবে।