শিশুদের জন্য ন্যায়বিচার

আইনি সহায়তায় শিশুর সুরক্ষা

Children walk in a dark alley at Chittagong
UNICEFBangladesh/2017/LeMoyne

চ্যালেঞ্জ

সব শিশুর সুরক্ষার জন্য আইনের বাস্তবায়ন একটি বড় চ্যালেঞ্জ

অপরাধী বা অপরাধের বলি বা প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে শিশুকেও বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়।

বাংলাদেশের শিশু-কিশোর বিচার ব্যবস্থা পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০১৩ সালের শিশু আইন বেশ আশা জাগানিয়া। তবে সব শিশুর সুরক্ষায় এই আইনের প্রয়োগ এখনও একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়েছে।

জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদে (সিআরসি) স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে এই সনদের বিধানগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব রয়েছে বাংলাদেশের।

এই সনদে শিশুদের প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে ভিন্ন মানব সত্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সুতরাং শিশুর জন্যে চাই বিশেষ যত্ন আর সুরক্ষা। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক অগ্রগতি অর্জন করলেও এখনও পুরোপুরি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারেনি।

অপরাধী হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে শিশুর ন্যূনতম বয়স বাড়িয়ে ১৬ বছর করা উচিৎ।

সিআরসি অনুযায়ী শিশু অপরাধীকে ডিটেনশনে না দিয়ে বিকল্প ব্যবস্থা করতে হবে। কারাবাস হবে সবশেষ পদক্ষেপ। এমনকি গুরুতর শিশু অপরাধীকেও বড়দের সঙ্গে এক জায়গায় রাখা যাবে না। তবে বাংলাদেশে বিকল্প ব্যবস্থার  সীমাবদ্ধতা রয়েছে এখনও।

শিশু আ্ইনে শিশু কল্যাণ বোর্ড গঠন, শিশুদের জন্য বিশেষায়িত পুলিশ ডেস্ক, শিশু আদালত, জামিন লাভ ও আইনি প্রতিনিধি নিয়োগের পথ সুগম হয়েছে। কিন্তু এর জন্য আরও লোকবল, তহবিল এবং সুস্পষ্ট বিধি-বিধানের অভাব রয়ে গেছে।

অপরাধী হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে শিশুর ন্যূনতম বয়স বাড়িয়ে ১৬ বছর করা উচিৎ

সমাধান

শিশু আইন বাস্তবায়নের পথ তৈরিতে বিচার বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে ইউনিসেফ

এই আইন বাস্তবায়ন ত্বরাণ্বিত করতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে ইউনিসেফের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।এর অংশ হিসেবে জাতীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে অংশীদারদের দক্ষতা বাড়ানোর কার্যক্রমের পরিকল্পনা করেছে ইউনিসেফ।

কিশোর-কিশোরীদের আইনি সহায়তাকে এগিয়ে নিতে পুলিশ কর্মকর্তা, বিচারক, আইনজীবী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রবেশন কর্মকর্তাদের (কিশোর অপরাধী সংশোধনে নিয়োজিত) নিয়ে অনেক ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।এসব প্রশিক্ষণের লক্ষ্য বিভিন্ন অংশীদারকে তার ভূমিকা ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা, যা না হলে আইনের কার্যকর প্রয়োগ সম্ভভ হবে না।

শিশু কল্যাণ বোর্ডকে কার্যকর করে তোলা এবং আইনের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া শিশুর নিরাপদ ও মানসম্মত আইনী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশের আটটি বিভাগেই পরামর্শ কেন্দ্র গড়ে তুলেছে ইউনিসেফ।

ইউনিসেফ শিশু আদালত ও পুলিশি তৎপরতায় শিশুবান্ধব কর্মপদ্ধতি প্রয়োগে উৎসাহিত করে, যাতে একটি শিশুর অধিকার রক্ষার প্রাথমিক পর্ব শুরু হয়।

শিশু আদালত ও থানার পরিবেশ কতোটা শিশুবান্ধব তা খতিয়ে দেখতে সহায়তা করে ইউনিসেফ। এই উদ্যোগে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য সংঘটিত ক্ষতি পোষানোর লক্ষ্যে রেস্টোরেটিভ বিচার ব্যবস্থাকেও উৎসাহিত করা হয়।

শিশু-কিশোররা যাতে সহিংসতায় না জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে সে লক্ষ্যে তাদের প্রশিক্ষণ দেয় ইউনিসেফ।

Adolescent boys in an interactive advocacy session
UNICEF/UN071390/Kiron

শিশু-কিশোরীদের জীবন-দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেয় ইউনিসেফ যাতে তারা সহিংসতায় না জড়িয়ে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি মোকাবেলা করতে পারে 

এই বিষয়ে আরও জানতে