২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে টিকা খাওয়াতে জাতীয় ভিটামিন এ প্রচারনায় যোগ দিল ব্লু ফোর্সের যুব স্বেচ্ছাসেবকরা

স্বেচ্ছাসেবকরা মূল পুষ্টি অভ্যাসগুলো সম্পর্কেও প্রচার করেছেন এবং মায়েদের সম্পূরক ভিটামিন খাওয়ানোর বিষয়ে উৎসাহিত করার জন্য বাড়ি বাড়ি যান

এস এম মোস্তাফিজুর রহমান* এবং মুহাম্মাদ এবি সিদ্দিক-কের সহায়তায় আকরাম হোসেন
স্বেচ্ছাসেবীরা ভিটামিন এ+ প্রচারনায়
UNICEF Bangladesh/2020/Mawa
12 জানুয়ারি 2020

দাসপাড়া পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের (এফডব্লিউসি) একজন স্বাস্থ্য সহকারী শিমুল দাস ১১ জানুয়ারী ২০২০-এ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বাইরের জনগোষ্ঠি এবং যুব স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় একটি ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণ কেন্দ্র গড়ে তোলেন।

তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের ব্লু ফোর্সের যুব স্বেচ্ছাসেবক সিমস্যাং ফ্রিং চামবুগং।

তিনি বলেন, “আমি বাংলাদেশের গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে পুষ্টি বিষয়ে পড়ছি। তবে এই প্রথম আমি অনুভব করলাম যে, আমার শিক্ষা অন্যের কাজে লেগেছে। বেশিরভাগ মানুষ জানেই না যে, শাকসবজি এবং মাংসে ভিটামিন এ রয়েছে। যার ফলে, তাদের অনেক শিশুই রাতকানা এবং অন্যান্য অসুস্থতায় ভুগছে। আমি মায়েদের সাথে তাদের শিশুদের পুষ্টি সম্পর্কে সারাদিন কথা বলেছি।”

একদিনে ২ কোটি ১০ লাখ শিশু ভিটামিন-এ ক্যাপসুল পায়

দিনব্যাপী চলমান এই জাতীয় প্রচারাভিযান ১,২০,০০০ স্থায়ী এবং ২০,০০০ অস্থায়ী বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সকাল  ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২ কোটি ১০ লাখ শিশুকে ভিটামিন-এ খাওয়ানোর লক্ষ্য নিরধারন করেছিল।

বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জনস্বাস্থ্য পুষ্টি ইনস্টিটিউট (আইপিএইচএন)-এর জাতীয় পুষ্টি সেবা (এনএনএস) এই প্রচারাভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছে। ক্যাপসুলসহ প্রচারাভিযানের ৯৫ শতাংশেরও বেশি ব্যয় সরকার বহন করেছে।

জাতীয় ভিটামিন এ প্রচারনা

তাৎক্ষণিক পরিবিক্ষন এবং রিপোর্টিং

অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করে প্রচারাভিযান তত্ত্বাবধানের জন্য তাৎক্ষণিক পরিবিক্ষন এবং রিপোর্টিং (আরটিএমআর) পদ্ধতির ব্যবহার করা হয়েছে।

পরিবিক্ষন থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপলোড ও বিশ্লেষণ করা হয়েছিল এবং সাথে সাথেই অনলাইন ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলগুলি রিপোর্ট করা হয়েছিল।

ব্লু ফোর্স স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় ১,১৭৫ জন মনিটর আনুমানিক ৪৯,৭০০টি বিতরণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন, যা দেশের ৪৯২টি উপজেলার ৮৫ শতাংশকে কাভার করেছিল।

স্কয়ার হাসপাতালের ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণ কেন্দ্রের আরেক স্বেচ্ছাসেবক লিপি রানী মণ্ডল বলেন, “আমি পরিষেবাগুলি পরিবিক্ষন করে যাচ্ছি এবং বিস্তারিত তালিকা রয়েছে এমন তথ্যগুলো একটি অনলাইন অ্যাপে সন্নিবেশিত করছি।”

এমনকি এই প্রচারাভিযানটি পরিবিক্ষন করার পরে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী নিজেও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য সন্নিবেশিত করেন।

তাৎক্ষণিক পরিবিক্ষন চাহিদা ও যোগানের মধ্যে ব্যবধান ঘুচাতে সাহায্য করেছিল। উদাহরণস্বরূপ, ১১ শতাংশ কেন্দ্র যেখানে সরবরাহ কম ছিল সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল সরবরাহ করা হয়েছিল।

স্বেচ্ছাসেবীরা ভিটামিন এ+ প্রচারনায়
UNICEF Bangladesh/2020/Mawa

যুব শক্তিকে সংগঠিত করা

সিমস্যাং ও লিপির মতো, ২৫০জন যুব স্বেচ্ছাসেবক যারা বর্তমানে দেশের ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পুষ্টি বিষয়ে পড়াশোনা করছেন এবং অন্যান্য বিষয়ের ১৩০ জন শিক্ষার্থী এই প্রচারাভিযানে সহযোগিতা করেন।

এই প্রচারাভিযানটি কেবল শিশুদের ক্যাপসুল খাওয়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। স্বেচ্ছাসেবকরা মূল পুষ্টি অভ্যাসগুলো সম্পর্কেও প্রচার করেছেন এবং মায়েদের সম্পূরক ভিটামিনের খাওয়ানোর বিষয়ে উৎসাহিত করার জন্য বাড়ি বাড়ি যান।

শুধুমাত্র যুব স্বেচ্ছাসেবীরাই সারা দেশে ২,০০২টি বিতরণ কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করেছেন যেখানে ১০,০০১০ জন শিশু ভিটামিন-এ ক্যাপসুল গ্রহণ করছে। তারা ২১ টি জেলায় অবস্থান করে এই পর্যবেক্ষণ করেন, যার মধ্যে বেশিরভাগ এলাকাই ছিল পিছিয়ে পড়া এবং দুর্গম।

বাংলাদেশে সমতার সাথে ভিটামিন-এ এর বিস্তার আরও বাড়ানোর জন্য সরকারকে সমর্থন করা ছাড়াও, এটি যুবকদের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুষ্টি কার্যক্রম সম্পর্কে শিখতে এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের সাথে আলাপচারিতার সুযোগ করে দিয়েছে। এই কার্যক্রম শিশুদের সার্বিক কল্যানের মাধ্যমে দেশকে সেবা করার জন্য যুবকদের মধ্যে সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্ম দিয়েছে।

এই প্রচারাভিযানে ইউনিসেফ, এনআই, জিএসি, সিআইএফএফ, বিএমজি এবং ইইউ সরকারকে সহযোগিতা করছে।

#Unite4Nutrition #VolunteersForChildren

*লাইন ডাইরেক্টর, এনএনএস, জনসাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান