কোভিড-১৯ লকডাউনের সময় জাতীয় টিভির মাধ্যমে প্রচারিত দূরশিক্ষণে অভ্যস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা

টেলিভিশনের সহজপ্রাপ্যতা শিশুদের দূরশিক্ষণে সহায়তা করছে

ইউনিসেফ
ইফ্ফাত মুন্তাহা উষা
UNICEF Bangladesh/2020/Bitu
06 মে 2020

১৩ বছর বয়সী ইফ্ফাত মুন্তাহা উষা বলে, “অনলাইনে বা টেলিভিশনে পড়াশোনা করা আমার পক্ষে খুব কঠিন নয়।” সে ও তার ১২ বছর বয়সী ভাই তাসমিদ ইসলাম খুব সহজেই ইন্টারনেট এবং টেলিভিশন ব্যবহার করে বাড়িতে বসে দূরশিক্ষণের সাথে অভ্যস্ত হয়েছে বলে এই কিশোরী দাবী করে। তবে, ইফ্ফাত আরো জানায়, “এটি কখনও কখনও খুব একঘেয়ে হতে পারে।”

ঢাকার মাইলস্টোন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে ইফ্ফাত। তবে, দিনগুলো অন্যান্য সাধারণ দিনের মতো নয়। কারন, বাংলাদেশ সরকারের কোভিড-১৯ লকডাউন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ১৮ মার্চ ২০২০ থেকে দেশের সকল স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ইফ্ফাত ও তার সহপাঠিরা বাড়িতেই বন্দি অবস্থায় রয়েছে।

সিদ্ধান্তটির অর্থ হলো যেসব শিশু ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের বাইরে ছিল তারা সহ ৪ কোটি ২০ লক্ষ শিশু আর স্কুলে যেতে পারবে না এবং সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত তাদেরকে স্কুলে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হতে পারে। তাদের মধ্যে অনেকেই এই প্রথমবারের মতো দূরশিক্ষণে পড়াশোনা করছে।

 

কম সুবিধাভোগী শিশুদের অবশ্যই এই সুযোগ হারানো উচিত হবে না

সর্বাধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানোর জন্য টিভি, রেডিও, মোবাইল ফোন এবং ইন্টারনেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কার্যকর দূরশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো সরবরাহ করতে বাংলাদেশ সরকারের সাথে ইউনিসেফ কাজ করছে । যেসব শিক্ষক দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে ক্লাশ নিচ্ছেন তাদের সহায়তার জন্য নির্দেশিকা তৈরিতেও ইউনিসেফ সাহায্য করছে।

উন্নত অনেক দেশের শিশুদের মতো বাংলাদেশের বেশিরভাগ শিশুর ইন্টারনেটের সুযোগ নেই। টেলিভিশন দেখার সুযোগ যেহেতু বেশিরভাগ পরিবারের রয়েছে, সে কারনেই প্রাথমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ক্লাশগুলো নেওয়ার ক্ষেত্রে টেলিভিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অগ্নিদ্রোহী স্পন্দন
UNICEF Bangladesh/2020/Mawa
‘ও’ লেভেল পরীক্ষা বাতিল হওয়ায় সে খুব বিধ্বস্ত বলে জানায় অগ্নিদ্রোহী স্পন্দন।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের এডুকেশন বিভাগের প্রধান নূর শিরিন মো. মোক্তার বলেন, “কোভিড-১৯ সঙ্কটের সময় যত সম্ভব তত শিশুর জন্য দূরশিক্ষণকে একটি বিকল্প হিসাবে আমরা নিশ্চিত করতে চাই। তিনি আরো বলেন, “শিক্ষার সমতার বিষয়টি আমাদের চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এ কারনেই ইতোমধ্যে টেলিভিশনে শেখানো পাঠগুলোর সহায়ক হিসেবে সেগুলো মোবাইল ফোন এবং রেডিওর মাধ্যমেও দেয়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, “কম সুবিধাভোগীরা যাতে এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় তা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জন্য বিকল্প পদ্ধতিতে শিক্ষা দিতে এবং রুটিনগুলো পুনরায় তৈরিতে সাহায্য করার জন্য আমাদের এখনই জরুরিভাবে কাজ করা প্রয়োজন।”

এমনকি লেখাপড়ায় ভালো এমন শিক্ষার্থীদের জন্য দূরশিক্ষণ প্রায়শই একটি চ্যালেঞ্জ। কারন টেলিভিশন এবং অনলাইনে সামাজিক মতবিনিময়য়ের সুযোগটাও তুলনামুলকভাবে কম।

১৩ বছর বয়সী ইফ্ফাত বলেন, “টেলিভিশন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্লাসগুলোতে যখন আমি উপস্থিত হই তখন সেটি আমার কাছে দিনের সবচেয়ে ভালো সময়, কিন্তু ক্লাসে দেয়া পাঠগুলো বুঝতে না পারা আমার কাছে দিনের সবচেয়ে খারাপ সময়।”

তাহমিদুল নাহার তার ছেলেমেয়ের পড়ানোর চ্যালেঞ্জগুলো উপভোগ করছেন।
UNICEF Bangladesh/2020/Bitu
তাহমিদুল নাহার বলছেন, বাড়িতে বসে তিনি তার ছেলেমেয়ের পড়ানোর চ্যালেঞ্জগুলো উপভোগ করছেন।

সামাজিক মাধ্যম পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে 

৪৩ বছর বয়সী তাহমিদুল নাহার একজন শিক্ষক এবং ইফ্ফাত ও তাসমিদ-এর মা। তিনি বলেন, লকডাউনের সময় সন্তানদের পড়াশোনাতে সহায়তা করা খুব একটা কঠিন বলে তিনি মনে করেন না।

তিনি আরও বলেন, “তারা স্বাবলম্বী এবং তাদের তাগাদা দেওয়ার আগেই তারা তাদের পড়াশোনা শেষ করে বলে আমি বিষয়টি বেশ উপভোগ করি।”

ভাইবোন যুগল জানায় ঘরে বসে পড়াশোনার সময় সামাজিক মাধ্যম এবং অনলাইন গেমগুলি মাঝে মধ্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তবে, তাদের মা একজন শিক্ষক তাই তারা বেশি বেশি সহযোগিতা এবং দিকনির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সৌভাগ্যবান। তারা দুজনই আশাবাদী যে শেষ পর্যন্ত স্কুলে ফিরে যেতে পারলে দীর্ঘমেয়াদে মহামারীটির তেমন কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

ইফ্ফাত বলেন, “বাড়ি থেকে পড়াশোনা করা যদিও মাঝে মাঝে বেশ কঠিন, তবে এই মহামারীটি আমার পরীক্ষার ফলাফল বা আমার ভবিষ্যত ক্যারিয়ারে কোনও প্রভাব ফেলবে বলে আমি মনে করি না।”