কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন সম্পর্কে আপনার যা জানা দরকার

করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন-এর অগ্রগতি সম্পর্কে সবচেয়ে সাধারণ যে সব প্রশ্ন রয়েছে সেগুলোর উত্তর

ইউনিসেফ
Vaccine
UNICEF/UN0200242/Singh [টিকা: এটি একটি ফাইল ফটো]
13 জানুয়ারি 2021

কার্যকর পরীক্ষা এবং বিদ্যমান প্রতিরোধ ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন মহামারীটিকে নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যাপারে সহায়তা করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসাবে কাজ করবে।

পাইপলাইনে বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতিশীল ভ্যাকসিন অনুমোদনের জন্য পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং ফাইজার / বায়োএনটেক এবং মোডার্না এবং অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনগুলি বেশ কয়েকটি কঠোর জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারা ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হওয়ায় নিরাপদ এবং কার্যকর ভ্যাকসিনের প্রতিযোগিতাটি এখন একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

কোভিড -১৯ এর ফলে সৃষ্ট রোগটি শিশুদের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। তাৎক্ষণিক শারীরিক প্রভাবের চেয়েও রোগটির প্রভাব আরও ব্যাপক। লকডাউনের বিধিনিষেধগুলো যদি অব্যাহত থাকে বা এগুলোকে যদি পুনরায় চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে শিশুদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

রুটিন স্বাস্থ্যসেবা কাভারেজের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়া এবং এক্ষেত্রে সৃষ্ট মন্দাভাব একটি প্রজন্মের শিশুদের স্বাস্থ্য ও তাদের ভবিষ্যতকে হুমকির মধ্যে ফেলেছে। কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য ভ্যাকসিন সম্পর্কে অভিভাবকদের মনের মধ্যে প্রশ্নের উদ্রেক করতে পারে এমন কয়েকটি সাধারণ প্রশ্নের উত্তর নিচে দেওয়া হয়েছে।

 

কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন কখন প্রস্তুত হবে?

নিরাপদ এবং কার্যকর ভ্যাকসিন প্রস্তুত করতে অনেক সময় লাগে। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরী ব্যবহারের জন্য ফাইজার/বিয়োনেটেক কভিড-১৯ ভ্যাকসিন (বিএনটি ১৬২ বি ২) তালিকাভুক্ত করেছিল, যা এক বছর আগে শুরু হওয়ার পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে জরুরি বৈধতা লাভ করেছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জরুরী ব্যবহারের তালিকা প্রক্রিয়াকরণ করে জরুরী জনস্বাস্থ্য অবস্থা দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের কাছে এই পণ্যগুলির প্রাপ্যতা ত্বরান্বিত করার চূড়ান্ত লক্ষ্যসহ লাইসেন্সবিহীন ভ্যাকসিনগুলি মূল্যায়ন ও তালিকাভুক্তকরণের জন্য ঝুঁকি ভিত্তিক প্রক্রিয়া শুরু করে।

বর্তমানে ২০০ টিরও বেশি ভ্যাকসিন প্রস্তুত করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব ভ্যাকসিনের অনেকগুলোই বর্তমানে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় রয়েছে। ভ্যাকসিনগুলোর বেশিরভাগই চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হওয়ার আগের পর্যায় অর্থাৎ ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে। 

সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে অত্যন্ত ত্বরিত গতিতে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ষ্টেকহোল্ডার কাজ করছে। যে কারনে কিছু ভ্যাকসিন ক্লিনিকাল পরীক্ষা সম্পন্ন করে আগামী ২০২১ সালে চূড়ান্ত ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হবে বলে আমরা আশা করছি।

তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরী যে, একটি ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স পাওয়া,  এরপর  বৃহৎ পরিসরে তা উৎপাদন করা এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহার করার পথ বেশ দীর্ঘস্থায়ী। কোনও একটি ভ্যাকসিন একবার প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেয়ে গেলে, ভ্যাকসিনটি যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের কাছে সময়মতো ও ন্যায়সঙ্গত উপায়ে পৌঁছানো এবং সবার জন্য ভ্যাকসিনটির প্রাপ্তি নিশ্চিত করার কাজটি বেশ জটিল হবে। ইউনিসেফ এবং এর সহযোগীরা এক্ষেত্রে কাজ করবে।

পিএএইচও এর  রিভলভিং ফান্ড এবং কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন গ্লোবাল অ্যাক্সেস ফ্যাসিলিটির (কোভাক্স ফ্যাসিলিটি) সাথে মিলিতভাবে বিশ্বের বৃহত্তম একক ভ্যাকসিন ক্রেতা হিসাবে ইউনিসেফ তার অনন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে এবং সম্ভবত বিশ্বের বৃহত্তম ও দ্রুততম ভ্যাকসিন সংগ্রহকারী ও সরবরাহকারী হতে পারে ইউনিসেফ।

>>প্রতিটি শিশুর কাছে ভ্যাকসিন পৌঁছাতে স্বাস্থ্যকর্মীদের কতদূর যেতে হবে তা পড়ুন।

 

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কীভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে?

কোনও রোগের কারণ হতে পারে এমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা অন্যান্য জীবাণু’র সংক্রামক এজেন্টকে অনুকরণ করেই ভ্যাকসিনগুলো কাজ করে। আমাদের শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দ্রুত এবং কার্যকরভাবে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে ‘শেখায়’ এটি।

ঐতিহ্যগতভাবে, সংক্রামক এজেন্টের দুর্বল ধরন জানার মাধ্যমে ভ্যাকসিনগুলো এটি করেছে যা আমাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এটির একটি স্মৃতি তৈরি করতে দেয়। এভাবে, ভাইরাসটি আমাদের অসুস্থ করার আগেই আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এটিকে দ্রুত সনাক্ত করতে এবং ভাইরাসটির বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। এভাবেই বর্তমানে কোভিড-১৯ এর কয়েকটি ভ্যাকসিনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছে এমন অন্যান্য সম্ভাব্য ভ্যাকসিনগুলোও নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করছে - যাকে আরএনএ এবং ডিএনএ ভ্যাকসিন বলা হয়।

অ্যান্টিজেনগুলোকে জানার পরিবর্তে (এমন একটি পদার্থ যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সাহায্য করে) আরএনএ এবং ডিএনএ ভ্যাকসিনগুলো আমাদের শরীরকে প্রয়োজনীয় জিনগত কোড দেয় যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে নিজে থেকেই অ্যান্টিজেন তৈরি করতে সহায়তা করে। কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রস্তুত করার বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য অনুগ্রহ করে ডব্লিউএইচও এবং সিইপিআই দেখুন।

 

করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন কি নিরাপদ হবে?

ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ার আগে ভ্যাকসিনের নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা তদারকি করার জন্য প্রতিটি দেশে একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা রয়েছে।

ভ্যাকসিনগুলো চালু হওয়ার আগে এবং তার পরেও ভ্যাকসিনের সুরক্ষা পর্যালোচনা করে এমন বেশ কয়েকটি স্বতন্ত্র প্রযুক্তি সংস্থাকে বৈশ্বিকভাবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সমন্বয় করে।

ভ্যাকসিনগুলো যে যথেষ্ট নিরাপদ এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তা প্রমাণ করতে মানুষের মধ্যে ব্যবহারের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দ্বারা অনুমোদিত ভ্যাকসিনগুলোকে কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ক্লিনিকাল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন যদিও অত্যন্ত দ্রুততার সাথে প্রস্তুত করা হচ্ছে; তবে কঠোর সুরক্ষা এবং কার্যকারিতার মান পূরণ করলেই কেবলমাত্র তা প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমোদন পেতে পারে।

শিশু এবং তাদের পরিবারের নিরাপত্তাকে ইউনিসেফ সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। নিরাপদ একটি ভ্যাকসিন সরবরাহ করাও এর অন্তর্ভুক্ত। 

 

কোভাক্স কী?

কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা, চিকিৎসা এবং ভ্যাকসিনের বিকাশ, উৎপাদন এবং ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্যতাকে ত্বরান্বিত করার জন্য কোভিড-১৯ সরঞ্জামের এক্সিলারেটের অ্যাক্সেস (অ্যাক্ট) একটি বৈশ্বিক সহযোগিতার বিষয়। অ্যাক্ট-এক্সিলারেটরের ভ্যাকসিন স্তম্ভ হিসাবে কোভ্যাক্স এর লক্ষ্য হলো কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা এবং এর উৎপাদন ত্বরান্বিত করা। এছাড়াও এর আরও লক্ষ্য হলো বিশ্বের প্রতিটি দেশের জন্য ভ্যাকসিনটির অবাধ ও ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্যতা নিশ্চয়তা দেওয়া।

সবচেয়ে উপযুক্ত ভ্যাকসিনটি সনাক্ত করতে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রস্তুতের বিষয়টাকে অব্যাহতভাবে নজরদারি করাই হলো কোভাক্স কায©ক্রমের মূল কাজ। আইনগত অনুমোদন পাবার আগেই উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতকারকদের উৎসহিত করতে  কোভাক্স কার্যক্রম প্রস্তুতকারকদের সাথে কাজ করে।

এটি করা হচ্ছে কারণ সাধারণত, কোনও ভ্যাকসিনের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত প্রস্তুতকারকরা ভ্যাকসিন উৎপাদনকে বাড়িয়ে দেবার জন্য প্রয়োজনীয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিনিয়োগের ঝুঁকি নিতে নারাজ।

তবে বর্তমান মহামারীর প্রেক্ষিতে অনুমান করা হচ্ছে যে, এতে করে ভ্যাকসিন তৈরিতে বিলম্ব ঘটবে এবং লাইসেন্স দেওয়ার পরেও ভ্যাকসিন সংকট সৃষ্টি হতে পারে।

আরও তথ্যের জন্য কোভাক্স

 

আমার দেশে কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন কখন পাওয়া যাবে?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য সহ কয়েকটি দেশে ফাইজার / বায়োএনটেক এবং মোডার্না ভ্যাকসিন বিতরণ চলছে। আরও তথ্যের জন্য, অনুগ্রহ করে সিডিসি (যুক্তরাষ্ট্র), কানাডা সরকার এবং এনএইচএস (যুক্তরাজ্য) দেখুন।

বর্তমান কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারকদের কোনও একটি ক্লিনিকাল পরীক্ষা সফলভাবে পেরিয়ে গেলে, তা নিরাপদ এবং কার্যকর উভয়ই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে এবং আইনগত অনুমোদন পেলে, প্রাপ্য ডোজগুলো তাদের মোট জনসংখ্যার আকারের সমানুপাতিক, একটি মানসম্মত বরাদ্দ সূত্র ব্যবহার করে কোভাক্স কার্যক্রমে অংশ নেওয়া সকল দেশে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাপী ব্যাপক চাহিদার অর্থ দাঁড়াবে যে, সকলে একই সাথে ভ্যাকসিনটি পাবে না। সারা বিশ্বের প্রত্যেকের জন্য পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন ডোজ তৈরি করতে কয়েক মাস – এমনকি বছরও- লেগে যেতে পারে।

স্বাস্থ্য ও সামাজিক কার্যক্রমের উপর কোভিড-১৯ এর প্রভাব কমিয়ে আনতে সম্মুখভাগের স্বাস্থ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মীদের ভ্যাকসিন পাওয়ার প্রথম অগ্রাধিকার। কোভিড-১৯ আক্রান্তের ফলে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে অংশগ্রহণকারী দেশসমূহের এমন সব বয়স্ক এবং শারীরিকভাবে অসুস্থ লোকজনসহ উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠিকে পরবর্তী পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। ভ্যাকসিন দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি পর্যায়ে দেশে দেশে সংখ্যার ভিন্নতা থাকবে। আমরা স্ব স্ব দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ আপডেট এবং নির্দেশনা অনুসরণ করার সুপারিশ করি।

 

কারোনোভাইরাস ভ্যাকসিনে কার প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে? 

২০২১ সালের মধ্যে কোভাক্স পরিকল্পনার আওতায় ভ্যাকসিনের ২ বিলিয়ন ডোজ সরবরাহ করাই বর্তমান লক্ষ্য। স্বাস্থ্য এবং সমাজসেবা কর্মীদের পাশাপাশি বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে মারাত্মক রোগ বা মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে এমন লোকজনের সুরক্ষার জন্য এটি পর্যাপ্ত পরিমাণে হওয়া উচিত। এটি একটি বেশ বড় ধরনের অর্জন হবে। তবে, সম্ভবত প্রথম কয়েক বছর ধরে আরও ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে ডোজ সহজলভ্য হবে না। এর অর্থ শারীরিক দূরত্ব অনুশীলন, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং মাক্স পরা সহ আপনাকে, আপনার পরিবার এবং আপনার কমিউনিটিকে রক্ষা করতে অন্যান্য সতর্কতা অবলম্বন করা অব্যাহত রাখা জরুরি।

 

আমার সন্তানের কি কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পাওয়া উচিত?

কোভাক্স পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন দেশে পাঠানো ভ্যাকসিনের প্রাথমিক ডোজগুলো স্বাস্থ্যকর্মী, সমাজসেবা কর্মী এবং ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহার করা হবে। তবে, এই ভ্যাকসিন শিশুদের দেওয়ার সম্ভাবনা কম।

কোভিড-১৯ থেকে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা লোকজনের মৃত্যু কমাতে এবং প্রত্যেককে স্বাস্থ্যসেবা দেয় এমন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা রক্ষায় সহায়তা করতে এরূপ লোকজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কোভিড-১৯ সম্পর্কে আমরা আরও জানার সাথে সাথে এই নির্দেশিকা এবং প্রাপ্যতা হালনাগাদ করা হতে পারে। এই কারনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আপনার স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতো বিশ্বস্ত সূত্রগুলো থেকে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে, আপনার শিশু যে নিয়মিত শৈশবকালীন টিকা গ্রহণ করে চলেছে তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপদে কীভাবে এটি করা যায় সে সম্পর্কে পড়ুন

 

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত আমি কীভাবে আমার পরিবারকে রক্ষা করতে পারি?

সংক্রমণ এড়াতে আপনি এবং আপনার পরিবার নিতে পারেন এমন কিছু সতর্কতা সম্পর্কে এখানে বলা হয়েছে:

  • সাবান এবং পানি বা অ্যালকোহল ভিত্তিক রাব ব্যবহার করে আপনার হাত ঘন ঘন ধুয়ে নিন
  • নিজের এবং অন্যদের মধ্যে কমপক্ষে ১ মিটার দূরত্ব রজায় রাখুন
  • আপনার বা আপনার সন্তানের জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা কোভিড-১৯-এর অন্যান্য লক্ষণ থাকলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা সেবা নিন
  • জনাকীর্ণ স্থান, সীমিত বায়ু চলাচল করে এমন সংকীণ© ও আবদ্ধ স্থান এড়িয়ে চলুন এবং জনসমাগম স্থল থেকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করুন
  • কমিউনিটি সংক্রমণ রয়েছে এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয় এমন জনসমাগমস্থলে ফ্রেবিক্স মাক্স ব্যবহার করুন। সাবান এবং পানি দিয়ে ঘন ঘন মাক্স ধূঁয়ে ফেলুন।
  • বাড়ির সকল জায়গায় বায়ুচলাচল সচল রাখার ব্যবস্থা করুন।

>> করোনাভাইরাস রোগ (কোভিড-১৯) সম্পর্কে পড়ুন: মা-বাবার কী জানা উচিত


এই নিবন্ধটি মূলত ২৮ অক্টোবর ২০২০-এ ইউনিসেফ গ্লোবাল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি সর্বশেষ তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে ৮ জানুয়ারী ২০২১-এ  

সর্বশেষ তথ্য প্রতিফলিত করতে এই নিবন্ধটি নিয়মিতভাবে আপডেট করা হবে

[টিকা: এটি একটি ফাইল ফটো] ভারতে, পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাকসিনের অপূর্ণতা নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।