গর্ভাবস্থায় পুষ্টি

অপুষ্টির চক্র নির্মূলে উন্নত সেবা

মায়ের কোলে শিশু
UNICEF/UNI111371/Siddique

চ্যালেঞ্জ

নারীর অপুষ্টির ক্ষেত্রে ‘দ্বিগুণ বোঝা’ মোকাবেলা করছে বাংলাদেশ

গত দশকে নারীর স্বল্প ওজন সূচকের হার ৩৪ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। কিন্তু একই সময়ে অতিরিক্ত ওজনের নারীর হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে ৯ থেকে ২৪ শতাংশ হয়েছে।

এদিকে গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের মধ্যে পুষ্টিহীনতায় ভোগা নারীর সংখ্যা কমলেও অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা বৃদ্ধির কারণে নারীদের অপুষ্টির সার্বিক পরিস্থিতি একই রয়ে গেছে। তাই নারীর অপুষ্টির ক্ষেত্রে ‘দ্বিগুণ বোঝা’ মোকাবেলা করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে কিশোর-কিশোরীদের পুষ্টির বিষয়টি এখনও অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বাল্যবিয়ে এখানে অতি সাধারণ ঘটনা, যা কিশোরী মেয়েদের পরিপুষ্ট হওয়া ব্যাহত করে।

বাংলাদেশে ২৯ শতাংশের মতো মেয়ে অপুষ্টিতে ভোগে। এটা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বাংলাদেশে কিশোরী মেয়েদের সন্তান জন্মদানের হার বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়।

বাল্যবিয়ে ও গর্ভধারণ মা ও নবজাতক উভয়ের অসুস্থতা ও মৃত্যু ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এ রকম গর্ভধারণের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই কম ওজনের শিশুর জন্ম হয়, যেখান থেকে ওই শিশুর জীবনে পুষ্টিহীনতার চক্র শুরু হয়।

বৈশ্বিক পরিসংখ্যা অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের গর্ভাবস্থা বা সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যু ঝুঁকি ২০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের চেয়ে দ্বিগুণ। আর ১৫ বছরের কম বয়সী মেয়েদের গর্ভাবস্থা বা শিশু জন্মদানের সময় মৃত্যু ঝুঁকি পাঁচগুণ বেশি।

বাংলাদেশে কিশোরী মেয়েদের শরীরে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানেরও ঘাটতি থাকে। এখানে গড়ে অর্ধেক নারী রক্ত স্বল্পতায় ভোগে। রক্তে অক্সিজেন পরিবহনকারী শ্বেত কণিকা কমে যায় এই সময়।

বডি ম্যাস ইনডেক্স বা বিএমআই হলো শরীরের উচ্চতা ও ওজনের আনুপাতিক হার। বিএমআই ১৮.৫ এর নিচে হলে পুষ্টিহীনতা আর ২৫ অতিক্রম করলে হয় স্থুলতার লক্ষণ। 

১৫-১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ মেয়ে পুষ্টিহীনতায় ভোগে

১৫-১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ২৪ শতাংশ মেয়ে পুষ্টিহীনতায় ভোগে

ঠাকুরগাঁও জেলা হাসপাতালে নবজাতক

প্রায় ৩৮ শতাংশ শিশু কম ওজন নিয়ে জন্মগ্রহণ করে 

 

 

এখন ২১ থেকে ২৪ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে ৫২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই

এখন ২১ থেকে ২৪ বছর বয়সী মেয়েদের মধ্যে ৫২ শতাংশের বিয়ে হয়েছে বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই

সমাধান

গর্ভধারিণী মায়েদের পুষ্টি সংক্রান্ত পরামর্শ প্রদানে সহযোগিতা করে ইউনিসেফ

সরকারের অ্যাডোলেসেন্ট রিপ্রোডাক্টিভ হেলথ স্ট্র্যাটেজি এবং হেলথ পপুলেশন নিউট্রিশান সেক্টর প্রোগ্রামের আওতায় কিশোর-কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্।

গর্ভধারিণী কিশোরীদের অবস্থার উন্নয়ন, উন্নতমানের সেবার ব্যবস্থা এবং পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে সহযোগিতা করছে ইউনিসেফ।

কিশোরী মায়েদের জন্য পুষ্টি সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং এ বিষয়ে তাদের সচেতন করতে কাজ করা হয়।

সরকারের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাউন্সেলিং এবং গর্ভধারিণীর চাহিদা অনুযায়ী সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণের আয়োজন করে ইউনিসেফ।

মূল্যায়ন, বিশ্লেষণ ও বিদ্যমান ব্যবস্থা অনুযায়ী কাজের দক্ষতা তৈরিতে তাদের সহায়তা করা হয়।

ইউনিসেফ থেকে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীরা মা ও কিশোরীদের কাছে পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে লাইফ-সাইকল অ্যাপ্রোচ তুলে ধরেন। কিশোরী, বয়স্ক, গর্ভবতী এবং স্তনদানকারী মেয়েদের কাছে এর প্রভাব সম্পর্কেও বিস্তারিত বলতে পারেন।

মায়েদের পুষ্টিমানের উন্নয়নে গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের খাবার গ্রহণ এবং খাদ্য তালিকায় বৈচিত্র্য আনার বিষয়ে জোর দেওয়ার পাশাপাশি ইউনিসেফ গর্ভাবস্থায় ওজন বৃদ্ধির বিষয়টিতে নজর রাখতে সহযোগিতা করে।

কয়েকটি বিষয়কে প্রাধ্যান্য দিয়ে ইউনিসেফ গর্ভধারিণী এবং স্তনদানকারী মায়েদের পুষ্টির অবস্থা উন্নত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।এগুলো হল- শিক্ষার সুযোগ, রিসোর্স মোবিলাইজেশন, আর্থ-সামাজিক অবস্থা, বিয়ের বয়স, স্ন্তান জন্মদানের প্রথম বয়স এবং সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ।

এই বিষয়ে আরও জানতে

বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক অ্যান্ড হেলথ সার্ভে ২০১৪; ন্যাশনাল ই্নস্টিটিউট অব পপুলেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেইনিং, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর এডলেসেন্ট হেল্থ ২০১৭-২০৩০; পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

অপারেশনাল প্ল্যান ফর “ন্যাশনাল নিউট্রিশ সার্ভিসেস” -  জুলাই ২০১১ – জুন ২০১৬; হেল্থ পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টর ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম (এইচপিএনএসপি), স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়

হেল্থ পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন সেক্টর ডেভলপমেন্ট প্রোগ্রাম (৪র্থ এইচপিএনএসপি); স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়